ঢাকা ০৬:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

অভাব ও অন্ধকার ভবিষ্যৎ: রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ঠেলে দিচ্ছে ‘ভাগ্যের জুয়া’

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, আন্তর্জাতিক সাহায্য কমে যাওয়ার ফলে খাদ্য সহায়তার ব্যাপক হ্রাস এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎই রোহিঙ্গাদের বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর তথ্যমতে, ২০২৫ সাল ছিল রোহিঙ্গাদের জন্য অন্যতম প্রাণঘাতী বছর, যেখানে আন্দামান ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী নিখোঁজ বা মৃত্যুবরণ করেছেন।

মূলত বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে কাজের অধিকার ও শিক্ষার সীমিত সুযোগ এবং মিয়ানমারে ফেরার অনিরাপদ পরিবেশের কারণে চরম হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু জরাজীর্ণ নৌকায় করে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাচ্ছে। সম্প্রতি আন্দামান সাগরে ৩০০ আরোহীসহ একটি ট্রলারডুবির ঘটনায় বেঁচে ফেরা ২৬ বছর বয়সী রাহিলা বেগম রয়টার্সকে জানান, শিবিরে মানবেতর জীবন ও ব্যক্তিগত নিগ্রহ থেকে বাঁচতেই তিনি এই ‘ভাগ্যের জুয়ায়’ শামিল হয়েছিলেন। ওই দুর্ঘটনায় অন্তত ২৫০ জনের সলিল সমাধি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমানে কক্সবাজারের বিভিন্ন শিবিরে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সম্প্রতি আয়ের সক্ষমতার ভিত্তিতে রেশন বণ্টন শুরু করায় সবচেয়ে অসহায়দের জন্য মাসিক বরাদ্দ ১২ ডলার এবং অন্যদের জন্য মাত্র ৭ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। শিবিরের বাসিন্দারা দাবি করছেন, এই সামান্য অর্থে শুধু চাল ও তেল কেনা সম্ভব হলেও মাছ-মাংস জোটে না, যা তাদের সন্তানদের অমানবিক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ইউএনএইচসিআর কর্মকর্তা অ্যাস্ট্রিড ক্যাসটেলিন জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ এবং ভালো জীবনের আশায় তারা এই ঝুঁকি নিচ্ছে। অন্যদিকে, পাচারকারী চক্রগুলো এই চরম হতাশার সুযোগ নিয়ে রোহিঙ্গাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ফয়সাল নামক এক পাচারকারী জানান, মানুষ এতটাই মরিয়া যে শীতকাল ছাড়াও যেকোনো সময় তারা সমুদ্রে ঝাঁপ দিতে প্রস্তুত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাংলাদেশি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উপকূলীয় এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়ানো হলেও মানুষের চরম হতাশার কারণে আইন প্রয়োগ করে এই বিপজ্জনক যাত্রা ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

অভাব ও অন্ধকার ভবিষ্যৎ: রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ঠেলে দিচ্ছে ‘ভাগ্যের জুয়া’

অভাব ও অন্ধকার ভবিষ্যৎ: রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ঠেলে দিচ্ছে ‘ভাগ্যের জুয়া’

আপডেট সময় : ০৪:৪০:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, আন্তর্জাতিক সাহায্য কমে যাওয়ার ফলে খাদ্য সহায়তার ব্যাপক হ্রাস এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎই রোহিঙ্গাদের বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর তথ্যমতে, ২০২৫ সাল ছিল রোহিঙ্গাদের জন্য অন্যতম প্রাণঘাতী বছর, যেখানে আন্দামান ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী নিখোঁজ বা মৃত্যুবরণ করেছেন।

মূলত বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে কাজের অধিকার ও শিক্ষার সীমিত সুযোগ এবং মিয়ানমারে ফেরার অনিরাপদ পরিবেশের কারণে চরম হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু জরাজীর্ণ নৌকায় করে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাচ্ছে। সম্প্রতি আন্দামান সাগরে ৩০০ আরোহীসহ একটি ট্রলারডুবির ঘটনায় বেঁচে ফেরা ২৬ বছর বয়সী রাহিলা বেগম রয়টার্সকে জানান, শিবিরে মানবেতর জীবন ও ব্যক্তিগত নিগ্রহ থেকে বাঁচতেই তিনি এই ‘ভাগ্যের জুয়ায়’ শামিল হয়েছিলেন। ওই দুর্ঘটনায় অন্তত ২৫০ জনের সলিল সমাধি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমানে কক্সবাজারের বিভিন্ন শিবিরে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সম্প্রতি আয়ের সক্ষমতার ভিত্তিতে রেশন বণ্টন শুরু করায় সবচেয়ে অসহায়দের জন্য মাসিক বরাদ্দ ১২ ডলার এবং অন্যদের জন্য মাত্র ৭ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। শিবিরের বাসিন্দারা দাবি করছেন, এই সামান্য অর্থে শুধু চাল ও তেল কেনা সম্ভব হলেও মাছ-মাংস জোটে না, যা তাদের সন্তানদের অমানবিক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ইউএনএইচসিআর কর্মকর্তা অ্যাস্ট্রিড ক্যাসটেলিন জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ এবং ভালো জীবনের আশায় তারা এই ঝুঁকি নিচ্ছে। অন্যদিকে, পাচারকারী চক্রগুলো এই চরম হতাশার সুযোগ নিয়ে রোহিঙ্গাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ফয়সাল নামক এক পাচারকারী জানান, মানুষ এতটাই মরিয়া যে শীতকাল ছাড়াও যেকোনো সময় তারা সমুদ্রে ঝাঁপ দিতে প্রস্তুত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাংলাদেশি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উপকূলীয় এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়ানো হলেও মানুষের চরম হতাশার কারণে আইন প্রয়োগ করে এই বিপজ্জনক যাত্রা ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ছে।