বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের পূর্ণাঙ্গ ভিত্তি রচনার লক্ষ্যে গণভোট আয়োজনকে অপরিহার্য বলে অভিহিত করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, এই ভোট কেবল আগামী কয়েক বছরের জন্য নয়, বরং এটি আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ও টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পথ সুগম করবে।
সোমবার বেলা ১১টায় রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গণভোটের প্রচার এবং ভোটারদের উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতিমালা এবং বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে জনম্যান্ডেট বা জনগণের প্রত্যক্ষ মতামত গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নেই গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে সবাইকে গণভোটে অংশগ্রহণ করে ‘হ্যাঁ’ সূচক মতামত প্রদানের আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক ঐকমত্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত থাকতে পারে, তবে গণভোট আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দেশের কোনো রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে দ্বিমত নেই। সব দলই জনগণের প্রত্যক্ষ মতামতের এই ঐতিহাসিক সুযোগকে স্বাগত জানিয়েছে।
দীর্ঘদিনের ভোটাধিকার হরণের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, এ দেশের সাধারণ মানুষ ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে থাকলেও অতীতে সেই পরিবেশ বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই গণতান্ত্রিক পরিবেশকে পূর্ণাঙ্গরূপে ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক কাঠামো নিয়ে যে রায় দেবে, ভবিষ্যৎ সরকার ও প্রতিটি প্রতিষ্ঠান সেই ইচ্ছা অনুযায়ী পরিচালিত হতে দায়বদ্ধ থাকবে।
রিপোর্টারের নাম 






















