ঢাকা ০৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ প্রণালী নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পরস্পরবিরোধী ঘোষণা

গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষ থেকেই এমন সব ঘোষণা এসেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং পরস্পরবিরোধী বার্তা দিয়েছে। এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে ঘটনাবলীর ধারাবাহিকতায় এক নাটকীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় দুপুর ১টার দিকে (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা), ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ঘোষণা করেন যে, হরমুজ প্রণালী ‘যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়ের জন্য সম্পূর্ণভাবে খোলা ঘোষণা করা হলো’। এই ঘোষণার কয়েক মিনিট পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ‘ধন্যবাদ’ জানিয়ে একটি পোস্ট করেন। তবে, তিনি একই সঙ্গে জানান যে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে তাদের লেনদেন সম্পূর্ণ হয়।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের পক্ষ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্রায় ৪০টি দেশের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকের পর জানান যে, পরিস্থিতি অনুকূল হওয়া মাত্রই তারা নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় একটি আন্তর্জাতিক মিশনের নেতৃত্ব দেবেন।

ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ ট্রাম্পের দাবিকে ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে কয়েক ঘণ্টা পর এক্স-এ লেখেন, ট্রাম্প এক ঘণ্টার মধ্যে সাতটি দাবি করেছেন, যার সবকটিই ভিত্তিহীন। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকলে প্রণালীটি খোলা থাকবে না।

ট্র্যাকিং সাইট মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার কিছু জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে, এর কিছুক্ষণ পরই ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ইরানের সেনাবাহিনী ঘোষণা করে যে তারা হরমুজ প্রণালির ওপর পুনরায় নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের দায়বদ্ধতা পূরণ করা হয়নি এবং যাতায়াতের জন্য ইরানের অনুমতি প্রয়োজন। এর প্রতিক্রিয়ায়, মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী একাধিক জাহাজ দিক পরিবর্তন করে নিজেদের যাত্রা শুরুর বন্দরের দিকে ফিরে যেতে শুরু করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নীলফামারীতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল জব্দ, ৭ জন আটক

হরমুজ প্রণালী নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পরস্পরবিরোধী ঘোষণা

আপডেট সময় : ০৬:৫২:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষ থেকেই এমন সব ঘোষণা এসেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং পরস্পরবিরোধী বার্তা দিয়েছে। এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে ঘটনাবলীর ধারাবাহিকতায় এক নাটকীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় দুপুর ১টার দিকে (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা), ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ঘোষণা করেন যে, হরমুজ প্রণালী ‘যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়ের জন্য সম্পূর্ণভাবে খোলা ঘোষণা করা হলো’। এই ঘোষণার কয়েক মিনিট পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ‘ধন্যবাদ’ জানিয়ে একটি পোস্ট করেন। তবে, তিনি একই সঙ্গে জানান যে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে তাদের লেনদেন সম্পূর্ণ হয়।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের পক্ষ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্রায় ৪০টি দেশের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকের পর জানান যে, পরিস্থিতি অনুকূল হওয়া মাত্রই তারা নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় একটি আন্তর্জাতিক মিশনের নেতৃত্ব দেবেন।

ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ ট্রাম্পের দাবিকে ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে কয়েক ঘণ্টা পর এক্স-এ লেখেন, ট্রাম্প এক ঘণ্টার মধ্যে সাতটি দাবি করেছেন, যার সবকটিই ভিত্তিহীন। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকলে প্রণালীটি খোলা থাকবে না।

ট্র্যাকিং সাইট মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার কিছু জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে, এর কিছুক্ষণ পরই ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ইরানের সেনাবাহিনী ঘোষণা করে যে তারা হরমুজ প্রণালির ওপর পুনরায় নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের দায়বদ্ধতা পূরণ করা হয়নি এবং যাতায়াতের জন্য ইরানের অনুমতি প্রয়োজন। এর প্রতিক্রিয়ায়, মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী একাধিক জাহাজ দিক পরিবর্তন করে নিজেদের যাত্রা শুরুর বন্দরের দিকে ফিরে যেতে শুরু করে।