সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা একটি প্রজ্ঞাপন দেশের শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ওই প্রজ্ঞাপনে দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন পদে কর্মরত ৮২ জন কর্মকর্তাকে সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের তালিকায় রয়েছেন সাঁটলিপিকার, হিসাবরক্ষণ ক্লার্ক এবং উচ্চমান সহকারীর মতো কারিগরি ও প্রশাসনিক কর্মীরা। পেশাগত জীবনে পদোন্নতি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও, শিক্ষার গুণগত মানের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তটি কতটুকু যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের পদটি কেবল একটি সাধারণ প্রশাসনিক পদ নয়। এটি মূলত একটি একাডেমিক নেতৃত্বের অবস্থান। একজন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে সংশ্লিষ্ট এলাকার সব মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান পদ্ধতি, মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং পাঠ্যক্রম বাস্তবায়নের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো তদারকি করতে হয়। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা তত্ত্বে এই স্তরের কর্মকর্তাদের ‘শিখন-নেতৃত্বের’ ধারক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
যখন প্রশাসনিক কাজে অভ্যস্ত কর্মীদের সরাসরি শিক্ষার মান তদারকির মতো কারিগরি পদে বসানো হয়, তখন পুরো শিক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এবং শিক্ষকদের পেশাগত মানোন্নয়নে এই পদে দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদদের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। তাই কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের চেয়ে শিক্ষার সামগ্রিক মানকে অগ্রাধিকার দিয়ে নীতিগত কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
রিপোর্টারের নাম 

























