ঢাকা ০৩:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

বর্ষবরণে প্রস্তুত দেশ: চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রায় এবার প্রধান আকর্ষণ ‘লাল ঝুঁটির মোরগ’

চৈত্র সংক্রান্তির বিদায়ী ঘণ্টার সঙ্গে সঙ্গেই দুয়ারে কড়া নাড়ছে নতুন বাংলা বছর ১৪৩৩। রাত পোহালেই পহেলা বৈশাখ—বাঙালির প্রাণের উৎসব। শহর থেকে গ্রাম, প্রতিটি জনপদে এখন নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। ঢোলের শব্দ, বাঁশির সুর আর আনন্দ-উচ্ছ্বাসে নতুন এক আবহের অপেক্ষায় সারা দেশ। উৎসবের এই আমেজে এবার রাজধানী ঢাকার চারুকলা অনুষদের মঙ্গল শোভাযাত্রায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ‘লাল ঝুঁটির মোরগ’।

বাঙালির এই সর্বজনীন উৎসবে গ্রামীণ জনপদে থাকে নানা ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। কৃষকরা পুরনো বছরের হিসাব চুকিয়ে হালখাতা খোলেন, নতুন উদ্যমে শুরু করেন চাষাবাদ। অন্যদিকে শহরে বর্ষবরণের রূপ পায় বর্ণিল সাংস্কৃতিক আয়োজনে। এক দিনের জন্য হলেও শহরের মানুষ ফিরে পায় তাদের শিকড়ের টান। পহেলা বৈশাখের খাবারে পান্তা-ইলিশের প্রচলন সাম্প্রতিক সময়ের হলেও, এখন তা এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে পাঁচ তারকা হোটেলগুলোতেও এদিন শুঁটকি ভর্তা, কাঁচা আম ভর্তা, কাঁচকি মাছের চচ্চরি এবং শজনের ডালের মতো দেশীয় খাবারের বিশেষ আয়োজন থাকে।

উৎসবের রঙ ছড়িয়ে পড়ে পোশাকেও। বৈশাখী ফ্যাশনে রঙিন হয়ে ওঠে নারী-পুরুষ ও শিশুরা। দেশের বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসগুলোও বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ঢঙে বাজারে এনেছে নতুন পোশাক। শুধু তাই নয়, সারা দেশে অন্তত ৫০০টি স্থানে বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এসব মেলায় পুতুলনাচ, নৌকাবাইচ, কুস্তি ও লাঠিখেলাসহ নানা লোকজ বিনোদন উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

রাজধানী ঢাকার বর্ষবরণ শুরু হয় রমনার বটমূলে ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী প্রভাতী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে, যা ১৯৬৭ সাল থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলে আসছে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের করা হবে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে এই উৎসব হয়ে ওঠে সম্প্রীতির এক মিলনমেলা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রযুক্তির বিস্ময় আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র: যেভাবে আকাশপথে নিখুঁত লক্ষ্যভেদ করে এই মারণাস্ত্র

বর্ষবরণে প্রস্তুত দেশ: চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রায় এবার প্রধান আকর্ষণ ‘লাল ঝুঁটির মোরগ’

আপডেট সময় : ০২:০০:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

চৈত্র সংক্রান্তির বিদায়ী ঘণ্টার সঙ্গে সঙ্গেই দুয়ারে কড়া নাড়ছে নতুন বাংলা বছর ১৪৩৩। রাত পোহালেই পহেলা বৈশাখ—বাঙালির প্রাণের উৎসব। শহর থেকে গ্রাম, প্রতিটি জনপদে এখন নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। ঢোলের শব্দ, বাঁশির সুর আর আনন্দ-উচ্ছ্বাসে নতুন এক আবহের অপেক্ষায় সারা দেশ। উৎসবের এই আমেজে এবার রাজধানী ঢাকার চারুকলা অনুষদের মঙ্গল শোভাযাত্রায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ‘লাল ঝুঁটির মোরগ’।

বাঙালির এই সর্বজনীন উৎসবে গ্রামীণ জনপদে থাকে নানা ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। কৃষকরা পুরনো বছরের হিসাব চুকিয়ে হালখাতা খোলেন, নতুন উদ্যমে শুরু করেন চাষাবাদ। অন্যদিকে শহরে বর্ষবরণের রূপ পায় বর্ণিল সাংস্কৃতিক আয়োজনে। এক দিনের জন্য হলেও শহরের মানুষ ফিরে পায় তাদের শিকড়ের টান। পহেলা বৈশাখের খাবারে পান্তা-ইলিশের প্রচলন সাম্প্রতিক সময়ের হলেও, এখন তা এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে পাঁচ তারকা হোটেলগুলোতেও এদিন শুঁটকি ভর্তা, কাঁচা আম ভর্তা, কাঁচকি মাছের চচ্চরি এবং শজনের ডালের মতো দেশীয় খাবারের বিশেষ আয়োজন থাকে।

উৎসবের রঙ ছড়িয়ে পড়ে পোশাকেও। বৈশাখী ফ্যাশনে রঙিন হয়ে ওঠে নারী-পুরুষ ও শিশুরা। দেশের বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসগুলোও বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ঢঙে বাজারে এনেছে নতুন পোশাক। শুধু তাই নয়, সারা দেশে অন্তত ৫০০টি স্থানে বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এসব মেলায় পুতুলনাচ, নৌকাবাইচ, কুস্তি ও লাঠিখেলাসহ নানা লোকজ বিনোদন উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

রাজধানী ঢাকার বর্ষবরণ শুরু হয় রমনার বটমূলে ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী প্রভাতী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে, যা ১৯৬৭ সাল থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলে আসছে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের করা হবে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে এই উৎসব হয়ে ওঠে সম্প্রীতির এক মিলনমেলা।