ঢাকা ০২:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

রামগঞ্জে পানীয় জলের তীব্র সংকট, গভীর নলকূপে উঠছে না পানি

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চলমান খরা এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ডিপ টিউবওয়েল থেকেও পানি উঠছে না। এর ফলে ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়রা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

রামগঞ্জ বাজারের হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রামগঞ্জ পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও প্রতিটি গ্রামে সুপেয় পানির অভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে। পানির স্তর ক্রমেই নিচে নামতে থাকায় অধিকাংশ গভীর নলকূপ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এই নলকূপগুলো থেকে পানি না ওঠায় বাসিন্দাদের বিকল্প উৎস খুঁজতে হচ্ছে এবং অগভীর নলকূপ স্থাপন করা হচ্ছে।

সোনাপুর বাজারের বি সাহা সুইটসের পরিচালক সমীর রঞ্জন সাহা জানিয়েছেন, বাধ্য হয়ে আধা কিলোমিটার দূরের নিজ বাড়ি থেকে সকাল বেলায় বড় বড় ড্রামে পানি আনতে হচ্ছে। রামগঞ্জ পৌরসভার স্থাপন করা পানির প্লান্ট থেকে যেটুকু পানি পাওয়া যায়, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

টামটা গ্রামের আরিফ হোসেন জানিয়েছেন, কয়েক মাস ধরে পানি নেই বললেই চলে। ফলে বাজার থেকে বোতলজাত পানি কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এছাড়া, রান্নাবান্নাসহ যাবতীয় কাজ পুকুরের পানিতে করতে হচ্ছে, যা আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

লক্ষ্মীধর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বারাকাত আহমদ খান জানিয়েছেন, গত কয়েক দিন যাবৎ বিদ্যালয়ের মোটরে পানি উঠছে না, ফলে তাদের অনেক সংকটে পড়তে হচ্ছে।

রতনপুর গ্রামের কোহিনুর বেগম অভিযোগ করে বলেছেন, প্রতিদিন নলকূপ চাপতে চাপতে হাত ব্যথা হয়ে যায়। পৌরসভা থেকে নিয়মিত পানি না পাওয়ার কারণে সঠিক সময়ে রান্নার কাজ শেষ করতে পারেন না তিনি।

রামগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দেশ জুড়ে যে ভূমিকম্প হয়, তার উৎপত্তিস্থল ছিল রামগঞ্জ উপজেলার সিরুন্দি গ্রামে। এই ভূমিকম্পের কারণে রামগঞ্জ উপজেলার বেশিরভাগ এলাকার পানির স্তর নিচে নেমে যায়, যার ফলে সুপেয় পানির সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, টামটা এলাকায় তাদের যে পানির প্লান্ট রয়েছে, তার মাধ্যমে আগে প্রায় ৭ লাখ লিটার পানি তুলতে সময় লাগত তিন ঘণ্টা, কিন্তু এখন পাঁচ ঘণ্টাতেও তা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে, পানির চাহিদা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। আগামী দু-তিন দিন পর কাজীরখিল এলাকায় তাদের আরও একটি পানির প্লান্ট চালু করা হলে কিছুটা দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে নবীনগরে মোমবাতির আলোয় এসএসসি পরীক্ষা

রামগঞ্জে পানীয় জলের তীব্র সংকট, গভীর নলকূপে উঠছে না পানি

আপডেট সময় : ১২:৪৯:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চলমান খরা এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ডিপ টিউবওয়েল থেকেও পানি উঠছে না। এর ফলে ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়রা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

রামগঞ্জ বাজারের হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রামগঞ্জ পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও প্রতিটি গ্রামে সুপেয় পানির অভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে। পানির স্তর ক্রমেই নিচে নামতে থাকায় অধিকাংশ গভীর নলকূপ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এই নলকূপগুলো থেকে পানি না ওঠায় বাসিন্দাদের বিকল্প উৎস খুঁজতে হচ্ছে এবং অগভীর নলকূপ স্থাপন করা হচ্ছে।

সোনাপুর বাজারের বি সাহা সুইটসের পরিচালক সমীর রঞ্জন সাহা জানিয়েছেন, বাধ্য হয়ে আধা কিলোমিটার দূরের নিজ বাড়ি থেকে সকাল বেলায় বড় বড় ড্রামে পানি আনতে হচ্ছে। রামগঞ্জ পৌরসভার স্থাপন করা পানির প্লান্ট থেকে যেটুকু পানি পাওয়া যায়, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

টামটা গ্রামের আরিফ হোসেন জানিয়েছেন, কয়েক মাস ধরে পানি নেই বললেই চলে। ফলে বাজার থেকে বোতলজাত পানি কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এছাড়া, রান্নাবান্নাসহ যাবতীয় কাজ পুকুরের পানিতে করতে হচ্ছে, যা আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

লক্ষ্মীধর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বারাকাত আহমদ খান জানিয়েছেন, গত কয়েক দিন যাবৎ বিদ্যালয়ের মোটরে পানি উঠছে না, ফলে তাদের অনেক সংকটে পড়তে হচ্ছে।

রতনপুর গ্রামের কোহিনুর বেগম অভিযোগ করে বলেছেন, প্রতিদিন নলকূপ চাপতে চাপতে হাত ব্যথা হয়ে যায়। পৌরসভা থেকে নিয়মিত পানি না পাওয়ার কারণে সঠিক সময়ে রান্নার কাজ শেষ করতে পারেন না তিনি।

রামগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দেশ জুড়ে যে ভূমিকম্প হয়, তার উৎপত্তিস্থল ছিল রামগঞ্জ উপজেলার সিরুন্দি গ্রামে। এই ভূমিকম্পের কারণে রামগঞ্জ উপজেলার বেশিরভাগ এলাকার পানির স্তর নিচে নেমে যায়, যার ফলে সুপেয় পানির সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, টামটা এলাকায় তাদের যে পানির প্লান্ট রয়েছে, তার মাধ্যমে আগে প্রায় ৭ লাখ লিটার পানি তুলতে সময় লাগত তিন ঘণ্টা, কিন্তু এখন পাঁচ ঘণ্টাতেও তা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে, পানির চাহিদা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। আগামী দু-তিন দিন পর কাজীরখিল এলাকায় তাদের আরও একটি পানির প্লান্ট চালু করা হলে কিছুটা দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।