নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের কারণে অতীতের আওয়ামী লীগ সরকারের মতো বর্তমান সরকারও প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছে বলে মন্তব্য করেছেন ‘আমার দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। শনিবার রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে ‘নির্যাতন প্রতিরোধের জন্য রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও অঙ্গীকার’ শীর্ষক এক সেশনে নিজের দীর্ঘ কারাবাস এবং নির্যাতনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মাহমুদুর রহমান বলেন, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার মাধ্যমে ‘আমার দেশ’ পরিচালনা করাই ছিল তার একমাত্র অপরাধ। এর জের ধরে তাকে নির্যাতন, নিপীড়ন এবং দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটাতে হয়েছে। তিনি বলেন, তৎকালীন সরকার সত্য প্রকাশের কারণে ‘আমার দেশ’কে সরকার বিরোধী মনে করত।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদিও বিরোধী দল থাকা বিএনপি বর্তমানে ক্ষমতায় এসেছে, যা একটি ইতিবাচক দিক। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই সরকারও ‘আমার দেশ’কে বর্তমান সরকারের বিরোধী এবং নতুন বিরোধীদের (জামায়াতে ইসলামী) পক্ষের শক্তি হিসেবে দেখছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে সৎ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা করার জন্য এমন মূল্যই দিতে হয়।
বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র দুই মাস উল্লেখ করে সম্পাদক বলেন, এই সরকার সম্পর্কে চূড়ান্ত রায় দেওয়ার জন্য আরও চার বছর দশ মাস অপেক্ষা করতে হবে। তবে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিজেও একসময় নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি এই সরকারকে একটি ‘অনন্য প্রেক্ষাপট সম্পন্ন সরকার’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই সরকার বিগত পনেরো বছরের অভিজ্ঞতার চেয়ে ভিন্ন এবং ইতিবাচক আচরণ করবে।
বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের উদাহরণ টেনে মাহমুদুর রহমান নির্যাতন বন্ধে চারটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, বিচার বিভাগের নজরদারি ও স্বাধীনতা, জিজ্ঞাসাবাদ কৌশলে আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং নির্যাতনের শিকারদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন – এই চারটি বিষয় বাস্তবায়নের মাধ্যমেই নির্যাতনের এই অশুভ চর্চা বন্ধ করা সম্ভব।
রিপোর্টারের নাম 




















