ঢাকা ১২:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ফিলিপাইনের জ্বালানি সংকট: বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজন মহাপরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় সম্প্রতি এক বছরের জন্য ‘জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে ফিলিপাইন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকির মুখে। এই পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য এখনই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ফিলিপাইনের ৯৮ শতাংশ জ্বালানি হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসে, যা বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও অনেকটা প্রযোজ্য।

বিশ্ববাজারের অস্থিরতা বাংলাদেশের কৃষি, শিল্প ও পরিবহন খাতের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি কোনো কারণে রুদ্ধ হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়তে পারে। এই সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অন্তত তিন মাসের ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’ বা কৌশলগত মজুদ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। প্রয়োজনে ভাসমান বা অস্থায়ী স্টোরেজ সুবিধার মতো বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে এখনই পরিকল্পনা সাজাতে হবে।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট কিছু উৎসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প বাজার অন্বেষণ করা জরুরি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বা মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে জ্বালানি কূটনীতি জোরদার করার মাধ্যমে আমদানির উৎস বহুমুখী করতে হবে। একই সঙ্গে দেশীয় পর্যায়ে কঠোর জ্বালানি সাশ্রয় নীতি প্রণয়ন, অপচয় রোধ এবং শিল্প কারখানায় আধুনিক অডিট ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। ফিলিপাইনের এই সংকট মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা, যা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাবলিক পরীক্ষায় দীর্ঘদিনের ‘নীরব বহিষ্কার’ প্রথা বাতিল

ফিলিপাইনের জ্বালানি সংকট: বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজন মহাপরিকল্পনা

আপডেট সময় : ১১:০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় সম্প্রতি এক বছরের জন্য ‘জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে ফিলিপাইন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকির মুখে। এই পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য এখনই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ফিলিপাইনের ৯৮ শতাংশ জ্বালানি হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসে, যা বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও অনেকটা প্রযোজ্য।

বিশ্ববাজারের অস্থিরতা বাংলাদেশের কৃষি, শিল্প ও পরিবহন খাতের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি কোনো কারণে রুদ্ধ হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়তে পারে। এই সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অন্তত তিন মাসের ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’ বা কৌশলগত মজুদ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। প্রয়োজনে ভাসমান বা অস্থায়ী স্টোরেজ সুবিধার মতো বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে এখনই পরিকল্পনা সাজাতে হবে।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট কিছু উৎসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প বাজার অন্বেষণ করা জরুরি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বা মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে জ্বালানি কূটনীতি জোরদার করার মাধ্যমে আমদানির উৎস বহুমুখী করতে হবে। একই সঙ্গে দেশীয় পর্যায়ে কঠোর জ্বালানি সাশ্রয় নীতি প্রণয়ন, অপচয় রোধ এবং শিল্প কারখানায় আধুনিক অডিট ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। ফিলিপাইনের এই সংকট মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা, যা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।