এশিয়া মহাদেশ, মানব সভ্যতার আদিভূমি হিসেবে পরিচিত, যার মাটিতে শত শত সভ্যতার উত্থান-পতন ঘটেছে। এই মহাদেশেই জন্ম নিয়েছেন অগণিত মহাপুরুষ ও ধর্মগুরু, যারা বিশ্বকে নতুন সভ্যতা ও দর্শনের আলো দেখিয়েছেন। ধীরে ধীরে মানব বসতি ও সভ্যতার বিস্তার পশ্চিমের দিকে প্রসারিত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য ও আরবের পাশাপাশি এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন ভূমি হলো দক্ষিণ এশিয়া। এই অঞ্চলেই কেবল প্রাচীন সভ্যতার জন্ম হয়নি, বরং নতুন দর্শন ও চিন্তারও বিকাশ ঘটেছে। বিশ্বের অন্যান্য জাতি, সভ্যতা ও দর্শনের সঙ্গে এখানকার মানুষের মিথস্ক্রিয়া ও আদান-প্রদান বাঙালি জাতিকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে গেছে। বাংলা সনের উৎপত্তি, সংস্কার এবং প্রতিষ্ঠার ইতিহাস এই প্রেক্ষাপটেই পর্যালোচনা করা জরুরি, যা আমাদের ভবিষ্যৎ পথনির্দেশ করতে পারে।
বাংলা সন চালু হওয়ার পূর্বে এই অঞ্চলে শকাব্দ (শককলা), বিক্রম সম্বৎ, গুপ্তকলা, বল্লভকলা, পালাব্দ, হর্ষাব্দ ইত্যাদি বিভিন্ন সন প্রচলিত ছিল। ১৩০০ খ্রিস্টাব্দে মহাবীর বখতিয়ার খিলজির আগমনের পূর্বে বাংলায় লক্ষণ সম্বৎ বা লসং প্রচলিত ছিল, যা সেন বংশের রাজা লক্ষণ সেনের নামে নামকরণ করা হয়েছিল। তবে সাধারণ সন হিসেবে শকাব্দ এবং পাল আমলে পালাব্দ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল।
ঐতিহাসিক আল-বিরুনীর ‘ভারততত্ত্ব’ অনুসারে, হর্ষাব্দ রাজা হর্ষের নামে, বিক্রম সম্বৎ রাজা বিক্রমাদিত্যের নামে, শকাব্দ সকারি বা সালিবাহনের নামে, বল্লভকলা রাজবল্লভের নামে এবং গুপ্তকলা গুপ্ত বংশের প্রবর্তিত ছিল। এই সনগুলো একই সময়ে একই অঞ্চলে প্রচলিত থাকলেও এদের ব্যবহার ও প্রভাব ভিন্ন ছিল।
রিপোর্টারের নাম 





















