দেশের দুর্নীতি প্রতিরোধের সর্বোচ্চ সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বর্তমানে এক নজিরবিহীন অচলাবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত ৩ মার্চ সংস্থার চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং দুই কমিশনারের পদত্যাগের পর প্রায় দুই মাস পার হতে চললেও এখন পর্যন্ত নতুন কমিশন গঠন করা হয়নি। ফলে সংস্থাটি বর্তমানে সম্পূর্ণ অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে দুদকে নতুন কোনো মামলা করা কিংবা কোনো অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করা সম্ভব হয়নি। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ অনেক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) এবং মামলার সুপারিশ জমা হয়ে থাকলেও কমিশনের অনুমোদন না থাকায় সেগুলো ঝুলে আছে। এর ফলে একদিকে যেমন দুর্নীতিবাজরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে, অন্যদিকে সংস্থার কর্মকর্তাদের মধ্যেও এক ধরনের স্থবিরতা কাজ করছে।
দুদকের অভ্যন্তরীণ সূত্রমতে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘ফাঁদ মামলা’ এবং ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘এনফোর্সমেন্ট’ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে পাসপোর্ট অফিস, হাসপাতাল এবং অন্যান্য নাগরিক সেবাকেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত যে তদারকি অভিযান চলত, তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কয়েকগুণ বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কমিশন না থাকায় সম্পত্তি ক্রোক কিংবা বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার মতো জরুরি সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া যাচ্ছে না। অন্তর্বর্তী সরকার ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে সদস্য সংখ্যা ৩ থেকে ৫ করার বিধান করলেও বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার তা সংসদে অনুমোদন করেনি। ফলে নতুন কমিশন গঠনের আইনি প্রক্রিয়াটি এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই অচলাবস্থাকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন এবং দ্রুত আইনি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে নতুন কমিশনের নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। চেয়ারম্যান হিসেবে ঢাকা মহানগর আদালতের সাবেক সিনিয়র স্পেশাল জজ মোতাহার হোসেনের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসছে। এছাড়া আব্দুল্লাহ আল বাকী ও ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়ার নামও শোনা যাচ্ছে। তবে যতক্ষণ না সার্চ কমিটি গঠন করে নতুন কমিশন নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটি কার্যকরভাবে ‘অচল’ হয়েই থাকছে।
রিপোর্টারের নাম 






















