সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে একটি ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে প্রায় ৮০ বিঘা জমির বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেছে, যার ফলে অন্তত ৩০ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে অবিলম্বে ইটভাটা বন্ধ ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে গতকাল তেলিজানা গ্রামে বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিলচন্ডি এলাকায় অবস্থিত ‘তানজিলা’ ইটভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও গ্যাস আশপাশের ফসলি জমিতে ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাবে ধানগাছ ঝলসে গেছে এবং ধানের শীষ কালচে হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ইটভাটার পাশের জমিগুলোর ধানগাছ শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে পড়েছে এবং অনেক জমির ধানের শীষ নষ্ট হয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, হঠাৎ করেই এই বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এর জন্য ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাস ও ধোঁয়াকেই দায়ী করছেন তারা। কৃষক আব্দুল মালেক ও আব্দুল আলীম জানান, তাদের প্রায় ৯ বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এক রাতের ব্যবধানে আমার জমির ধান শেষ হয়ে গেছে। পরিবার চালানো ও ঋণ পরিশোধ নিয়ে আমি এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছি।’ কৃষক গোকুল নন্দী বলেন, ‘আমার একমাত্র আয়ের উৎস এই জমি। ধান নষ্ট হওয়ায় আমি চরম বিপাকে পড়েছি।’ গতকাল এলাকার শতাধিক কৃষক বিক্ষোভ করে তানজিলা ইটভাটা বন্ধ ও ভুক্তভোগী কৃষকদের ক্ষতিপূরণের জোর দাবি জানান।
এ বিষয়ে ইটভাটা মালিক ফারুক হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার ভাটার কারণে কোনো ক্ষতি হয়নি বলে দাবি করেন এবং এটি অন্য কোনো কারণে হতে পারে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ বা প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়েও অবজ্ঞাসূচক মন্তব্য করেন।
রায়গঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ধানক্ষেত নষ্ট হওয়ার অভিযোগ তারা পেয়েছেন এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যথাযথ নিয়ম মেনে না চলে ইটভাটা পরিচালনা করলে তা কৃষিজমি এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। তাই দ্রুত তদারকি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
রিপোর্টারের নাম 






















