ঢাকা ০৭:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নতুন নীতি: জটিলতা ও সম্ভাবনা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ সত্ত্বেও, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালী দিয়ে কিছু জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। এটিকে ইরানের পক্ষ থেকে একটি ‘শুভেচ্ছা নিদর্শন’ হিসেবে দেখা হলেও, সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো বেশ জটিল।

ইরান প্রাথমিকভাবে তাদের ‘শত্রু’ নয় এমন কিছু জাহাজকে এই জলপথে চলাচলের সংকেত দিয়েছে। পাশাপাশি, তারা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে একটি নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কথাও বলছে। সম্প্রতি আইআরজিসি প্রকাশিত একটি মানচিত্রে, ওমানের কাছাকাছি দক্ষিণাঞ্চলীয় পানিসীমাকে ‘বিপজ্জনক অঞ্চল’ এবং ইরানের উপকূলীয় পথকে ‘নিরাপদ অঞ্চল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি হরমুজ প্রণালীর উপর ইরানের ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার ইচ্ছারই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে, ইরান টোল বা মাশুল আদায়ের একটি পরিকল্পনাও বিবেচনা করছে। ‘শুভেচ্ছা নিদর্শন’ হিসেবে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিলেও, ইরান মূলত যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায়ের পথ খুঁজছে এবং এই প্রস্তাবিত টোল ব্যবস্থা তার একটি অংশ হতে পারে।

বৃহত্তর আলোচনার ক্ষেত্রে আরও অনেক অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে। ইরান অঞ্চলে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আটকে রাখা সম্পদ ফেরত এবং আঞ্চলিক সম্পর্কের উন্নয়নের দাবি জানাচ্ছে। তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদের বিষয়টিও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে, বর্তমান পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে, যা নিকট ভবিষ্যতে আলোচনার সাফল্যকে কঠিন করে তুলতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণের দুয়ার উন্মোচন: এসএমই ফাউন্ডেশন ও প্রাইম ব্যাংকের ঐতিহাসিক চুক্তি

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নতুন নীতি: জটিলতা ও সম্ভাবনা

আপডেট সময় : ০৪:২৬:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ সত্ত্বেও, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালী দিয়ে কিছু জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। এটিকে ইরানের পক্ষ থেকে একটি ‘শুভেচ্ছা নিদর্শন’ হিসেবে দেখা হলেও, সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো বেশ জটিল।

ইরান প্রাথমিকভাবে তাদের ‘শত্রু’ নয় এমন কিছু জাহাজকে এই জলপথে চলাচলের সংকেত দিয়েছে। পাশাপাশি, তারা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে একটি নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কথাও বলছে। সম্প্রতি আইআরজিসি প্রকাশিত একটি মানচিত্রে, ওমানের কাছাকাছি দক্ষিণাঞ্চলীয় পানিসীমাকে ‘বিপজ্জনক অঞ্চল’ এবং ইরানের উপকূলীয় পথকে ‘নিরাপদ অঞ্চল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি হরমুজ প্রণালীর উপর ইরানের ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার ইচ্ছারই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে, ইরান টোল বা মাশুল আদায়ের একটি পরিকল্পনাও বিবেচনা করছে। ‘শুভেচ্ছা নিদর্শন’ হিসেবে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিলেও, ইরান মূলত যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায়ের পথ খুঁজছে এবং এই প্রস্তাবিত টোল ব্যবস্থা তার একটি অংশ হতে পারে।

বৃহত্তর আলোচনার ক্ষেত্রে আরও অনেক অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে। ইরান অঞ্চলে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আটকে রাখা সম্পদ ফেরত এবং আঞ্চলিক সম্পর্কের উন্নয়নের দাবি জানাচ্ছে। তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদের বিষয়টিও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে, বর্তমান পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে, যা নিকট ভবিষ্যতে আলোচনার সাফল্যকে কঠিন করে তুলতে পারে।