ফেনী জেনারেল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) রান্না করার মতো গুরুতর অভিযোগের তদন্তে দুই সিনিয়র স্টাফ নার্সকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এই ঘটনাটি জনস্বাস্থ্য, রোগীর নিরাপত্তা এবং নার্সিং পেশার ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া নার্সরা হলেন নার্সিং সুপারভাইজার কল্পনা রানী মন্ডল এবং সিনিয়র স্টাফ নার্স রানী বালা হালদার।
আদেশে উল্লেখ করা হয় যে, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল, ফেনীর লেবার ওয়ার্ডের অপারেশন থিয়েটারের অভ্যন্তরে গ্যাসের চুলায় রান্না করার মতো চরম দায়িত্বহীন, শৃঙ্খলাবিরোধী ও অগ্রহণযোগ্য কর্মকাণ্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত হয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়।
কর্তৃপক্ষের মতে, এই কর্মকাণ্ড হাসপাতালের অত্যন্ত সংবেদনশীল অপারেশন থিয়েটারের পরিবেশ, রোগীর নিরাপত্তা এবং জনস্বাস্থ্য সংরক্ষণের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। এর ফলে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ও নার্সিং পেশার পেশাগত মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত সেবা তত্ত্বাবধায়ক ও সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে অপারেশন থিয়েটারের সার্বিক শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও পেশাগত মান রক্ষার দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও কল্পনা রানী মন্ডল ও রানী বালা হালদার এই অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর তদারকি, নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং এটি সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৩ (খ) এবং বিধি ১২ (১) অনুযায়ী, এই মামলার সুষ্ঠু নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আদেশ জারির তারিখ থেকে কল্পনা রানী মন্ডল ও রানী বালা হালদারকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। তবে, বিধি মোতাবেক তারা খোরপোষ ভাতা প্রাপ্ত হবেন বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বরখাস্তের আদেশের কপি তারা পেয়েছেন এবং পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া, গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে গ্যাসের চুলায় রান্নাবান্না, অবাধ যাতায়াত এবং সামগ্রিক শৃঙ্খলাহীনতার কারণে প্রসূতি মা ও নবজাতকদের সংক্রমণের উচ্চঝুঁকি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
রিপোর্টারের নাম 






















