ঢাকা ০৩:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

নেপালকে ‘বাংলাদেশ’ হতে দেব না: কাঠমাণ্ডুতে সুশীলা কারকির কড়া হুঁশিয়ারি

নেপালকে কোনোভাবেই বাংলাদেশের বর্তমান অস্থিতিশীল ও সংঘাতময় পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কারকি। কাঠমাণ্ডুতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেওয়া আবেগঘন বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেন যে, নেপালের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা রক্ষা করাই তার প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান সরকারের ওপর রাজনৈতিক দলগুলোর ক্রমাগত হুমকি এবং জেন-জি তরুণ প্রজন্মের অবাস্তব চাপের কঠোর সমালোচনা করেছেন।

সুশীলা কারকি তার সরকারকে একটি ‘আকস্মিক ঝড়ের’ সঙ্গে তুলনা করে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিদিন সরকার ছাড়ার হুমকি দিয়ে পরিবেশ ঘোলাটে করছে এবং সুপরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। জেন-জি বা বর্তমান তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে প্রায় প্রতিদিনই সরকারের পদত্যাগ দাবি করছে, তাকে তিনি দায়িত্বশীলদের প্রতি চরম অপমানজনক আচরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারকে কাজ করার ন্যূনতম সুযোগ দেওয়ার বদলে প্রতিনিয়ত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও গালিগালাজের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তিনি নিজেকে এবং তার প্রশাসনকে একটি ‘পেন্ডুলাম’ পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করে বলেন, সব বাধা, সমালোচনা ও ব্যক্তিগত অপমান সহ্য করেও তারা পরম ধৈর্যের সঙ্গে রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন তরুণের একেকজন একেক ধরনের দাবি নিয়ে আসার কারণে সরকার যেখানেই যাচ্ছে সেখানেই অশান্তির সম্মুখীন হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বর্তমান তরুণদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে অনীহা এবং ক্রমবর্ধমান হতাশা নেপালের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

বক্তব্যের একপর্যায়ে সুশীলা কারকি প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের বর্তমান অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির সরাসরি উদাহরণ টেনে বলেন, নেপালকে কোনোভাবেই সেই অনিশ্চিত পথে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা তার নেই। তিনি অত্যন্ত জোরালো ও পরিষ্কার ভাষায় বলেন যে, তারা নেপালকে কোনোভাবেই বাংলাদেশ হতে দেবেন না এবং তারা এমন অরাজক পরিস্থিতি মোটেও চান না। সরকারের ওপর সৃষ্টি হওয়া প্রচণ্ড মানসিক ও রাজনৈতিক চাপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে এমন এক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে প্রশাসন চলছে যেখানে জনসমক্ষে কোথাও গিয়েও শান্তি বা স্বস্তি পাওয়ার উপায় নেই। এই কঠিন বাস্তবতা ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জগুলো যথাযথভাবে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে তিনি উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

এলপিজি আমদানিতে বিশেষ ঋণসুবিধা: ২৭০ দিন পর্যন্ত বাকিতে আনার সুযোগ

নেপালকে ‘বাংলাদেশ’ হতে দেব না: কাঠমাণ্ডুতে সুশীলা কারকির কড়া হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় : ০১:৫০:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

নেপালকে কোনোভাবেই বাংলাদেশের বর্তমান অস্থিতিশীল ও সংঘাতময় পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কারকি। কাঠমাণ্ডুতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেওয়া আবেগঘন বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেন যে, নেপালের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা রক্ষা করাই তার প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান সরকারের ওপর রাজনৈতিক দলগুলোর ক্রমাগত হুমকি এবং জেন-জি তরুণ প্রজন্মের অবাস্তব চাপের কঠোর সমালোচনা করেছেন।

সুশীলা কারকি তার সরকারকে একটি ‘আকস্মিক ঝড়ের’ সঙ্গে তুলনা করে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিদিন সরকার ছাড়ার হুমকি দিয়ে পরিবেশ ঘোলাটে করছে এবং সুপরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। জেন-জি বা বর্তমান তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে প্রায় প্রতিদিনই সরকারের পদত্যাগ দাবি করছে, তাকে তিনি দায়িত্বশীলদের প্রতি চরম অপমানজনক আচরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারকে কাজ করার ন্যূনতম সুযোগ দেওয়ার বদলে প্রতিনিয়ত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও গালিগালাজের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তিনি নিজেকে এবং তার প্রশাসনকে একটি ‘পেন্ডুলাম’ পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করে বলেন, সব বাধা, সমালোচনা ও ব্যক্তিগত অপমান সহ্য করেও তারা পরম ধৈর্যের সঙ্গে রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন তরুণের একেকজন একেক ধরনের দাবি নিয়ে আসার কারণে সরকার যেখানেই যাচ্ছে সেখানেই অশান্তির সম্মুখীন হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বর্তমান তরুণদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে অনীহা এবং ক্রমবর্ধমান হতাশা নেপালের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

বক্তব্যের একপর্যায়ে সুশীলা কারকি প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের বর্তমান অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির সরাসরি উদাহরণ টেনে বলেন, নেপালকে কোনোভাবেই সেই অনিশ্চিত পথে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা তার নেই। তিনি অত্যন্ত জোরালো ও পরিষ্কার ভাষায় বলেন যে, তারা নেপালকে কোনোভাবেই বাংলাদেশ হতে দেবেন না এবং তারা এমন অরাজক পরিস্থিতি মোটেও চান না। সরকারের ওপর সৃষ্টি হওয়া প্রচণ্ড মানসিক ও রাজনৈতিক চাপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে এমন এক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে প্রশাসন চলছে যেখানে জনসমক্ষে কোথাও গিয়েও শান্তি বা স্বস্তি পাওয়ার উপায় নেই। এই কঠিন বাস্তবতা ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জগুলো যথাযথভাবে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে তিনি উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান।