ঢাকা ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

কাশ্মীরে ভিপিএন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা: পেশাগত সংকটে আইটি কর্মীরা, জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ

নিরাপত্তার অজুহাতে ভারত শাসিত কাশ্মীরে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের পেশাজীবীরা। বিশেষ করে যারা সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে কাজ করেন, তাদের পেশাগত সুরক্ষা এখন হুমকির মুখে।

ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনে শহরভিত্তিক একটি আইটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাসিত বান্দে এমনই একজন ভুক্তভোগী। তার প্রাত্যহিক কাজের বড় একটি অংশ জুড়ে থাকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টের সংবেদনশীল স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সাইবার আক্রমণ থেকে এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রক্ষা করতে এবং ডাটা ব্রিচ বা তথ্য ফাঁস রোধে তাকে সার্বক্ষণিক নিরাপদ ভিপিএন-এর ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু কাশ্মীরে ভিপিএন ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ থাকায় তিনি তার দায়িত্ব পালন নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

বাসিত জানান, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নিরাপত্তার খাতিরে ভিপিএন অপরিহার্য। এটি ছাড়া আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা প্রটোকল বজায় রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান পরিস্থিতিতে কেবল পেশাগত উৎকণ্ঠাই নয়, বরং এক ধরনের মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন তিনি।

কাশ্মীরের সাধারণ বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে ডিজিটাল যোগাযোগের এই গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমটি বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সার, শিক্ষার্থী এবং অনলাইনভিত্তিক ব্যবসায়ীরা এই সিদ্ধান্তের ফলে অর্থনৈতিক ও কারিগরিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক বিশ্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যেখানে ভিপিএন-এর ব্যবহার বাড়ছে, সেখানে এমন নিষেধাজ্ঞা এই অঞ্চলের উদীয়মান আইটি খাতকে পিছিয়ে দিতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ইন্টারনেট সেবায় এই ধরনের সীমাবদ্ধতা কাশ্মীরের আইটি পেশাজীবীদের ক্যারিয়ার ও সাধারণ মানুষের মৌলিক ডিজিটাল অধিকারের ক্ষেত্রে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইসিসির নিরাপত্তা উদ্বেগ: ক্রীড়া উপদেষ্টার বক্তব্যের ভিন্ন ব্যাখ্যা দিলেন উপ-প্রেসসচিব

কাশ্মীরে ভিপিএন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা: পেশাগত সংকটে আইটি কর্মীরা, জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০৪:২৯:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

নিরাপত্তার অজুহাতে ভারত শাসিত কাশ্মীরে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের পেশাজীবীরা। বিশেষ করে যারা সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে কাজ করেন, তাদের পেশাগত সুরক্ষা এখন হুমকির মুখে।

ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনে শহরভিত্তিক একটি আইটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাসিত বান্দে এমনই একজন ভুক্তভোগী। তার প্রাত্যহিক কাজের বড় একটি অংশ জুড়ে থাকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টের সংবেদনশীল স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সাইবার আক্রমণ থেকে এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রক্ষা করতে এবং ডাটা ব্রিচ বা তথ্য ফাঁস রোধে তাকে সার্বক্ষণিক নিরাপদ ভিপিএন-এর ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু কাশ্মীরে ভিপিএন ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ থাকায় তিনি তার দায়িত্ব পালন নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

বাসিত জানান, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নিরাপত্তার খাতিরে ভিপিএন অপরিহার্য। এটি ছাড়া আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা প্রটোকল বজায় রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান পরিস্থিতিতে কেবল পেশাগত উৎকণ্ঠাই নয়, বরং এক ধরনের মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন তিনি।

কাশ্মীরের সাধারণ বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে ডিজিটাল যোগাযোগের এই গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমটি বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সার, শিক্ষার্থী এবং অনলাইনভিত্তিক ব্যবসায়ীরা এই সিদ্ধান্তের ফলে অর্থনৈতিক ও কারিগরিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক বিশ্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যেখানে ভিপিএন-এর ব্যবহার বাড়ছে, সেখানে এমন নিষেধাজ্ঞা এই অঞ্চলের উদীয়মান আইটি খাতকে পিছিয়ে দিতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ইন্টারনেট সেবায় এই ধরনের সীমাবদ্ধতা কাশ্মীরের আইটি পেশাজীবীদের ক্যারিয়ার ও সাধারণ মানুষের মৌলিক ডিজিটাল অধিকারের ক্ষেত্রে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।