ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ‘আলীয়াবাদ খালে’ বর্জ্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নানের উপস্থিতিতে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় খালের পূর্ব অংশ আলীয়াবাদ গোল চত্বর সংলগ্ন সওজের ব্রিজ থেকে এক্সকাভেটর (খননযন্ত্র) দিয়ে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা শুরু হয়। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মাহমুদুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘আলীয়াবাদ খাল’ তিতাস নদীর সাথে সংযুক্ত বুড়ী নদী থেকে শুরু হয়ে ভাটা নদীর সঙ্গে মিশেছে। গৃহস্থালীর বর্জ্য, ময়লা-আবর্জনা সরাসরি খালে ফেলার কারণে খালটি ভরাট হয়ে প্রায় বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। অপরিকল্পিতভাবে খালের মুখ বন্ধ করে পৌরসভার রাস্তা নির্মাণ করায় পানি নিষ্কাশন ও পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়, যা চরম পরিবেশ বিপর্যয় ঘটিয়েছে। বর্জ্য জমে খালের পানি বিষাক্ত হয়ে কালো আকার ধারণ করেছে এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে। খালের দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং পানিবাহিত রোগ দেখা দিচ্ছে। ওই পানি কৃষিজমিতে গিয়ে ফসলেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করছে। রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে খালটি মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, বর্ষাকালে এলাকা প্লাবিত হচ্ছে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বর্জ্য পরিষ্কার ও পানি চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছিলো এলাকাবাসী।
অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান এমপি বলেন, এই খালটি জনগুরুত্বপূর্ণ এবং খালের অস্তিত্ব রক্ষা করতে আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে। খালে ময়লা আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে, তবেই খালের অস্তিত্ব রক্ষা পাবে এবং জনগণ খালের সুফল ভোগ করতে পারবে। তিনি খালের দুই পাশে রেলিং দেওয়াসহ রাস্তা আরও দৈর্ঘ্য করার পরিকল্পনার কথাও জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মাহমুদুল হাসান বলেন, আলীয়াবাদ খালের অস্তিত্ব রক্ষা ও পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে নবীনগর পৌরসভার পক্ষ থেকে সকল ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রিপোর্টারের নাম 
























