সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের সাথে বানোয়াট সম্পর্ক দাবি করে মিডিয়া জগতে ব্যাপক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে এশিয়ান টিভির প্রধান প্রতিবেদক আব্দুল বাতেন বিপ্লবের বিরুদ্ধে। জানা যায়, তিনি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে “শ্বশুর” হিসেবে পরিচয় দিয়ে একটি শক্তিশালী প্রতারণার বলয় তৈরি করেন। এই বানোয়াট পরিচয় ব্যবহার করে তিনি আর্থিক সুবিধা গ্রহণসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত ছিলেন বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বিস্ময়করভাবে, এসব অভিযোগ সত্ত্বেও তিনি বর্তমানে তার কর্মস্থলে বহাল তবিয়তে কর্মরত আছেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, আব্দুল বাতেন বিপ্লব তার কন্যার সাথে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের একটি ছবি ফেসবুকে প্রচার করেন, যেখানে তিনি “নানার কোলে নাতনি” ক্যাপশন ব্যবহার করেন। অভিযোগ রয়েছে, মূলত এই ছবিকেই পুঁজি করে বাতেন বিপ্লব সাবেক মন্ত্রীকে তার “শ্বশুর” হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। এই বানোয়াট পরিচয়ের সুবাদে তিনি বিগত সরকারের সময় মিডিয়া জগতে ব্যাপক দাপট দেখিয়েছেন এবং নানাবিধ অনৈতিক সুবিধা ভোগ করেছেন বলে জানা যায়।

আব্দুল বাতেন বিপ্লব একজন অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী ব্যক্তি, যিনি সাংবাদিকতার পেশাগত পরিচয়ের আড়ালে নিজের ব্যক্তিগত প্রভাব বলয় তৈরিতে সর্বদা তৎপর। তার এই নেটওয়ার্ক বহুমাত্রিক।
তিনি আওয়ামী পন্থী হিসেবে পরিচিত এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, ব্যারিস্টার সুমন এবং ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হালিমা আক্তার লাবণ্যর মতো ক্ষমতা কেন্দ্রের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সাথে সখ্যতা বজায় রাখতেন।




তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত রাজনীতিতেও সক্রিয়। রংপুর বিভাগ সাংবাদিক সমিতি, ঢাকার (আরডিজেএ) ২০২২-২৩ মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক এবং ২০২৫-২৬ মেয়াদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ছোঁয়া ফাউন্ডেশন’-এর সাথেও জড়িত, যেখানে তিনি ২০২১-২০২৩ মেয়াদের জন্য ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাতেন বিপ্লব একাধারে পেশাগত সংগঠন, সামাজিক সংস্থা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা কেন্দ্রের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বানোয়াট পারিবারিক সম্পর্ক তৈরি করে তা থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগ, তার চরিত্রের সুবিধাবাদী ও প্রতারণামূলক দিকটিই উন্মোচন করে।

জানা যায়, তিনি এমন একজন সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি, যিনি মিডিয়া জগতে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে এবং আর্থিক বা অন্যবিধ সুবিধা আদায়ে যেকোনো ধরনের পরিচয় ব্যবহার করতে পারেন।
রিপোর্টারের নাম 






















