ঢাকা ০৯:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

বাকেরগঞ্জে আসামি গ্রেপ্তারকালে পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ

বরিশালের বাকেরগঞ্জে পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করার সময় পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার বেলা দেড়টার দিকে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাঠেরপুল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহত রেজাউল হাওলাদার (২২) নিয়ামতি ইউনিয়নের খাস মহেশপুর গ্রামের মোশারেফ হাওলাদারের ছেলে।

পুলিশ গ্রেপ্তার করার পর আহত রেজাউলকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত বরিশালের আদালতে পাঠায়। রেজাউলের মা শিল্পী বেগম অভিযোগ করেছেন, বাকেরগঞ্জ থানার এসআই সবিতা রানী তার ছেলেকে বিনা অপরাধে নির্যাতন করেছেন। তিনি জানান, তার ছেলের বউ ঝালকাঠী আদালতে একটি যৌতুক মামলা করায় আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল, যা তারা জানতেন না। শনিবার দুপুরে পৌরসভায় সেলুনে চুল কাটার সময় এসআই সবিতা পুলিশের একটি দল নিয়ে তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করেন। এসময় রেজাউল ওয়ারেন্টের কাগজপত্র দেখতে চাইলে এসআই সবিতা ও তার সঙ্গীরা তাকে মারধর করে টেনেহিঁচড়ে একটি অটোরিকশায় তুলে থানায় নিয়ে যায়। থানায় পুনরায় নির্যাতনের পর তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি অভিযুক্ত এসআই সবিতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

কাঠেরপুল এলাকার প্রত্যক্ষদর্শী তারা বানু জানান, রেজাউলকে গ্রেপ্তার করে অটোরিকশায় তোলার সময় এসআই সবিতা তাকে চড়-থাপ্পড় দিয়েছেন। গ্রেপ্তারের কারণ জানতে চাইলে পুলিশ এই মারধর করে। গ্রেপ্তারকৃত রেজাউলের বোন ডালিম বেগম বলেন, তার ভাইকে গ্রেপ্তারের সময় এবং থানায় নিয়ে এসআই সবিতা মারধর করে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। আদালতে পাঠানোর সময় তার ভাই পুলিশি নির্যাতনের বিষয়টি তাদের জানিয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের এমন আচরণের কোনো সুযোগ না থাকলেও কোন আইনে এসআই সবিতা তার ভাইকে মারধর করেছেন, তা নিয়ে তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ জানান, শনিবার বেলা সোয়া ২টার দিকে রেজাউলকে বাকেরগঞ্জ থানার এসআই সবিতা চিকিৎসা করাতে নিয়ে আসেন। রেজাউলের বুকে ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। পুলিশ তাদের জানায়, গ্রেপ্তারের সময় তার বুকে নখের আঁচড় ছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নীলফামারীতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল জব্দ, ৭ জন আটক

বাকেরগঞ্জে আসামি গ্রেপ্তারকালে পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৬:৪৭:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

বরিশালের বাকেরগঞ্জে পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করার সময় পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার বেলা দেড়টার দিকে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাঠেরপুল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহত রেজাউল হাওলাদার (২২) নিয়ামতি ইউনিয়নের খাস মহেশপুর গ্রামের মোশারেফ হাওলাদারের ছেলে।

পুলিশ গ্রেপ্তার করার পর আহত রেজাউলকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত বরিশালের আদালতে পাঠায়। রেজাউলের মা শিল্পী বেগম অভিযোগ করেছেন, বাকেরগঞ্জ থানার এসআই সবিতা রানী তার ছেলেকে বিনা অপরাধে নির্যাতন করেছেন। তিনি জানান, তার ছেলের বউ ঝালকাঠী আদালতে একটি যৌতুক মামলা করায় আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল, যা তারা জানতেন না। শনিবার দুপুরে পৌরসভায় সেলুনে চুল কাটার সময় এসআই সবিতা পুলিশের একটি দল নিয়ে তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করেন। এসময় রেজাউল ওয়ারেন্টের কাগজপত্র দেখতে চাইলে এসআই সবিতা ও তার সঙ্গীরা তাকে মারধর করে টেনেহিঁচড়ে একটি অটোরিকশায় তুলে থানায় নিয়ে যায়। থানায় পুনরায় নির্যাতনের পর তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি অভিযুক্ত এসআই সবিতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

কাঠেরপুল এলাকার প্রত্যক্ষদর্শী তারা বানু জানান, রেজাউলকে গ্রেপ্তার করে অটোরিকশায় তোলার সময় এসআই সবিতা তাকে চড়-থাপ্পড় দিয়েছেন। গ্রেপ্তারের কারণ জানতে চাইলে পুলিশ এই মারধর করে। গ্রেপ্তারকৃত রেজাউলের বোন ডালিম বেগম বলেন, তার ভাইকে গ্রেপ্তারের সময় এবং থানায় নিয়ে এসআই সবিতা মারধর করে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। আদালতে পাঠানোর সময় তার ভাই পুলিশি নির্যাতনের বিষয়টি তাদের জানিয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের এমন আচরণের কোনো সুযোগ না থাকলেও কোন আইনে এসআই সবিতা তার ভাইকে মারধর করেছেন, তা নিয়ে তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ জানান, শনিবার বেলা সোয়া ২টার দিকে রেজাউলকে বাকেরগঞ্জ থানার এসআই সবিতা চিকিৎসা করাতে নিয়ে আসেন। রেজাউলের বুকে ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। পুলিশ তাদের জানায়, গ্রেপ্তারের সময় তার বুকে নখের আঁচড় ছিল।