ঢাকা ১১:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনার প্রভাব: করাচি বন্দরে ইরানের ৩ হাজার কনটেইনার আটকা

হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে পাকিস্তানের করাচি বন্দরে ইরানের উদ্দেশ্যে পাঠানো প্রায় ৩ হাজার কনটেইনার আটকা পড়েছে। সম্প্রতি সামনে আসা কিছু নথিপত্রে এই কনটেইনারগুলো উদ্ধারে সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, কনটেইনারগুলো ট্রান্স-শিপমেন্টের মাধ্যমে ইরানে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় সেগুলো করাচি বন্দরে খালাস করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি স্থলপথ ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কনটেইনারগুলো পাকিস্তানি ট্রাকে করে সীমান্ত পর্যন্ত নেওয়া হবে এবং সেখান থেকে ইরানি ট্রাকের মাধ্যমে তা ইরানে প্রবেশ করবে।

এদিকে, সমুদ্র বিশেষজ্ঞ ও শিপিং শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইরান বর্তমানে চীনের সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে ইউয়ান এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে টোল আদায় করছে। এক্ষেত্রে তেলের জন্য প্রতি ব্যারেলে প্রায় এক ডলার করে চার্জ নেওয়া হচ্ছে। ফলে লাখ লাখ ব্যারেল তেল বহনকারী জাহাজ থেকে ইরান বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করছে। অন্যান্য কার্গোর ক্ষেত্রেও তেলের ব্যারেলের মূল্যের ওপর ভিত্তি করে চার্জ নির্ধারণ করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের জন্য এই ব্যবস্থা লাভজনক হলেও যুক্তরাষ্ট্র এখন এই সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত করার পথ খুঁজে পেয়েছে। মার্কিন নৌ-অবরোধের ফলে ইতিমধ্যে বেশ কিছু জাহাজ আটকে পড়েছে। এই অবরোধ সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে বেশি কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামের উইকেট নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ কিউইরা, নজর সিরিজ জয়ে

হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনার প্রভাব: করাচি বন্দরে ইরানের ৩ হাজার কনটেইনার আটকা

আপডেট সময় : ১০:০৯:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে পাকিস্তানের করাচি বন্দরে ইরানের উদ্দেশ্যে পাঠানো প্রায় ৩ হাজার কনটেইনার আটকা পড়েছে। সম্প্রতি সামনে আসা কিছু নথিপত্রে এই কনটেইনারগুলো উদ্ধারে সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, কনটেইনারগুলো ট্রান্স-শিপমেন্টের মাধ্যমে ইরানে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় সেগুলো করাচি বন্দরে খালাস করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি স্থলপথ ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কনটেইনারগুলো পাকিস্তানি ট্রাকে করে সীমান্ত পর্যন্ত নেওয়া হবে এবং সেখান থেকে ইরানি ট্রাকের মাধ্যমে তা ইরানে প্রবেশ করবে।

এদিকে, সমুদ্র বিশেষজ্ঞ ও শিপিং শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইরান বর্তমানে চীনের সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে ইউয়ান এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে টোল আদায় করছে। এক্ষেত্রে তেলের জন্য প্রতি ব্যারেলে প্রায় এক ডলার করে চার্জ নেওয়া হচ্ছে। ফলে লাখ লাখ ব্যারেল তেল বহনকারী জাহাজ থেকে ইরান বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করছে। অন্যান্য কার্গোর ক্ষেত্রেও তেলের ব্যারেলের মূল্যের ওপর ভিত্তি করে চার্জ নির্ধারণ করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের জন্য এই ব্যবস্থা লাভজনক হলেও যুক্তরাষ্ট্র এখন এই সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত করার পথ খুঁজে পেয়েছে। মার্কিন নৌ-অবরোধের ফলে ইতিমধ্যে বেশ কিছু জাহাজ আটকে পড়েছে। এই অবরোধ সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে বেশি কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।