ঢাকা ০২:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

নামাজের ভুলত্রুটি সংশোধনে সাহু সিজদার নিয়ম ও পদ্ধতি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৭:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩২ বার পড়া হয়েছে

ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে নামাজে কোনো ভুলত্রুটি হলে তা সংশোধনের জন্য সাহু সিজদা করার নিয়ম রয়েছে। সাহু সিজদা মূলত নামাজ ত্রুটিমুক্ত করে তাকে বিশুদ্ধ করে তোলে।

সাহু সিজদা কী?

ইসলামি পরিভাষায় সাহু সিজদা হলো— কোনো কারণে নামাজে ত্রুটি হলে, নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ার পর শুধু ডান দিকে সালাম ফিরিয়ে অতিরিক্ত দুটি সিজদা করা। এই দুটি সিজদা সম্পন্ন করার পর আবার তাশাহহুদ পড়তে হয়, তারপর দরুদ ও দোয়ায়ে মাসুরা পড়ে ডান ও বাম দিকে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নামাজের ভুলগুলো সংশোধিত হয়।

সাহু সিজদার সঠিক পদ্ধতি

যে নামাজে সাহু সিজদা ওয়াজিব হওয়ার মতো ভুল হয়েছে, সেই নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ার পর কেবল ডান দিকে সালাম ফেরাতে হবে। এরপর বসা অবস্থা থেকেই তাকবির বলে সিজদায় যেতে হবে। নামাজের সাধারণ সিজদার মতোই তাসবিহ পড়ে সিজদা সম্পন্ন করে তাকবির বলে উঠে বসতে হবে। এরপর আবার তাকবির বলে দ্বিতীয় সিজদায় যেতে হবে এবং তা সম্পন্ন করে তাকবির বলে উঠে বসতে হবে। এরপর তাশাহহুদ, দরুদ এবং দোয়ায়ে মাসুরা পড়ে উভয় দিকে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে।

এই নিয়ম সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবনে বুহাইনাহ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে বলা হয়েছে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদিন জোহরের নামাজে দুই রাকাতের পর বৈঠক না করেই দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন। নামাজ শেষ করার পর তিনি দুটি সিজদা করেন, তারপর সালাম ফেরান। (সহিহ বুখারি: ১২২৫)।

মৌলিকভাবে পাঁচ ধরনের ভুল হলে নামাজে সাহু সিজদা দিতে হয়। সেগুলো হলো:

১. নামাজে কোনো ওয়াজিব আমল যদি ভুলক্রমে বাদ পড়ে যায়, তবে সাহু সিজদা করতে হয়। যেমন— দুই রাকাতের পর বসে তাশাহহুদ পড়া ওয়াজিব, কেউ ভুল করে না বসলে সাহু সিজদা দিতে হবে।

২. নামাজের কোনো ফরজ কাজ যদি ভুলক্রমে দুইবার আদায় করা হয়, তাহলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়। উদাহরণস্বরূপ, প্রতি রাকাতে একবার রুকু করতে হয়, কেউ ভুল করে দুইবার রুকু করলে বা তিনবার সিজদা করলে সাহু সিজদা দিতে হবে।

৩. নামাজে কোনো ওয়াজিব কাজের ধরন পরিবর্তন করলে সাহু সিজদা দিতে হয়। যেমন— জোহর ও আসরের নামাজে কেরাত আস্তে পড়া ওয়াজিব। কেউ ভুল করে এই দুই ওয়াক্তের নামাজে কেরাত জোরে পড়লে সাহু সিজদা দিতে হয়।

৪. কোনো ফরজ বা ওয়াজিব আমল তার নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে বেশি দেরিতে আদায় করা হলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়। যেমন— তৃতীয় রাকাতের সিজদার পর কিয়াম করা বা দাঁড়ানো ওয়াজিব।

৫.কেউ যদি সিজদার পর বসে থাকে এবং তিন তাসবিহ পড়তে যে পরিমাণ সময় লাগে, তার চেয়ে বেশি সময় বসে থাকলে কিয়াম করতে দেরি হওয়ার কারণে সাহু সিজদা দিতে হয়।

নামাজে এই ভুলগুলো হয়ে গেলে যদি সাহু সিজদা দেওয়া হয়, তবে এর মাধ্যমে ভুলগুলোর প্রতিবিধান হয় এবং নামাজ বিশুদ্ধ হয়ে যায়। তবে সাহু সিজদা আদায় না করলে ওই ত্রুটিযুক্ত নামাজটি আবার পড়ে নেওয়া ওয়াজিব।

এখানে মনে রাখা জরুরি যে, যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজের কোনো ওয়াজিব আমল ছেড়ে দেয় বা এই ধরনের ত্রুটি করে, তবে সাহু সিজদার মাধ্যমে তার নামাজ শুদ্ধ হবে না। বরং এর জন্য গুনাহগার হতে হবে এবং ওই নামাজ পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তৈরি পোশাক রপ্তানিতে মন্দা: ঝুঁকির মুখে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান

নামাজের ভুলত্রুটি সংশোধনে সাহু সিজদার নিয়ম ও পদ্ধতি

আপডেট সময় : ১১:৩৭:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫

ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে নামাজে কোনো ভুলত্রুটি হলে তা সংশোধনের জন্য সাহু সিজদা করার নিয়ম রয়েছে। সাহু সিজদা মূলত নামাজ ত্রুটিমুক্ত করে তাকে বিশুদ্ধ করে তোলে।

সাহু সিজদা কী?

ইসলামি পরিভাষায় সাহু সিজদা হলো— কোনো কারণে নামাজে ত্রুটি হলে, নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ার পর শুধু ডান দিকে সালাম ফিরিয়ে অতিরিক্ত দুটি সিজদা করা। এই দুটি সিজদা সম্পন্ন করার পর আবার তাশাহহুদ পড়তে হয়, তারপর দরুদ ও দোয়ায়ে মাসুরা পড়ে ডান ও বাম দিকে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নামাজের ভুলগুলো সংশোধিত হয়।

সাহু সিজদার সঠিক পদ্ধতি

যে নামাজে সাহু সিজদা ওয়াজিব হওয়ার মতো ভুল হয়েছে, সেই নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ার পর কেবল ডান দিকে সালাম ফেরাতে হবে। এরপর বসা অবস্থা থেকেই তাকবির বলে সিজদায় যেতে হবে। নামাজের সাধারণ সিজদার মতোই তাসবিহ পড়ে সিজদা সম্পন্ন করে তাকবির বলে উঠে বসতে হবে। এরপর আবার তাকবির বলে দ্বিতীয় সিজদায় যেতে হবে এবং তা সম্পন্ন করে তাকবির বলে উঠে বসতে হবে। এরপর তাশাহহুদ, দরুদ এবং দোয়ায়ে মাসুরা পড়ে উভয় দিকে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে।

এই নিয়ম সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবনে বুহাইনাহ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে বলা হয়েছে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদিন জোহরের নামাজে দুই রাকাতের পর বৈঠক না করেই দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন। নামাজ শেষ করার পর তিনি দুটি সিজদা করেন, তারপর সালাম ফেরান। (সহিহ বুখারি: ১২২৫)।

মৌলিকভাবে পাঁচ ধরনের ভুল হলে নামাজে সাহু সিজদা দিতে হয়। সেগুলো হলো:

১. নামাজে কোনো ওয়াজিব আমল যদি ভুলক্রমে বাদ পড়ে যায়, তবে সাহু সিজদা করতে হয়। যেমন— দুই রাকাতের পর বসে তাশাহহুদ পড়া ওয়াজিব, কেউ ভুল করে না বসলে সাহু সিজদা দিতে হবে।

২. নামাজের কোনো ফরজ কাজ যদি ভুলক্রমে দুইবার আদায় করা হয়, তাহলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়। উদাহরণস্বরূপ, প্রতি রাকাতে একবার রুকু করতে হয়, কেউ ভুল করে দুইবার রুকু করলে বা তিনবার সিজদা করলে সাহু সিজদা দিতে হবে।

৩. নামাজে কোনো ওয়াজিব কাজের ধরন পরিবর্তন করলে সাহু সিজদা দিতে হয়। যেমন— জোহর ও আসরের নামাজে কেরাত আস্তে পড়া ওয়াজিব। কেউ ভুল করে এই দুই ওয়াক্তের নামাজে কেরাত জোরে পড়লে সাহু সিজদা দিতে হয়।

৪. কোনো ফরজ বা ওয়াজিব আমল তার নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে বেশি দেরিতে আদায় করা হলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়। যেমন— তৃতীয় রাকাতের সিজদার পর কিয়াম করা বা দাঁড়ানো ওয়াজিব।

৫.কেউ যদি সিজদার পর বসে থাকে এবং তিন তাসবিহ পড়তে যে পরিমাণ সময় লাগে, তার চেয়ে বেশি সময় বসে থাকলে কিয়াম করতে দেরি হওয়ার কারণে সাহু সিজদা দিতে হয়।

নামাজে এই ভুলগুলো হয়ে গেলে যদি সাহু সিজদা দেওয়া হয়, তবে এর মাধ্যমে ভুলগুলোর প্রতিবিধান হয় এবং নামাজ বিশুদ্ধ হয়ে যায়। তবে সাহু সিজদা আদায় না করলে ওই ত্রুটিযুক্ত নামাজটি আবার পড়ে নেওয়া ওয়াজিব।

এখানে মনে রাখা জরুরি যে, যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজের কোনো ওয়াজিব আমল ছেড়ে দেয় বা এই ধরনের ত্রুটি করে, তবে সাহু সিজদার মাধ্যমে তার নামাজ শুদ্ধ হবে না। বরং এর জন্য গুনাহগার হতে হবে এবং ওই নামাজ পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব হবে।