আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শতাধিক আসনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছে বিএনপি। এই সংকট নিরসনে খোদ দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ হাইকমান্ড সরাসরি হস্তক্ষেপ শুরু করেছেন। প্রাথমিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আজীবন বহিষ্কারের মতো কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
শতাধিক আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন বিএনপির স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা। বিশেষ করে দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন এমন প্রার্থীদের আসনে বিদ্রোহের দানা বেশি তীব্র হয়েছে। ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় পর্যন্ত বিদ্রোহীদের বসিয়ে দেওয়ার সর্বোচ্চ কৌশল প্রয়োগ করবে দলটির নীতিনির্ধারকরা।
মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির সাবেক সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা বহিষ্কৃত হওয়ার পরও স্বতন্ত্র অবস্থানে অনড় রয়েছেন। অথচ এই আসনে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে। একইভাবে নড়াইল-২ আসনে এনপিপি থেকে আগত ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ধানের শীষের প্রার্থী হলেও তাঁর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম।
এছাড়া কুমিল্লা-৭ আসনে ড. রেদোয়ান আহমেদ, ঝিনাইদহ-৪ আসনে রাশেদ খান এবং ঢাকা-১২ আসনে সাইফুল হকের মতো নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন। পটুয়াখালী-৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ এবং ঢাকা মহানগর উত্তরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আসনেও বিদ্রোহী প্রার্থীরা দলের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলা প্রতিটি নেতাকর্মীর নৈতিক দায়িত্ব এবং দলের কাছে যোগ্য প্রার্থীর অভাব নেই।
এদিকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা শরিক দল ও জোটের নেতারাও এই বিদ্রোহ নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক জানিয়েছেন, বিএনপির হাইকমান্ডের সঙ্গে তাঁদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং আশা করা যাচ্ছে আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে অনেক আসন থেকে বিদ্রোহী প্রার্থীরা মনোনয়ন সরিয়ে নেবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমার মধ্যে বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণ করে অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখতে না পারলে ভোটের মাঠে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
রিপোর্টারের নাম 






















