‘তোমার ঘন কালো চুলে হারিয়ে যায় মন’– নব্বই দশকের সেই বিজ্ঞাপনী শ্লোগান এখনও কানে ভাসলেও দিন বদলে গেছে। চুল আর কেবল কালো না। এখন অল্প বয়স থেকেই নানা রঙের চুলের ফ্যাশন চলছে। এখন এর চল অনেক বেশি হলেও আসলেই কি এটা এখনকার বিষয়? চুল রঙকরার চল বা হেয়ার ডাই ব্যবহার করার অভ্যাস বহু প্রাচীন—হাজার হাজার বছর আগের সভ্যতাগুলো থেকেই এর সূচনা। বলা হয়ে থাকে, বয়স লুকাতে কিংবা সৌন্দর্য বাড়াতে চুলে রুচিশীল রঙ ব্যবহার তো করাই যায়। এছাড়াও এটা দিয়ে সামাজিক মর্যাদা নির্দেশ করতো একসময়। সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় আচারের চুল রঙ করার চল ছিল, আর ব্যক্তিত্ব বা ফ্যাশন প্রকাশ প্রধান উদ্দেশ্য তো বটেই।
একটু ইতিহাস পড়ে নিতে পারি
প্রাচীন মিশরে চুল ও ভ্রু গাঢ় করতে মিশরীয়রা হেনার ব্যবহার করত। রাজপরিবার ও অভিজাত শ্রেণির মধ্যে এটি ছিল সৌন্দর্য ও মর্যাদার প্রতীক। প্রাচীন ভারতে হাজার বছরের পুরনো আয়ুর্বেদে হেনা ও ভেষজ রঙ ব্যবহারের উল্লেখ আছে। চীনারা তাদের চুল কালো করতে উদ্ভিদজাত রঞ্জক, যেমন গাছের ছাল ও পাতার রঙ ব্যবহার করত। প্রাচীন গ্রিক ও রোমান যুগের মানুষ উদ্ভিদজাত রঙ ছাড়াও খনিজ ও ধাতব যৌগ ব্যবহার করতো চুল সোনালি, বাদামি বা কালো করার জন্য। রোমানরা প্রথমবার চুল ব্লন্ড করার (হালকা করার) কৌশল তৈরি করে। ১৯০৭ সালে ফরাসি রসায়নবিদ ইউজিন শ্যুলাইর (লরিয়েল এর প্রতিষ্ঠাতা) আধুনিক সিনথেটিক হেয়ার ডাই উদ্ভাবন করেন। এরপর থেকে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক হেয়ার কালার জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
বাসায় কালার করবেন?
বাসায় ফ্যাশন কালার করার বেশ ঝক্কি আছে। কালার ভালো কোনটা সেটা একটু জেনে নিন। যে কোনও রঙ না জেনে ব্যবহার করলে চুলের স্বাস্থ্যহানি ঘটতে পারে। তাই রঙ চূড়ান্ত করে আগের দিন চুল ধুয়ে নিন। চুল একদম নতুন ধোওয়া থাকলে স্ক্যাল্পের ন্যাচারাল অয়েল থাকে না। ফলে জ্বালা বাড়তে পারে। আগের দিন ধোওয়া সবচেয়ে ভালো। ২৪ ঘণ্টা আগে হাতে বা কানের পেছনে একটু রঙ লাগিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখুন। যদি জ্বালাপোড়া করে তবে সেই রঙ ব্যবহারে সতর্ক হতে হবে।
প্রয়োজনীয় সব জিনিস কাছে রাখুন। যেমন, বক্স কালার (ডাই + ডেভেলপার), গ্লাভস, পুরনো তোয়ালে প্রভৃতি।
চিরুনি, বাটি ও ব্রাশ, হেয়ার ক্লিপ, ভ্যাসলিন (কপালে লাগানোর জন্য)। চুল সম্পূর্ণ শুকনা রাখুন। চুলকে ৪ ভাগে ভাগ করুন—সামনে ২ ভাগ, পেছনে ২ ভাগ। হেয়ার ক্লিপ দিয়ে আটকে রাখুন। কপাল, কান, গলা ও স্ক্যাল্পের চারপাশে ভ্যাসলিন লাগিয়ে নিন। এতে করে ছিটে আসা রঙ লেগে থাকবে না। বক্স করা নির্দেশনা অনুযায়ী ডেভেলপার ও কালার মিক্স করুন। মিশ্রণ তৈরি করার পর সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবহার করুন—দীর্ঘক্ষণ রেখে দেবেন না।
প্রথমে মাঝ বরাবর ও চুলের নিচের অংশে আগে রঙ লাগান। ১৫–২০ মিনিট পরে রুটে (চুলের গোড়ায়) রঙ লাগান। কারণ গোড়া দ্রুত রঙ ধরে।ফ্যাশন কালার কখনোই গোড়া থেকে দিবেন না, একটু অংশ ছেড়ে দিবেন। নির্দেশনায় দেওয়া সময় ফলো করুন (সাধারণত ২৫ থেকে ৪৫মিনিট)। সময়ের বেশি রাখবেন না, এতে চুল শুকিয়ে যেতে পারে। এরপর শুধু পানি দিয়ে ধুতে থাকুন যতক্ষণ না পানি পরিষ্কার হয়। শ্যাম্পু সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার না করাই ভালো। এবং রঙ করার পরের তিন দিন চুল ভেজাবেন না। বক্সে দেওয়া কালার-প্রোটেক্ট কন্ডিশনার লাগান। ২–৩ মিনিট রেখে ধুয়ে নিন। এটি রঙকে লক করে ও চুল নরম রাখে। তোয়ালে দিয়ে আলতো করে শুকান। রঙ করার দিন হিট ব্লো-ড্রাই, স্ট্রেইটনার, কার্লার ব্যবহার করবেন না। সপ্তাহে একদিন ডিপ কন্ডিশনিং করলে কালার করা চুলও স্বাস্থ্যকর থাকে।
রিপোর্টারের নাম 

























