ঢাকা ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইসলামাবাদে বোমা হামলার পরও সফর চালিয়ে যেতে নির্দেশ শ্রীলঙ্কার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৩:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

মঙ্গলবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আত্মঘাতী বোমা হামলার পর নিরাপত্তা শঙ্কায় সেখান থেকে শ্রীলঙ্কার কয়েকজন খেলোয়াড় ও স্টাফ না খেলেই দেশে ফেরার অনুরোধ করেছিলেন। যা নিয়ে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছিল। বুধবার রাতভর সফরের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় বসেন ক্রিকেটাররা। তাদের সঙ্গে ছিলেন টিম ম্যানেজমেন্ট, শ্রীলঙ্কার বোর্ড কর্মকর্তারা ও পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষও। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ বৈঠক ও চলমান অনিশ্চয়তার কারণে সফরের বাকি দুটি ওয়ানডে একদিন করে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভি জানিয়েছেন, ম্যাচ দুটি এখন অনুষ্ঠিত হবে ১৪ ও ১৬ নভেম্বর—আগে নির্ধারিত ছিল ১৩ ও ১৫ নভেম্বর। পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লঙ্কান ক্রিকেটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, ‘পাকিস্তান সফর চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য শ্রীলঙ্কা দলকে ধন্যবাদ জানাই।’

যে শহরে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই শহরে অবস্থান করছেন লঙ্কান ক্রিকেটাররা। এমন অবস্থায় শ্রীলঙ্কার বেশ কয়েকজন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখালেও এসএলসি জানায়, বোর্ড খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পদক্ষেপ নিয়েছে এবং তাদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী খেলতে নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি বোর্ড আরও জানিয়ে দিয়েছে, সিরিজ না খেলে নির্দেশ অমান্য করলে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে তাদের।

বোর্ডের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এসএলসির নির্দেশনা উপেক্ষা করে যদি কোনও খেলোয়াড় বা সাপোর্ট স্টাফ দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তাদের আচরণ মূল্যায়নে একটি আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা করা হবে এবং সেই পর্যালোচনা শেষে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

জানা গেছে, খেলোয়াড়দের দেশে ফেরার অনুরোধ সত্ত্বেও এসএলসি দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। শ্রীলঙ্কা এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে একটি ম্যাচ খেলেছে। এ সিরিজের পর পাকিস্তানে জিম্বাবুয়েকে নিয়ে একটি টি–টোয়েন্টি ত্রিদেশীয় সিরিজও খেলার কথা রয়েছে লঙ্কানদের। তার পরও খেলোয়াড়দের চাপের মুখে আরেক দফা বৈঠক হয়েছিল। এসএলসি জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পরপরই তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেয়, ‘ঘটনার পর এসএলসি সঙ্গে সঙ্গে খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং জানায় যে পিসিবি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে দলের প্রতিটি সদস্যের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিতের সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

এদিকে, পিসিবি চেয়ারম্যান ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি শ্রীলঙ্কা দলের সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে তাদের আশ্বস্ত করা যায় ও সফর চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেওয়া যায়। এর আগে তিনি পাকিস্তানে নিযুক্ত শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার ফ্রেড সিরিওয়ারার সঙ্গে বৈঠকও করেন। পিসিবির বিবৃতিতে বলা হয়, শ্রীলঙ্কা দলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে এবং সিরিওয়ারা তাতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে পাকিস্তানের লাহোরে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট দল সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছিল। তার পর থেকে নিরাপত্তা শঙ্কায় বিদেশি দলগুলো পাকিস্তান সফর করতো না। কিন্তু দীর্ঘ বিরতির পর সেখানে সফর পুনরায় শুরু করা প্রথমদিকের দলগুলোর একটি ছিল শ্রীলঙ্কা।

 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের ঐতিহাসিক অভিষেক

ইসলামাবাদে বোমা হামলার পরও সফর চালিয়ে যেতে নির্দেশ শ্রীলঙ্কার

আপডেট সময় : ১০:৪৩:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

মঙ্গলবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আত্মঘাতী বোমা হামলার পর নিরাপত্তা শঙ্কায় সেখান থেকে শ্রীলঙ্কার কয়েকজন খেলোয়াড় ও স্টাফ না খেলেই দেশে ফেরার অনুরোধ করেছিলেন। যা নিয়ে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছিল। বুধবার রাতভর সফরের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় বসেন ক্রিকেটাররা। তাদের সঙ্গে ছিলেন টিম ম্যানেজমেন্ট, শ্রীলঙ্কার বোর্ড কর্মকর্তারা ও পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষও। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ বৈঠক ও চলমান অনিশ্চয়তার কারণে সফরের বাকি দুটি ওয়ানডে একদিন করে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভি জানিয়েছেন, ম্যাচ দুটি এখন অনুষ্ঠিত হবে ১৪ ও ১৬ নভেম্বর—আগে নির্ধারিত ছিল ১৩ ও ১৫ নভেম্বর। পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লঙ্কান ক্রিকেটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, ‘পাকিস্তান সফর চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য শ্রীলঙ্কা দলকে ধন্যবাদ জানাই।’

যে শহরে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই শহরে অবস্থান করছেন লঙ্কান ক্রিকেটাররা। এমন অবস্থায় শ্রীলঙ্কার বেশ কয়েকজন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখালেও এসএলসি জানায়, বোর্ড খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পদক্ষেপ নিয়েছে এবং তাদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী খেলতে নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি বোর্ড আরও জানিয়ে দিয়েছে, সিরিজ না খেলে নির্দেশ অমান্য করলে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে তাদের।

বোর্ডের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এসএলসির নির্দেশনা উপেক্ষা করে যদি কোনও খেলোয়াড় বা সাপোর্ট স্টাফ দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তাদের আচরণ মূল্যায়নে একটি আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা করা হবে এবং সেই পর্যালোচনা শেষে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

জানা গেছে, খেলোয়াড়দের দেশে ফেরার অনুরোধ সত্ত্বেও এসএলসি দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। শ্রীলঙ্কা এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে একটি ম্যাচ খেলেছে। এ সিরিজের পর পাকিস্তানে জিম্বাবুয়েকে নিয়ে একটি টি–টোয়েন্টি ত্রিদেশীয় সিরিজও খেলার কথা রয়েছে লঙ্কানদের। তার পরও খেলোয়াড়দের চাপের মুখে আরেক দফা বৈঠক হয়েছিল। এসএলসি জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পরপরই তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেয়, ‘ঘটনার পর এসএলসি সঙ্গে সঙ্গে খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং জানায় যে পিসিবি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে দলের প্রতিটি সদস্যের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিতের সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

এদিকে, পিসিবি চেয়ারম্যান ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি শ্রীলঙ্কা দলের সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে তাদের আশ্বস্ত করা যায় ও সফর চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেওয়া যায়। এর আগে তিনি পাকিস্তানে নিযুক্ত শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার ফ্রেড সিরিওয়ারার সঙ্গে বৈঠকও করেন। পিসিবির বিবৃতিতে বলা হয়, শ্রীলঙ্কা দলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে এবং সিরিওয়ারা তাতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে পাকিস্তানের লাহোরে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট দল সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছিল। তার পর থেকে নিরাপত্তা শঙ্কায় বিদেশি দলগুলো পাকিস্তান সফর করতো না। কিন্তু দীর্ঘ বিরতির পর সেখানে সফর পুনরায় শুরু করা প্রথমদিকের দলগুলোর একটি ছিল শ্রীলঙ্কা।