আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ তুলেছেন চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীর সাবেক স্ত্রী ও আইনজীবী রিজওয়ানা ইউসুফ। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনাল গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকির বিষয়টিও আদালতের নজরে এনেছেন তিনি।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
শুনানি চলাকালে আইনজীবী রিজওয়ানা ইউসুফ আদালতকে জানান, চট্টগ্রামে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামসহ দেশের প্রথিতযশা আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। সেই অনুষ্ঠানের একটি ছবি বিকৃতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করা হচ্ছে যে, সাবেক এমপি ফজলে করিমের জামিনের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে তাঁর একটি গোপন সমঝোতা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁকে এবং চিফ প্রসিকিউটরকে জড়িয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও কুৎসা রটানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত মানহানিকর।
আদালতে তিনি আরও অভিযোগ করেন, রেজাউল করিম নামে এক এনসিপি নেতা চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে হুমকি দিয়েছেন যে, তাঁদের ইচ্ছেমতো রায় না হলে ট্রাইব্যুনাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। এ ধরনের হুমকি ও অপপ্রচারের ফলে বিচারিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের মন্তব্য জানতে চাইলে প্রসিকিউটর তামীম জানান, তাঁরাও এ ধরনের অপপ্রচারের বিষয়ে অবগত এবং এটি প্রসিকিউশন ও ট্রাইব্যুনালের জন্য বিব্রতকর। এ পর্যায়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ মন্তব্য করেন, “বিচারব্যবস্থাকে এভাবে বাধাগ্রস্ত করা হলে রাষ্ট্র টিকে থাকবে কীভাবে? বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা করা জরুরি।” ট্রাইব্যুনাল অভিযোগকারীকে নির্দেশ দেন যেন অভিযুক্তদের নাম-পরিচয়সহ একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়, যাতে আদালত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।
এদিকে, ফজলে করিম চৌধুরীর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে আট সপ্তাহ সময় চাওয়া হলে আদালত আগামী ১৬ মার্চ পরবর্তী দিন ধার্য করেন। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী রিজওয়ানা ইউসুফ তাঁর মক্কেলের শারীরিক অবস্থার উন্নতির কথা জানিয়ে নিরাপত্তাজনিত কারণে কারা হাসপাতালেই যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার আবেদন জানান। এর আগে তাঁকে হাসপাতালের বাইরে চিকিৎসা দেওয়ার আবেদন করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় সেই আবেদনটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
রিপোর্টারের নাম 
























