জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ২ থেকে ৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে, তাও আবার ৫ মিনিট থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন থাকছে। এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে জনজীবনে চরম ভোগান্তি নেমে এসেছে।
বকশীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, বকশীগঞ্জ সাব-স্টেশনের আওতায় ৯৮ হাজার গ্রাহক রয়েছে। বিদ্যুতের চাহিদা যেখানে প্রায় ২৪ মেগাওয়াট, সেখানে বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭ থেকে ৮ মেগাওয়াট। এই ঘাটতি পূরণের জন্য ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা করতে হচ্ছে অনেককে। এছাড়া, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের আয়-রোজগার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যুতের অভাবে দোকানপাট, ওয়ার্কশপ ও অন্যান্য ছোট ব্যবসা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ না দিতে পারায় রাস্তায় অটোরিকশার সংখ্যাও কমে গেছে, যার ফলে যাত্রীদের দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা দ্রুত এই সংকট নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না হলে কৃষি উৎপাদন, শিক্ষাব্যবস্থা এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে। বকশীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আকবর হোসেন মিয়া জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং এটি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে।
রিপোর্টারের নাম 






















