ঢাকা ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

রামগঞ্জে সুপেয় পানির তীব্র সংকট, নলকূপ অচল

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘস্থায়ী খরা ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ গভীর নলকূপ থেকেও পানি না ওঠায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরা পর্যন্ত চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। স্থানীয়রা জানান, যেসব ডিপ টিউবওয়েল থেকে আগে সহজেই পানি পাওয়া যেত, সেগুলো এখন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেকে বাধ্য হয়ে অগভীর নলকূপ স্থাপন করছেন অথবা দূর-দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করছেন।

সোনাপুর বাজারের মিষ্টির দোকানের মালিক সমীর রঞ্জন সাহা জানান, প্রতিদিন তাকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূর থেকে ড্রামে করে পানি আনতে হচ্ছে। পৌরসভার পানির প্লান্ট থেকে যে পরিমাণ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে, তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। টামটা গ্রামের বাসিন্দা আরিফ হোসেন বলেন, কয়েক মাস ধরে এলাকায় পানির তীব্র অভাব চলছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে বাজার থেকে বোতলজাত পানি কিনে পান করছেন। রান্নাবান্না ও অন্যান্য কাজের জন্য ব্যবহার করতে হচ্ছে পুকুরের পানি, যা স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়াচ্ছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও এই সংকট থেকে রেহাই পায়নি। লক্ষ্মীধর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বারাকাত আহমদ খান জানান, বিদ্যালয়ের মোটরে পানি না ওঠায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই চরম সমস্যায় পড়ছেন। রতনপুর গ্রামের গৃহিণী কোহিনুর বেগম অভিযোগ করেন, প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে নলকূপ চাপার পরও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে দৈনন্দিন কাজ, বিশেষ করে রান্নাবান্না সময়মতো শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না।

রামগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন জানান, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সংঘটিত একটি ভূমিকম্পের পর থেকে এই অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমে যায়। ফলে পানি উত্তোলনে সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে গেছে। তিনি আরও জানান, টামটা এলাকায় বিদ্যমান পানির প্লান্ট পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করতে পারছে না, তবে কাজীরখিল এলাকায় নতুন একটি পানির প্লান্ট চালু করার কাজ চলছে, যা চালু হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী আশিকুর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি দ্রুত উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই-তে আপনার গোপন জিজ্ঞাসা কতটা নিরাপদ?

রামগঞ্জে সুপেয় পানির তীব্র সংকট, নলকূপ অচল

আপডেট সময় : ০৫:৪২:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘস্থায়ী খরা ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ গভীর নলকূপ থেকেও পানি না ওঠায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরা পর্যন্ত চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। স্থানীয়রা জানান, যেসব ডিপ টিউবওয়েল থেকে আগে সহজেই পানি পাওয়া যেত, সেগুলো এখন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেকে বাধ্য হয়ে অগভীর নলকূপ স্থাপন করছেন অথবা দূর-দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করছেন।

সোনাপুর বাজারের মিষ্টির দোকানের মালিক সমীর রঞ্জন সাহা জানান, প্রতিদিন তাকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূর থেকে ড্রামে করে পানি আনতে হচ্ছে। পৌরসভার পানির প্লান্ট থেকে যে পরিমাণ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে, তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। টামটা গ্রামের বাসিন্দা আরিফ হোসেন বলেন, কয়েক মাস ধরে এলাকায় পানির তীব্র অভাব চলছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে বাজার থেকে বোতলজাত পানি কিনে পান করছেন। রান্নাবান্না ও অন্যান্য কাজের জন্য ব্যবহার করতে হচ্ছে পুকুরের পানি, যা স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়াচ্ছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও এই সংকট থেকে রেহাই পায়নি। লক্ষ্মীধর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বারাকাত আহমদ খান জানান, বিদ্যালয়ের মোটরে পানি না ওঠায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই চরম সমস্যায় পড়ছেন। রতনপুর গ্রামের গৃহিণী কোহিনুর বেগম অভিযোগ করেন, প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে নলকূপ চাপার পরও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে দৈনন্দিন কাজ, বিশেষ করে রান্নাবান্না সময়মতো শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না।

রামগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন জানান, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সংঘটিত একটি ভূমিকম্পের পর থেকে এই অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমে যায়। ফলে পানি উত্তোলনে সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে গেছে। তিনি আরও জানান, টামটা এলাকায় বিদ্যমান পানির প্লান্ট পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করতে পারছে না, তবে কাজীরখিল এলাকায় নতুন একটি পানির প্লান্ট চালু করার কাজ চলছে, যা চালু হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী আশিকুর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি দ্রুত উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।