ঢাকা ০৪:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে ডিপিডিসির মূল্যবান ক্যাবল চুরির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)-এর ভূগর্ভস্থ ফিডার লাইনের মূল্যবান ‘ডেড ক্যাবল’ চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে সরকারি সম্পদ চুরির অভিযোগ উঠেছে। অথচ বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরও প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৯ মাস ধরে একটি চক্র ভেকু মেশিন ব্যবহার করে মাটি খুঁড়ে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত এই ডেড ক্যাবল তুলে নিয়ে বিক্রি করছে। কখনো গভীর রাতে, আবার কখনো দিনের আলোতেই প্রকাশ্যে এই চুরি অব্যাহত রয়েছে। কাশীপুর ইউনিয়ন বিএনপির আরিফ মন্ডল এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার নেতৃত্বে বিএনপি নেতা মিলন, জুয়েল, জব্বার, ইমরান, চোরা হাসান, শান্ত জলিল রাতের আঁধারে মূল্যবান এই ক্যাবল চুরি করে বিক্রি করে আসছে। এছাড়া, বিসিক শিল্প নগরীতে যুবদল নেতা আল আমিনের নেতৃত্বেও ক্যাবল চুরির ঘটনা ঘটছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি মুন্সিগঞ্জ-পঞ্চবটি দ্বিতীয় সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হলে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির সময় ক্যাবলগুলো দৃশ্যমান হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে কাশীপুর ইউনিয়ন বিএনপির শীর্ষ কয়েকজন নেতা ভেকু ব্যবহার করে ওই ডেড ক্যাবল উত্তোলন শুরু করে। শুরুতে এই ক্যাবল বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে চক্রের ভেতরে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। পরবর্তীতে কাশীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফ মন্ডলের নেতৃত্বে একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। অভিযোগ আছে, এই সিন্ডিকেট স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে নির্বিঘ্নে প্রতিদিন রাতে ক্যাবল তুলে বিক্রি করছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ পেলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা না থাকায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।

ফতুল্লা সাবস্টেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী এএইচএম তারেক তুষার জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়ে ক্যাবল চুরির সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে চক্রটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও সংঘবদ্ধ হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, তাদের লোকজন ঘটনাস্থলে ছবি তুলতে গেলে চক্রের সদস্যরা তাদের মোবাইল কেড়ে নিয়ে হামলার চেষ্টা করে এবং পরিস্থিতি প্রতিকূল হওয়ায় তারা সেখান থেকে সরে আসে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এসএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাস, তবে দাখিল পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি

বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে ডিপিডিসির মূল্যবান ক্যাবল চুরির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

আপডেট সময় : ০১:৫৮:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)-এর ভূগর্ভস্থ ফিডার লাইনের মূল্যবান ‘ডেড ক্যাবল’ চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে সরকারি সম্পদ চুরির অভিযোগ উঠেছে। অথচ বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরও প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৯ মাস ধরে একটি চক্র ভেকু মেশিন ব্যবহার করে মাটি খুঁড়ে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত এই ডেড ক্যাবল তুলে নিয়ে বিক্রি করছে। কখনো গভীর রাতে, আবার কখনো দিনের আলোতেই প্রকাশ্যে এই চুরি অব্যাহত রয়েছে। কাশীপুর ইউনিয়ন বিএনপির আরিফ মন্ডল এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার নেতৃত্বে বিএনপি নেতা মিলন, জুয়েল, জব্বার, ইমরান, চোরা হাসান, শান্ত জলিল রাতের আঁধারে মূল্যবান এই ক্যাবল চুরি করে বিক্রি করে আসছে। এছাড়া, বিসিক শিল্প নগরীতে যুবদল নেতা আল আমিনের নেতৃত্বেও ক্যাবল চুরির ঘটনা ঘটছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি মুন্সিগঞ্জ-পঞ্চবটি দ্বিতীয় সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হলে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির সময় ক্যাবলগুলো দৃশ্যমান হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে কাশীপুর ইউনিয়ন বিএনপির শীর্ষ কয়েকজন নেতা ভেকু ব্যবহার করে ওই ডেড ক্যাবল উত্তোলন শুরু করে। শুরুতে এই ক্যাবল বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে চক্রের ভেতরে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। পরবর্তীতে কাশীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফ মন্ডলের নেতৃত্বে একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। অভিযোগ আছে, এই সিন্ডিকেট স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে নির্বিঘ্নে প্রতিদিন রাতে ক্যাবল তুলে বিক্রি করছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ পেলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা না থাকায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।

ফতুল্লা সাবস্টেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী এএইচএম তারেক তুষার জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়ে ক্যাবল চুরির সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে চক্রটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও সংঘবদ্ধ হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, তাদের লোকজন ঘটনাস্থলে ছবি তুলতে গেলে চক্রের সদস্যরা তাদের মোবাইল কেড়ে নিয়ে হামলার চেষ্টা করে এবং পরিস্থিতি প্রতিকূল হওয়ায় তারা সেখান থেকে সরে আসে।