ঢাকা ০৭:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

টিএসসিতে পাঁচ দিনব্যাপী ‘শহীদ ওসমান হাদি স্মৃতি বইমেলা’ শুরু হচ্ছে ১৮ জানুয়ারি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বই ও মুক্তচিন্তার প্রসার এবং শহীদি চেতনাকে সমুন্নত রাখতে আয়োজিত হতে যাচ্ছে ‘শহীদ ওসমান হাদি স্মৃতি বইমেলা-২০২৬’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যৌথ ব্যবস্থাপনায় এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

আগামী ১৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এই মেলা চলবে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন পায়রা চত্বরে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লেখক ফোরামের সভাপতি আশিক খান। তিনি জানান, মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন শহীদ শরিফ ওসমান হাদির ভাই ওমর বিন হাদি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

আয়োজকরা জানান, শহীদ ওসমান হাদি কেবল একটি নাম নয়, বরং তিনি অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে এক আপসহীন সংগ্রামের প্রতীক। ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর যে বলিষ্ঠ অবস্থান ছিল, তা বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের জন্য আলোকবর্তিকা। এই বইমেলার মূল লক্ষ্য হলো ওসমান হাদির আদর্শ ও জীবনসংগ্রামকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা এবং বইকে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।

বইমেলার বিস্তারিত তুলে ধরে জানানো হয়, মেলায় বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রকাশনীর স্টল থাকবে। বই বিক্রির পাশাপাশি প্রতিদিন থাকবে বিশেষ স্মরণসভা, সেমিনার, আলোচনা সভা এবং তরুণ লেখক ও পাঠকদের অংশগ্রহণে মতবিনিময় অনুষ্ঠান। এছাড়া শহীদ ওসমান হাদির জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজনও রাখা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, এই মেলা কেবল একটি বাণিজ্যিক আয়োজন নয়, বরং এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের একটি মঞ্চ। শহীদ ওসমান হাদির শুরু করা সেই সাংস্কৃতিক লড়াইকে বেগবান করতেই প্রতিবছর ধারাবাহিকভাবে এই বইমেলা আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবিদ হাসান রাফিসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। আয়োজকরা আশা করছেন, এই বইমেলা শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুক্তচিন্তার বিকাশ ও ন্যায়বিচারের পক্ষে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসলামী ব্যাংকের বার্ষিক ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলন সম্পন্ন: নতুন কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়

টিএসসিতে পাঁচ দিনব্যাপী ‘শহীদ ওসমান হাদি স্মৃতি বইমেলা’ শুরু হচ্ছে ১৮ জানুয়ারি

আপডেট সময় : ০৪:০৫:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বই ও মুক্তচিন্তার প্রসার এবং শহীদি চেতনাকে সমুন্নত রাখতে আয়োজিত হতে যাচ্ছে ‘শহীদ ওসমান হাদি স্মৃতি বইমেলা-২০২৬’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যৌথ ব্যবস্থাপনায় এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

আগামী ১৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এই মেলা চলবে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন পায়রা চত্বরে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লেখক ফোরামের সভাপতি আশিক খান। তিনি জানান, মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন শহীদ শরিফ ওসমান হাদির ভাই ওমর বিন হাদি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

আয়োজকরা জানান, শহীদ ওসমান হাদি কেবল একটি নাম নয়, বরং তিনি অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে এক আপসহীন সংগ্রামের প্রতীক। ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর যে বলিষ্ঠ অবস্থান ছিল, তা বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের জন্য আলোকবর্তিকা। এই বইমেলার মূল লক্ষ্য হলো ওসমান হাদির আদর্শ ও জীবনসংগ্রামকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা এবং বইকে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।

বইমেলার বিস্তারিত তুলে ধরে জানানো হয়, মেলায় বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রকাশনীর স্টল থাকবে। বই বিক্রির পাশাপাশি প্রতিদিন থাকবে বিশেষ স্মরণসভা, সেমিনার, আলোচনা সভা এবং তরুণ লেখক ও পাঠকদের অংশগ্রহণে মতবিনিময় অনুষ্ঠান। এছাড়া শহীদ ওসমান হাদির জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজনও রাখা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, এই মেলা কেবল একটি বাণিজ্যিক আয়োজন নয়, বরং এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের একটি মঞ্চ। শহীদ ওসমান হাদির শুরু করা সেই সাংস্কৃতিক লড়াইকে বেগবান করতেই প্রতিবছর ধারাবাহিকভাবে এই বইমেলা আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবিদ হাসান রাফিসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। আয়োজকরা আশা করছেন, এই বইমেলা শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুক্তচিন্তার বিকাশ ও ন্যায়বিচারের পক্ষে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।