ঢাকা ০৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

রামগঞ্জে পুকুরে বিষ প্রয়োগে ২০ লাখ টাকার মাছ নিধন: দিশেহারা মৎস্য চাষি

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে একটি মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ২০ লাখ টাকার মাছ নিধন করেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। সোমবার (২৫ নভেম্বর) ভোরে উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে এ বর্বরোচিত ঘটনাটি জানাজানি হয়। এতে সর্বস্ব হারিয়ে চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী মৎস্য চাষি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষ্ণুপুর গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী মোফাজ্জল হোসেন দীর্ঘ দিন ধরে ওই ঘেরে মাছ চাষ করে আসছিলেন। প্রতিদিনের মতো রোববার রাতেও তিনি ঘেরটি দেখাশোনা করে বাড়ি ফেরেন। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো এক সময় সুযোগ বুঝে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে ঘেরের পানিতে বিষাক্ত দ্রব্য প্রয়োগ করে পালিয়ে যায়। সোমবার ভোরে মোফাজ্জল হোসেন ঘেরে গিয়ে দেখতে পান রুই, কাতলা, তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির বিপুল পরিমাণ মাছ মরে পানির ওপর ভেসে রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষি মোফাজ্জল হোসেন কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, এই ঘেরের আয়ের ওপরই তার পুরো পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হতো। ধারদেনা ও কঠোর পরিশ্রম করে তিনি মাছগুলো বড় করেছিলেন। এক রাতের ব্যবধানে দুর্বৃত্তদের দেওয়া বিষে তার স্বপ্ন ও বিনিয়োগ সব শেষ হয়ে গেছে। এতে তার অন্তত ২০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে রামগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, বিষ প্রয়োগে মাছ নিধনের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। খবর পাওয়ার পর মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগী চাষি লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আইনি পরামর্শ দেওয়া হবে।

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, বিষ দিয়ে মাছ নিধনের বিষয়ে এখনো পুলিশের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রামগঞ্জে পুকুরে বিষ প্রয়োগে ২০ লাখ টাকার মাছ নিধন: দিশেহারা মৎস্য চাষি

আপডেট সময় : ০২:২৯:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে একটি মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ২০ লাখ টাকার মাছ নিধন করেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। সোমবার (২৫ নভেম্বর) ভোরে উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে এ বর্বরোচিত ঘটনাটি জানাজানি হয়। এতে সর্বস্ব হারিয়ে চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী মৎস্য চাষি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষ্ণুপুর গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী মোফাজ্জল হোসেন দীর্ঘ দিন ধরে ওই ঘেরে মাছ চাষ করে আসছিলেন। প্রতিদিনের মতো রোববার রাতেও তিনি ঘেরটি দেখাশোনা করে বাড়ি ফেরেন। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো এক সময় সুযোগ বুঝে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে ঘেরের পানিতে বিষাক্ত দ্রব্য প্রয়োগ করে পালিয়ে যায়। সোমবার ভোরে মোফাজ্জল হোসেন ঘেরে গিয়ে দেখতে পান রুই, কাতলা, তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির বিপুল পরিমাণ মাছ মরে পানির ওপর ভেসে রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষি মোফাজ্জল হোসেন কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, এই ঘেরের আয়ের ওপরই তার পুরো পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হতো। ধারদেনা ও কঠোর পরিশ্রম করে তিনি মাছগুলো বড় করেছিলেন। এক রাতের ব্যবধানে দুর্বৃত্তদের দেওয়া বিষে তার স্বপ্ন ও বিনিয়োগ সব শেষ হয়ে গেছে। এতে তার অন্তত ২০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে রামগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, বিষ প্রয়োগে মাছ নিধনের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। খবর পাওয়ার পর মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগী চাষি লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আইনি পরামর্শ দেওয়া হবে।

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, বিষ দিয়ে মাছ নিধনের বিষয়ে এখনো পুলিশের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।