ঢাকা ০৫:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে ন্যাশনাল সায়েন্স বোর্ডের সব সদস্যকে বরখাস্ত করল ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি বিজ্ঞান সংস্থার নীতিনির্ধারণী ন্যাশনাল সায়েন্স বোর্ডের (এনএসবি) সকল সদস্যকে (২২ জন) একযোগে বরখাস্ত করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বোর্ডের এক সাবেক সদস্য এবং একজন আইনপ্রণেতা।

ন্যাশনাল সায়েন্স বোর্ড যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের (এনএসএফ) নীতি নির্ধারণ ও পরামর্শক হিসেবে কাজ করে। সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপকে ট্রাম্প প্রশাসনের ফেডারেল সরকার পুনর্গঠনের ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে শিক্ষা বিভাগ ও ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টসহ (ইউএসএআইডি) একাধিক সংস্থায় বড় ধরনের সাংগঠনিক পরিবর্তন ও বাজেট সংকোচন করা হয়েছে।

বোর্ডের সাবেক সদস্য এবং সেন্ট লুইসের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত জীববিজ্ঞান অধ্যাপক ড. বিচি জানান, বরখাস্তের ইমেইলটি ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত এবং তাতে কেবল ‘আপনার সেবার জন্য ধন্যবাদ’ জানানো হয়েছে। তিনি ধারণা করছেন, প্রশাসন হয়তো নতুন বোর্ড নিয়োগ দেবে। তবে ভবিষ্যতে গবেষণা ও শিক্ষা কার্যক্রমের ধরণ কেমন হবে তা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, বোর্ডটি দলীয় হবে নাকি স্বাধীন থাকবে এবং সংস্থার সঙ্গে কীভাবে কাজ করবে, তা এনএসএফের সাফল্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে, ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। প্রতিনিধি পরিষদের বিজ্ঞান কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য জো লফগ্রেন এক বিবৃতিতে বলেন, এটি এমন এক প্রেসিডেন্টের আরেকটি অবিবেচনাপ্রসূত পদক্ষেপ, যিনি বিজ্ঞান ও আমেরিকার উদ্ভাবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নতুন বোর্ডে ট্রাম্পপন্থি ব্যক্তিদের বসানো হতে পারে, যারা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন না এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের বৈজ্ঞানিক নেতৃত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস ও এনএসএফ তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। যদিও ট্রাম্প নিজেও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি, এর আগে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সির (ডিওজিই)’ মাধ্যমে এনএসএফ-এ বড় ধরনের বাজেট কাটছাঁট করা হয়। গত বছরের ব্যয় সংকোচন কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের ১ হাজার ৬০০-এর বেশি গবেষণা অনুদান বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছিল।

১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত এনএসএফ ২০২৫ সালে বিজ্ঞান গবেষণা ও শিক্ষায় ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে, যা এটিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গবেষণা অর্থায়নকারী সংস্থায় পরিণত করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন: মতলব উত্তরে মোমবাতির আলোয় এসএসসি পরীক্ষা

যুক্তরাষ্ট্রে ন্যাশনাল সায়েন্স বোর্ডের সব সদস্যকে বরখাস্ত করল ট্রাম্প প্রশাসন

আপডেট সময় : ০৩:১৮:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি বিজ্ঞান সংস্থার নীতিনির্ধারণী ন্যাশনাল সায়েন্স বোর্ডের (এনএসবি) সকল সদস্যকে (২২ জন) একযোগে বরখাস্ত করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বোর্ডের এক সাবেক সদস্য এবং একজন আইনপ্রণেতা।

ন্যাশনাল সায়েন্স বোর্ড যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের (এনএসএফ) নীতি নির্ধারণ ও পরামর্শক হিসেবে কাজ করে। সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপকে ট্রাম্প প্রশাসনের ফেডারেল সরকার পুনর্গঠনের ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে শিক্ষা বিভাগ ও ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টসহ (ইউএসএআইডি) একাধিক সংস্থায় বড় ধরনের সাংগঠনিক পরিবর্তন ও বাজেট সংকোচন করা হয়েছে।

বোর্ডের সাবেক সদস্য এবং সেন্ট লুইসের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত জীববিজ্ঞান অধ্যাপক ড. বিচি জানান, বরখাস্তের ইমেইলটি ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত এবং তাতে কেবল ‘আপনার সেবার জন্য ধন্যবাদ’ জানানো হয়েছে। তিনি ধারণা করছেন, প্রশাসন হয়তো নতুন বোর্ড নিয়োগ দেবে। তবে ভবিষ্যতে গবেষণা ও শিক্ষা কার্যক্রমের ধরণ কেমন হবে তা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, বোর্ডটি দলীয় হবে নাকি স্বাধীন থাকবে এবং সংস্থার সঙ্গে কীভাবে কাজ করবে, তা এনএসএফের সাফল্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে, ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। প্রতিনিধি পরিষদের বিজ্ঞান কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য জো লফগ্রেন এক বিবৃতিতে বলেন, এটি এমন এক প্রেসিডেন্টের আরেকটি অবিবেচনাপ্রসূত পদক্ষেপ, যিনি বিজ্ঞান ও আমেরিকার উদ্ভাবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নতুন বোর্ডে ট্রাম্পপন্থি ব্যক্তিদের বসানো হতে পারে, যারা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন না এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের বৈজ্ঞানিক নেতৃত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস ও এনএসএফ তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। যদিও ট্রাম্প নিজেও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি, এর আগে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সির (ডিওজিই)’ মাধ্যমে এনএসএফ-এ বড় ধরনের বাজেট কাটছাঁট করা হয়। গত বছরের ব্যয় সংকোচন কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের ১ হাজার ৬০০-এর বেশি গবেষণা অনুদান বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছিল।

১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত এনএসএফ ২০২৫ সালে বিজ্ঞান গবেষণা ও শিক্ষায় ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে, যা এটিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গবেষণা অর্থায়নকারী সংস্থায় পরিণত করেছে।