সময় এক প্রবহমান স্রোত, যা একবার অতিবাহিত হলে আর ফিরে আসে না। ক্যালেন্ডারের পাতায় নতুন বছরের আগমন ঘটলেও প্রকৃতপক্ষে তা আমাদের জীবন থেকে একটি মূল্যবান বছর কমে যাওয়ারই ইঙ্গিত দেয়। প্রতিবছর ১লা জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে যে উৎসব ও উন্মাদনা দেখা যায়, তাতে প্রায়শই ধর্মীয় চেতনা বা মানবিক দায়বদ্ধতার অভাব পরিলক্ষিত হয়। পাপাচার ও ভোগবিলাসের মাধ্যমে বর্ষবরণ মূলত সময়ের প্রকৃত মূল্য সম্পর্কে মানুষের উদাসীনতাকেই প্রকাশ করে। অথচ ইসলামে মানুষের প্রতিটি মুহূর্তকে একটি পবিত্র আমানত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করে পরকালে চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশ অনুষ্ঠিত হবে।
ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে দুনিয়া হলো আখেরাতের শস্যক্ষেত্র এবং সময় হলো তার সবচেয়ে বড় মূলধন। পবিত্র কোরআনে মুমিন ও অবিশ্বাসীদের জীবনের পার্থক্যে সময়ের সদ্ব্যবহারের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সুরা মুহাম্মদে আল্লাহ তায়ালা সতর্ক করেছেন যে, যারা কেবল দুনিয়ার ভোগবিলাসে মত্ত থাকে এবং চতুষ্পদ জন্তুর মতো জীবন অতিবাহিত করে, তাদের শেষ গন্তব্য হবে জাহান্নাম। বর্তমান সমাজে মানুষের প্রধান চিন্তা কেবল ‘পেট ভরানো’ এবং প্রবৃত্তির গোলামি করা, যা ঈমানি দৃঢ়তাকে ক্রমেই ম্লান করে দিচ্ছে। সময়ের এই বরকতহীনতা এবং মাস-বছরের দ্রুত অতিবাহিত হওয়া মূলত কিয়ামতেরই অন্যতম আলামত হিসেবে বিবেচিত।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী, কিয়ামতের আগে সময় সংকুচিত হয়ে যাবে এবং সময়ের বরকত উঠে যাবে। আজকের তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের অনর্থক ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদি খেলাধুলার পেছনে মাসের পর মাস অপচয় করার প্রবণতা এই হাদিসেরই জীবন্ত প্রতিফলন। সুস্থতা এবং অবসর—এই দুটি নিয়ামতের অপব্যবহার করে অধিকাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ নবীজি (সা.) আমাদের পাঁচটি অমূল্য বিষয়কে গনিমত বা সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করার উপদেশ দিয়েছেন: মৃত্যুর আগে জীবন, বার্ধক্যের আগে যৌবন, অসুস্থতার আগে সুস্থতা, ব্যস্ততার আগে অবসর এবং দারিদ্র্যের আগে সচ্ছলতা। নতুন বছরের শুরুতে এই আত্মজিজ্ঞাসা ও সময়ের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারলেই ইহকাল ও পরকাল সাফল্যমণ্ডিত হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























