ঢাকা ০৬:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বর্ণাঢ্য আয়োজনে নতুন বছরকে স্বাগত

বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ করে নিতে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম সেজেছে এক বর্ণিল সাজে। উৎসবমুখর পরিবেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাচ্ছে সর্বস্তরের মানুষ। নগরীর সিআরবির শিরীষতলা, ডিসি হিল, জিমনেসিয়াম মাঠের বইমেলা, পলোগ্রাউন্ড মাঠ, চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ, মহসীন কলেজ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব, জামালখান এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষ উৎসবে মেতে উঠেছে। ছেলেরা রঙিন পাঞ্জাবি ও লুঙ্গি এবং মেয়েরা শাড়ি ও চুড়ি পরে বৈশাখী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে।

সিআরবির শিরীষতলায় প্রতি বছরের মতো এবারও সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে চলছে বর্ণাঢ্য আয়োজন। ভোরের সূর্যোদয়ের সাথে সাথে বাঁশির সুর ও দলীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। চট্টগ্রামের বিশিষ্ট শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পরিবেশনায় রবীন্দ্র-নজরুল সংগীত এবং লোকজ গানে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ডিসি হিল প্রাঙ্গণেও বৈশাখ উপলক্ষে মানুষের ঢল নেমেছে। ‘বোধন আবৃত্তি পরিষদ’ ও ‘প্রমিথিউস’সহ বিভিন্ন সংগঠনের আবৃত্তি, নাচ এবং গানে চারপাশ মুখরিত। নারী-পুরুষ ও শিশুরা লাল-সাদা পোশাকে সেজে উৎসবে মেতেছেন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নগরীর সার্কিট হাউস থেকে ডিসি হিল পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে করা আল্পনা নগরবাসীর নজর কেড়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের আয়োজনে প্রতি বছর নগরীর বাদশা মিয়া সড়ক থেকে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হতো। তবে চারুকলা ইনস্টিটিউট মূল ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ায় এবার পাহাড়ঘেরা ক্যাম্পাসেই মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণে চারুকলার শিক্ষার্থীরা সেখানে বিশালাকৃতির লোকজ মোটিফ তৈরি করেছে। এর পাশাপাশি বৈশাখী মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকজ খাবারের আয়োজনে মঙ্গলবার সকাল থেকেই ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। চারুকলার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, ‘এখন বৈশাখ মানে শুধু অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি অভিজ্ঞতা। পুরো ক্যাম্পাসই এখন উৎসবের আঙিনা।’ প্রাক্তন শিক্ষার্থী নুর নবী রবিন জানান, আগে চারুকলা ইনস্টিটিউট শহরে থাকায় প্রতি বছর মঙ্গল শোভাযাত্রা নগরীতেই হতো এবং তা ছিল প্রধান আকর্ষণ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুঝুঁকি ও লিবিয়ার ‘গেম ঘরে’ বন্দি বাংলাদেশিরা

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বর্ণাঢ্য আয়োজনে নতুন বছরকে স্বাগত

আপডেট সময় : ০২:৪৩:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ করে নিতে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম সেজেছে এক বর্ণিল সাজে। উৎসবমুখর পরিবেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাচ্ছে সর্বস্তরের মানুষ। নগরীর সিআরবির শিরীষতলা, ডিসি হিল, জিমনেসিয়াম মাঠের বইমেলা, পলোগ্রাউন্ড মাঠ, চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ, মহসীন কলেজ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব, জামালখান এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষ উৎসবে মেতে উঠেছে। ছেলেরা রঙিন পাঞ্জাবি ও লুঙ্গি এবং মেয়েরা শাড়ি ও চুড়ি পরে বৈশাখী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে।

সিআরবির শিরীষতলায় প্রতি বছরের মতো এবারও সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে চলছে বর্ণাঢ্য আয়োজন। ভোরের সূর্যোদয়ের সাথে সাথে বাঁশির সুর ও দলীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। চট্টগ্রামের বিশিষ্ট শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পরিবেশনায় রবীন্দ্র-নজরুল সংগীত এবং লোকজ গানে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ডিসি হিল প্রাঙ্গণেও বৈশাখ উপলক্ষে মানুষের ঢল নেমেছে। ‘বোধন আবৃত্তি পরিষদ’ ও ‘প্রমিথিউস’সহ বিভিন্ন সংগঠনের আবৃত্তি, নাচ এবং গানে চারপাশ মুখরিত। নারী-পুরুষ ও শিশুরা লাল-সাদা পোশাকে সেজে উৎসবে মেতেছেন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নগরীর সার্কিট হাউস থেকে ডিসি হিল পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে করা আল্পনা নগরবাসীর নজর কেড়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের আয়োজনে প্রতি বছর নগরীর বাদশা মিয়া সড়ক থেকে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হতো। তবে চারুকলা ইনস্টিটিউট মূল ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ায় এবার পাহাড়ঘেরা ক্যাম্পাসেই মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণে চারুকলার শিক্ষার্থীরা সেখানে বিশালাকৃতির লোকজ মোটিফ তৈরি করেছে। এর পাশাপাশি বৈশাখী মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকজ খাবারের আয়োজনে মঙ্গলবার সকাল থেকেই ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। চারুকলার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, ‘এখন বৈশাখ মানে শুধু অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি অভিজ্ঞতা। পুরো ক্যাম্পাসই এখন উৎসবের আঙিনা।’ প্রাক্তন শিক্ষার্থী নুর নবী রবিন জানান, আগে চারুকলা ইনস্টিটিউট শহরে থাকায় প্রতি বছর মঙ্গল শোভাযাত্রা নগরীতেই হতো এবং তা ছিল প্রধান আকর্ষণ।