জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে চরম অস্থিরতা ও ভাঙনের সুর স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গত ২০ এপ্রিল প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্বের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশিদ ও দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেনসহ প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা নবগঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়ার পর থেকেই এই বিশৃঙ্খলার সূত্রপাত হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, সংগঠনের তহবিলের প্রায় এক কোটি টাকারও বেশি অর্থ লুটপাট করা হয়েছে এবং এই বিশাল অংকের আত্মসাতের বিষয়টি আড়াল করতেই দায়িত্বশীলরা তড়িঘড়ি করে সংগঠন ছেড়ে রাজনৈতিক দলে নাম লিখিয়েছেন।
বর্তমান কমিটি ভেঙে দিয়ে ৫ সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হলেও সংগঠনের একটি বড় অংশ এই সিদ্ধান্তকে অগণতান্ত্রিক ও একতরফা হিসেবে অভিহিত করে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনের মুখপাত্র সিনথিয়া জাহীন আয়েশা অভিযোগ করেছেন যে, আর্থিক অসংলগ্নতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তাকে সব ধরনের যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেগকে পুঁজি করে একটি চক্র ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করছে। অন্যদিকে, সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এই ‘পকেট কমিটি’র বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তাদের মতে, জুলাই অভ্যুত্থানের স্পিরিটকে পাশ কাটিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার যেকোনো চেষ্টা নব্য স্বৈরাচারী আচরণের শামিল।
অভিযুক্ত নেতাদের পক্ষ থেকে অবশ্য এসব দাবিকে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নতুন কমিটি নিয়ে অসন্তুষ্টির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুঈনুল ইসলাম জানিয়েছেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক না থাকায় কমিটি অকার্যকর হয়ে পড়েছিল বলেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে যেভাবে অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত এই সংগঠনটি এখন সরাসরি রাজনৈতিক মেরুকরণের শিকার হচ্ছে, তাতে এর ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। আর্থিক স্বচ্ছতার অভাব এবং নেতৃত্বের এই বিভাজন জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
রিপোর্টারের নাম 























