ঢাকা ০৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

শারীরিক সুস্থতার জন্য কোন সময়ে ব্যায়াম সবচেয়ে কার্যকর?

সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য অনেকেই নিয়মিত ব্যায়াম করে থাকেন। কেউ হাঁটা বা দৌড়ানো, কেউ সাঁতার কাটা, আবার কেউ জিমে যাওয়া বেছে নেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেকোনো ব্যায়াম থেকে সর্বোচ্চ উপকার পেতে হলে তা শরীরের নিজস্ব জৈবিক ঘড়ি বা বডিক্লকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা সকালে ঘুম থেকে ওঠেন, অর্থাৎ ‘মর্নিং লার্ক’ তাদের জন্য সকালের ব্যায়াম বেশি উপকারী। অন্যদিকে, যারা রাতে জেগে থাকতে অভ্যস্ত, অর্থাৎ ‘নাইট আউল’ তাদের জন্য সন্ধ্যার দিকে ব্যায়াম করা ভালো।

ওপেন হার্ট জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যায়ামের সময় শরীরের জৈবিক ছন্দের সঙ্গে মিল রেখে চললে তা হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। বিশেষ করে যারা হৃদরোগের ঝুঁকিতে আছেন, তাদের জন্য এটি আরও বেশি উপকারী। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যারা এই নিয়ম মেনে চলেছেন, তাদের ঘুমের মান উন্নত হয়েছে, রক্তচাপ কমেছে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

এই গবেষণায় পাকিস্তানের ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী প্রায় ১৩৫ জন ব্যক্তি অংশ নেন, যারা খুব বেশি ফিট ছিলেন না এবং যাদের অন্তত একটি স্বাস্থ্যঝুঁকি ছিল, যেমন উচ্চ রক্তচাপ বা অতিরিক্ত ওজন। অংশগ্রহণকারীদের প্রতিদিন ৪০ মিনিট করে সপ্তাহে পাঁচদিন ট্রেডমিলে জোরে হাঁটার নির্দেশনা দেওয়া হয়, যা তারা টানা তিন মাস অনুসরণ করেন।

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৭০ জন ছিলেন ‘মর্নিং লার্ক’ এবং ৬৪ জন ‘নাইট আউল’। কেউ নিজের স্বাভাবিক জৈবিক সময় অনুযায়ী ব্যায়াম করেছেন, আবার কেউ করেছেন এর বিপরীত সময়ে। উভয় দলেই শারীরিক উন্নতি দেখা গেলেও, যারা নিজেদের ক্রোনোটাইপ (শরীরের অভ্যন্তরীণ সময়) অনুযায়ী ব্যায়াম করেছেন, তারা বেশি উপকার পেয়েছেন। বিশেষ করে তাদের উচ্চ রক্তচাপ, অ্যারোবিক সক্ষমতা, শরীরের নমনীয়তা, মেটাবলিক সূচক এবং ঘুমের মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করেন, মানুষের অভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়ি ঘুমের ধরণ, হরমোনের ভারসাম্য এবং দৈনন্দিন কর্মক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে। তাই এই ছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যায়াম করলে তার ইতিবাচক প্রভাব আরও বাড়ে। তারা আরও বলেন, সবার জন্য এক ধরনের সময়সূচি নির্ধারণ করা বাস্তবসম্মত নয়। শরীরের স্বাভাবিক সময়সূচি ও সামাজিক সময়সূচির মধ্যে অমিল থাকলে, যাকে ‘সোশ্যাল জেটল্যাগ’ বলা হয়, তা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে যারা রাতে বেশি সক্রিয়, তাদের জোর করে সকালে ব্যায়াম করানো উচিত নয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দৌলতদিয়া ঘাটে ২৫ কেজির পাঙাশ বিক্রি ৭১ হাজার টাকায়

শারীরিক সুস্থতার জন্য কোন সময়ে ব্যায়াম সবচেয়ে কার্যকর?

আপডেট সময় : ০২:১১:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য অনেকেই নিয়মিত ব্যায়াম করে থাকেন। কেউ হাঁটা বা দৌড়ানো, কেউ সাঁতার কাটা, আবার কেউ জিমে যাওয়া বেছে নেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেকোনো ব্যায়াম থেকে সর্বোচ্চ উপকার পেতে হলে তা শরীরের নিজস্ব জৈবিক ঘড়ি বা বডিক্লকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা সকালে ঘুম থেকে ওঠেন, অর্থাৎ ‘মর্নিং লার্ক’ তাদের জন্য সকালের ব্যায়াম বেশি উপকারী। অন্যদিকে, যারা রাতে জেগে থাকতে অভ্যস্ত, অর্থাৎ ‘নাইট আউল’ তাদের জন্য সন্ধ্যার দিকে ব্যায়াম করা ভালো।

ওপেন হার্ট জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যায়ামের সময় শরীরের জৈবিক ছন্দের সঙ্গে মিল রেখে চললে তা হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। বিশেষ করে যারা হৃদরোগের ঝুঁকিতে আছেন, তাদের জন্য এটি আরও বেশি উপকারী। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যারা এই নিয়ম মেনে চলেছেন, তাদের ঘুমের মান উন্নত হয়েছে, রক্তচাপ কমেছে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

এই গবেষণায় পাকিস্তানের ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী প্রায় ১৩৫ জন ব্যক্তি অংশ নেন, যারা খুব বেশি ফিট ছিলেন না এবং যাদের অন্তত একটি স্বাস্থ্যঝুঁকি ছিল, যেমন উচ্চ রক্তচাপ বা অতিরিক্ত ওজন। অংশগ্রহণকারীদের প্রতিদিন ৪০ মিনিট করে সপ্তাহে পাঁচদিন ট্রেডমিলে জোরে হাঁটার নির্দেশনা দেওয়া হয়, যা তারা টানা তিন মাস অনুসরণ করেন।

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৭০ জন ছিলেন ‘মর্নিং লার্ক’ এবং ৬৪ জন ‘নাইট আউল’। কেউ নিজের স্বাভাবিক জৈবিক সময় অনুযায়ী ব্যায়াম করেছেন, আবার কেউ করেছেন এর বিপরীত সময়ে। উভয় দলেই শারীরিক উন্নতি দেখা গেলেও, যারা নিজেদের ক্রোনোটাইপ (শরীরের অভ্যন্তরীণ সময়) অনুযায়ী ব্যায়াম করেছেন, তারা বেশি উপকার পেয়েছেন। বিশেষ করে তাদের উচ্চ রক্তচাপ, অ্যারোবিক সক্ষমতা, শরীরের নমনীয়তা, মেটাবলিক সূচক এবং ঘুমের মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করেন, মানুষের অভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়ি ঘুমের ধরণ, হরমোনের ভারসাম্য এবং দৈনন্দিন কর্মক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে। তাই এই ছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যায়াম করলে তার ইতিবাচক প্রভাব আরও বাড়ে। তারা আরও বলেন, সবার জন্য এক ধরনের সময়সূচি নির্ধারণ করা বাস্তবসম্মত নয়। শরীরের স্বাভাবিক সময়সূচি ও সামাজিক সময়সূচির মধ্যে অমিল থাকলে, যাকে ‘সোশ্যাল জেটল্যাগ’ বলা হয়, তা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে যারা রাতে বেশি সক্রিয়, তাদের জোর করে সকালে ব্যায়াম করানো উচিত নয়।