ঢাকা ০৬:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

নির্বাচনী পরাজয় মেনে নিতে মমতার অনীহা: ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণ

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে শোচনীয় পরাজয়ের পর তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি এই ঘটনাকে নির্বাচনের কারচুপির বিরুদ্ধে তার প্রতিবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হোক, কিন্তু এই কারচুপির ঘটনা যেন ইতিহাসে লিপিবদ্ধ থাকে। ভারতের একজন বিশিষ্ট রম্য লেখক ও কলামিস্ট কমলেশ সিং, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অবস্থানকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২০ সালের নির্বাচনের পরাজয় মেনে নিতে অনীহার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি তার কলামের শিরোনাম দিয়েছেন ‘মমতা ডোনাল্ড ব্যানার্জি’।

কমলেশ সিং তার কলামে লিখেছেন যে মানুষের আত্মপ্রতারণার ক্ষমতা অসীম। ২০২০ সালের নভেম্বরে ডোনাল্ড ট্রাম্প যে পথ বেছে নিয়েছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন তারই পুনরাবৃত্তি করেছেন। যদিও দুই নেতার ভৌগোলিক অবস্থান ভিন্ন, তাদের আচরণের মধ্যে গভীর মিল লক্ষ্য করা যায়। ২০২০ সালের ৩ নভেম্বর নির্বাচনের ফলাফল যখন ট্রাম্পের বিপক্ষে যাচ্ছিল, তখন তিনি তা মেনে না নিয়ে নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। পরবর্তী ৬৩ দিন ধরে তিনি একটি ‘ষড়যন্ত্রের জাল’ বুনতে থাকেন, যেখানে তিনি নিজেকে বঞ্চিত সম্রাট এবং কোটি কোটি ভোটারকে প্রতারক হিসেবে উপস্থাপন করেন। আদালতে একের পর এক মামলা হারলেও তিনি জনসভা চালিয়ে যান এবং এমনকি জর্জিয়ার নির্বাচনি কর্মকর্তাকে ফোন করে নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোট ‘খুঁজে বের করার’ অনুরোধও করেছিলেন। এর চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলা, যেখানে ট্রাম্পের ‘নরকের মতো লড়াই’ করার আহ্বানে সাড়া দিয়ে তার সমর্থকরা মার্কিন গণতন্ত্রের প্রতীক সেই ভবনে তাণ্ডব চালায়।

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে অদ্ভুত সাদৃশ্য দেখা যায়। ২০২৬ সালের ৪ মে পশ্চিমবঙ্গে, ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৬টিতে জিতে বিজেপি প্রথমবার ক্ষমতায় আসে। ২০১১ সাল থেকে দাপট দেখানো তৃণমূল কংগ্রেস প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও নিজের আসনে হেরে যান। কিন্তু ট্রাম্পের মতো তিনিও পরাজয় মেনে নিতে নারাজ। তার দাবি, নির্বাচন ‘চুরি’ করা হয়েছে। মমতা অভিযোগ করেছেন যে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় ১০০টিরও বেশি আসন ‘জোর করে ছিনিয়ে নেওয়া’ হয়েছে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ নজিরবিহীন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যারাকে ফিরছে সেনাবাহিনী: জুনের মধ্যে মাঠপর্যায় থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত

নির্বাচনী পরাজয় মেনে নিতে মমতার অনীহা: ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণ

আপডেট সময় : ০৫:৫০:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে শোচনীয় পরাজয়ের পর তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি এই ঘটনাকে নির্বাচনের কারচুপির বিরুদ্ধে তার প্রতিবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হোক, কিন্তু এই কারচুপির ঘটনা যেন ইতিহাসে লিপিবদ্ধ থাকে। ভারতের একজন বিশিষ্ট রম্য লেখক ও কলামিস্ট কমলেশ সিং, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অবস্থানকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২০ সালের নির্বাচনের পরাজয় মেনে নিতে অনীহার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি তার কলামের শিরোনাম দিয়েছেন ‘মমতা ডোনাল্ড ব্যানার্জি’।

কমলেশ সিং তার কলামে লিখেছেন যে মানুষের আত্মপ্রতারণার ক্ষমতা অসীম। ২০২০ সালের নভেম্বরে ডোনাল্ড ট্রাম্প যে পথ বেছে নিয়েছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন তারই পুনরাবৃত্তি করেছেন। যদিও দুই নেতার ভৌগোলিক অবস্থান ভিন্ন, তাদের আচরণের মধ্যে গভীর মিল লক্ষ্য করা যায়। ২০২০ সালের ৩ নভেম্বর নির্বাচনের ফলাফল যখন ট্রাম্পের বিপক্ষে যাচ্ছিল, তখন তিনি তা মেনে না নিয়ে নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। পরবর্তী ৬৩ দিন ধরে তিনি একটি ‘ষড়যন্ত্রের জাল’ বুনতে থাকেন, যেখানে তিনি নিজেকে বঞ্চিত সম্রাট এবং কোটি কোটি ভোটারকে প্রতারক হিসেবে উপস্থাপন করেন। আদালতে একের পর এক মামলা হারলেও তিনি জনসভা চালিয়ে যান এবং এমনকি জর্জিয়ার নির্বাচনি কর্মকর্তাকে ফোন করে নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোট ‘খুঁজে বের করার’ অনুরোধও করেছিলেন। এর চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলা, যেখানে ট্রাম্পের ‘নরকের মতো লড়াই’ করার আহ্বানে সাড়া দিয়ে তার সমর্থকরা মার্কিন গণতন্ত্রের প্রতীক সেই ভবনে তাণ্ডব চালায়।

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে অদ্ভুত সাদৃশ্য দেখা যায়। ২০২৬ সালের ৪ মে পশ্চিমবঙ্গে, ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৬টিতে জিতে বিজেপি প্রথমবার ক্ষমতায় আসে। ২০১১ সাল থেকে দাপট দেখানো তৃণমূল কংগ্রেস প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও নিজের আসনে হেরে যান। কিন্তু ট্রাম্পের মতো তিনিও পরাজয় মেনে নিতে নারাজ। তার দাবি, নির্বাচন ‘চুরি’ করা হয়েছে। মমতা অভিযোগ করেছেন যে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় ১০০টিরও বেশি আসন ‘জোর করে ছিনিয়ে নেওয়া’ হয়েছে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ নজিরবিহীন।