ঢাকা ১০:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের জন্য আবাসন প্রকল্প: বৈষম্যের অভিযোগ বনাম সাংবিধানিক অধিকার

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে ‘এপিক সিটি’ নামে একটি মুসলিম আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। হান্ট এবং কলিন কাউন্টিতে ৪০২ একর জমির উপর এই আবাসন প্রকল্পটি নির্মিত হলে এখানে এক হাজারের বেশি প্লট, একটি ধর্মভিত্তিক কে-১২ স্কুল, বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং একটি মসজিদ থাকবে। এটি কোনো স্বতন্ত্র শহর বা সরকারের অধীনে থাকবে না, বরং টেক্সাস রাজ্যের প্রচলিত আইন মেনেই পরিচালিত হবে। প্রকল্পটির উদ্যোক্তারা এটিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামের কেন্দ্রবিন্দু’ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন।

তবে, এই প্রকল্পের ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগের ফেয়ার হাউজিং অ্যান্ড ইকুয়াল অপরচুনিটি অফিস প্রকল্পের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আর্থিক শর্তাবলী ব্যবহারের অভিযোগ এনে তদন্ত শুরু করেছে, যা ফেয়ার হাউজিং অ্যাক্ট লঙ্ঘন করতে পারে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এবং অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন এটিকে শরিয়া আইন প্রয়োগের সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রকল্পটির বিরোধিতা করেছেন এবং একাধিক মামলা দায়ের করেছেন।

সম্প্রতি, ট্র্যাভিস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট জজ অ্যামি ক্লার্ক মিচাম রায় দিয়েছেন যে, টেক্সাস ওয়ার্কফোর্স কমিশনকে একটি মীমাংসা চুক্তি মেনে চলতে হবে এবং এপিক সিটির ন্যায্য আবাসন সংক্রান্ত তদন্ত থেকে সরে আসতে হবে। যদিও এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গভর্নর। অন্যদিকে, কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (সিএআইআর-টেক্সাস) টেক্সাস শাখা এই প্রকল্পকে সমর্থন জানিয়ে বলেছে যে, ইসলাম বিদ্বেষ থেকেই এর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে এবং এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি বলে অভিহিত করেছে। সিএআইআর-টেক্সাসের মতে, টেক্সাসের নেতারা মুসলিমদের অন্তর্ভুক্তিমূলক, পরিবারকেন্দ্রিক কমিউনিটি গড়ে তোলার সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার ধর্মান্ধ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লায় ব্রাজিলের জয় উদ্‌যাপনে বিশৃঙ্খলা, বাধা দেওয়ায় পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাত

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের জন্য আবাসন প্রকল্প: বৈষম্যের অভিযোগ বনাম সাংবিধানিক অধিকার

আপডেট সময় : ০৬:০৭:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে ‘এপিক সিটি’ নামে একটি মুসলিম আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। হান্ট এবং কলিন কাউন্টিতে ৪০২ একর জমির উপর এই আবাসন প্রকল্পটি নির্মিত হলে এখানে এক হাজারের বেশি প্লট, একটি ধর্মভিত্তিক কে-১২ স্কুল, বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং একটি মসজিদ থাকবে। এটি কোনো স্বতন্ত্র শহর বা সরকারের অধীনে থাকবে না, বরং টেক্সাস রাজ্যের প্রচলিত আইন মেনেই পরিচালিত হবে। প্রকল্পটির উদ্যোক্তারা এটিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামের কেন্দ্রবিন্দু’ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন।

তবে, এই প্রকল্পের ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগের ফেয়ার হাউজিং অ্যান্ড ইকুয়াল অপরচুনিটি অফিস প্রকল্পের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আর্থিক শর্তাবলী ব্যবহারের অভিযোগ এনে তদন্ত শুরু করেছে, যা ফেয়ার হাউজিং অ্যাক্ট লঙ্ঘন করতে পারে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এবং অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন এটিকে শরিয়া আইন প্রয়োগের সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রকল্পটির বিরোধিতা করেছেন এবং একাধিক মামলা দায়ের করেছেন।

সম্প্রতি, ট্র্যাভিস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট জজ অ্যামি ক্লার্ক মিচাম রায় দিয়েছেন যে, টেক্সাস ওয়ার্কফোর্স কমিশনকে একটি মীমাংসা চুক্তি মেনে চলতে হবে এবং এপিক সিটির ন্যায্য আবাসন সংক্রান্ত তদন্ত থেকে সরে আসতে হবে। যদিও এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গভর্নর। অন্যদিকে, কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (সিএআইআর-টেক্সাস) টেক্সাস শাখা এই প্রকল্পকে সমর্থন জানিয়ে বলেছে যে, ইসলাম বিদ্বেষ থেকেই এর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে এবং এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি বলে অভিহিত করেছে। সিএআইআর-টেক্সাসের মতে, টেক্সাসের নেতারা মুসলিমদের অন্তর্ভুক্তিমূলক, পরিবারকেন্দ্রিক কমিউনিটি গড়ে তোলার সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার ধর্মান্ধ চেষ্টা চালাচ্ছেন।