আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপপ্রচার ও ভুয়া তথ্য মোকাবিলাই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি দেশের প্রতিটি সংবাদপত্র, টেলিভিশন এবং অনলাইন মিডিয়াকে এই অপশক্তি মোকাবিলায় নিজস্ব ‘ফ্যাক্ট-চেক ইউনিট’ বা তথ্য যাচাই বিভাগ চালুর জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে গণমাধ্যমের এই সামাজিক ও পেশাদার দায়িত্ব পালন করা এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল আলম জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে বৈঠকেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপপ্রচার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপপ্রচারকারীরা অত্যন্ত সংঘবদ্ধ এবং তারা বারবার পরিচয় পরিবর্তন করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, যা মোকাবিলা করা অত্যন্ত জটিল কাজ।
শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশে ফেসবুক ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বিপুল হওয়ায় সরকারের একক প্রচেষ্টায় সব ভুয়া খবর তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব। মেটা বা টিকটকের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে অনেক সময় দ্রুত সাড়া পাওয়া যায় না, ফলে একটি বিভ্রান্তিকর তথ্য মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জনমনে ব্যাপক অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। সম্প্রতি শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাইরে থেকে কিছু ইনফ্লুয়েন্সারের উসকানিমূলক ভূমিকা এবং পরবর্তী সহিংস পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় এ ধরনের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইসিটি ডিভিশন এবং বিটিআরসি সার্বক্ষণিক নজরদারি চালালেও গণমাধ্যমের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এই ‘ডিজিটাল যুদ্ধ’ জয় করা সম্ভব নয়। প্রেস সচিব জানান, প্রধান উপদেষ্টার অফিশিয়াল পেজ থেকে নিয়মিত ‘ফ্যাক্ট-চেক অ্যালার্ট’ দেওয়া হচ্ছে। তিনি সংবাদমাধ্যমগুলোকে অনুরোধ করেন, তারা যেন কোনো তথ্য বা ‘ফটোকার্ড’ প্রচারের আগে তার সত্যতা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী নিজস্ব যাচাই ব্যবস্থা গড়ে তোলে। এটি শুধুমাত্র গুজব প্রতিরোধ করবে না, বরং মূলধারার গণমাধ্যমের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
নির্বাচনী নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করে শফিকুল আলম বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৮০ শতাংশ সদস্যের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ অ্যাপ তৈরি করছে, যার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও সিসিটিভি ক্যামেরার লাইভ ফিড মনিটর করা হবে। দুর্গাপূজার সময় ৩২ হাজার মণ্ডপে এই প্রযুক্তির সফল ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে র্যাপিড রেসপন্স টিম তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে সক্ষম হবে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং সচেতন সাংবাদিকতার মাধ্যমেই একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রিপোর্টারের নাম 
























