ঢাকা ০২:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

শীতের বিয়েতে বাড়তি আমেজ: কেন এই ঋতুই উৎসবের জন্য সেরা?

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে বিয়ের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় ঋতু হলো শীত। আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দেশজুড়ে শুরু হয় বিয়ের ধুম। আয়োজক থেকে শুরু করে বর-কনে এবং আমন্ত্রিত অতিথি—সবার জন্যই শীতকাল নিয়ে আসে বিশেষ কিছু সুবিধা। কেন বিয়ের জন্য শীতকালই সেরা সময়, তার উল্লেখযোগ্য কিছু কারণ নিচে তুলে ধরা হলো।

ছুটির আমেজ ও স্বজনদের মিলনমেলা
বছরের শেষে স্কুল-কলেজের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হওয়ায় ডিসেম্বর মাসে শিক্ষার্থীদের লম্বা ছুটি থাকে। এই সুযোগে কর্মজীবী মানুষও ছুটি নিয়ে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন। ফলে দূর-দূরান্তের আত্মীয়-স্বজনরা সহজেই বিয়েতে যোগ দিতে পারেন, যা বছরের অন্য সময় প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ক্লান্তিহীন কাজের সুযোগ
বিয়ে মানেই বিশাল কর্মযজ্ঞ। প্যান্ডেল সাজানো থেকে শুরু করে অতিথিদের আপ্যায়ন—সবকিছুতেই প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়। গরমের দিনে সামান্য আঘাতেই শরীর ঘেমে হাঁপিয়ে উঠলেও শীতে সেই ভয় নেই। বরং কনকনে ঠান্ডায় কাজ করলে শরীর সতেজ থাকে এবং দীর্ঘক্ষণ কাজ করার উৎসাহ পাওয়া যায়।

অটুট থাকে রূপচর্চা ও সাজগোজ
বিয়ের অনুষ্ঠানে কনের সাজসজ্জা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গরমের দিনে মেকআপ ঘেমে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে, কিন্তু শীতকালে সেই দুশ্চিন্তা নেই। বরের ভারী শেরওয়ানি বা স্যুট পরতেও কোনো অস্বস্তি হয় না। বর-কনে ছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথিরা মনের মতো সাজগোজ করে দীর্ঘক্ষণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন।

রসনা বিলাসে তৃপ্তি
বিয়ের রাজকীয় মেনুতে থাকে পোলাও, বিরিয়ানি, রোস্ট ও রেজালা। গরমে এ ধরনের ভারী খাবার দ্রুত নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং হজমেও সমস্যা হতে পারে। তবে শীতকালে কবজি ডুবিয়ে খেলেও সেই দুশ্চিন্তা অনেক কম থাকে। এছাড়া শীতের হরেক রকম পিঠাপুলি বিয়ের আমেজকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

ফুলের সমারোহে জাঁকজমক ডেকোরেশন
ফুল ছাড়া বিয়ের সাজ পূর্ণতা পায় না। শীতকালে গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধা, অর্কিডসহ নানা ধরনের দেশি-বিদেশি ফুল প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। সহজলভ্য হওয়ায় কম খরচেই পুরো অনুষ্ঠানস্থলকে রাজকীয় ও অভিজাতভাবে সাজানো সম্ভব হয়।

সাশ্রয়ী খরচ ও বিদ্যুৎ বিল
শীতকালে ফ্যান বা এসির প্রয়োজন হয় না বললেই চলে। এতে বিদ্যুৎ বিলের বড় একটি সাশ্রয় হয়। এছাড়া দিনের সময় কম হওয়ায় বিকেলের মধ্যেই অনুষ্ঠান শেষ করার প্রবণতা থাকে, যা আলোকসজ্জা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ কমাতে সাহায্য করে।

মশার উপদ্রব থেকে মুক্তি
বিয়ের আয়োজনে অনেক মানুষের ভিড়ে মশার উপদ্রব একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু শীতের রাতে মশা তুলনামূলক কম থাকে এবং লেপ-কম্বলের ব্যবহারের কারণে মশারি টানানোর বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হয় না।

স্মরণীয় হানিমুন
বিয়ের পরপরই নবদম্পতিরা ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ভ্রমণের জন্য শীতকালই সবচেয়ে আরামদায়ক সময়। দেশের ভেতরে বা বাইরে যেখানেই হোক, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় নতুন জীবনের শুরুটা বেশ আনন্দদায়ক ও রোমান্টিক হয়ে ওঠে।

সব মিলিয়ে আনন্দ, উৎসব আর সুবিধাজনক আবহাওয়ার কারণেই বিয়ের জন্য শীতকালই বাঙালির প্রথম পছন্দ।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের ওয়ানডে জয়ে বাংলাদেশের সৈকত, আইসিসি চুক্তিতে নেই বিসিবির বাধা

শীতের বিয়েতে বাড়তি আমেজ: কেন এই ঋতুই উৎসবের জন্য সেরা?

আপডেট সময় : ১১:৪৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে বিয়ের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় ঋতু হলো শীত। আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দেশজুড়ে শুরু হয় বিয়ের ধুম। আয়োজক থেকে শুরু করে বর-কনে এবং আমন্ত্রিত অতিথি—সবার জন্যই শীতকাল নিয়ে আসে বিশেষ কিছু সুবিধা। কেন বিয়ের জন্য শীতকালই সেরা সময়, তার উল্লেখযোগ্য কিছু কারণ নিচে তুলে ধরা হলো।

ছুটির আমেজ ও স্বজনদের মিলনমেলা
বছরের শেষে স্কুল-কলেজের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হওয়ায় ডিসেম্বর মাসে শিক্ষার্থীদের লম্বা ছুটি থাকে। এই সুযোগে কর্মজীবী মানুষও ছুটি নিয়ে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন। ফলে দূর-দূরান্তের আত্মীয়-স্বজনরা সহজেই বিয়েতে যোগ দিতে পারেন, যা বছরের অন্য সময় প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ক্লান্তিহীন কাজের সুযোগ
বিয়ে মানেই বিশাল কর্মযজ্ঞ। প্যান্ডেল সাজানো থেকে শুরু করে অতিথিদের আপ্যায়ন—সবকিছুতেই প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়। গরমের দিনে সামান্য আঘাতেই শরীর ঘেমে হাঁপিয়ে উঠলেও শীতে সেই ভয় নেই। বরং কনকনে ঠান্ডায় কাজ করলে শরীর সতেজ থাকে এবং দীর্ঘক্ষণ কাজ করার উৎসাহ পাওয়া যায়।

অটুট থাকে রূপচর্চা ও সাজগোজ
বিয়ের অনুষ্ঠানে কনের সাজসজ্জা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গরমের দিনে মেকআপ ঘেমে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে, কিন্তু শীতকালে সেই দুশ্চিন্তা নেই। বরের ভারী শেরওয়ানি বা স্যুট পরতেও কোনো অস্বস্তি হয় না। বর-কনে ছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথিরা মনের মতো সাজগোজ করে দীর্ঘক্ষণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন।

রসনা বিলাসে তৃপ্তি
বিয়ের রাজকীয় মেনুতে থাকে পোলাও, বিরিয়ানি, রোস্ট ও রেজালা। গরমে এ ধরনের ভারী খাবার দ্রুত নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং হজমেও সমস্যা হতে পারে। তবে শীতকালে কবজি ডুবিয়ে খেলেও সেই দুশ্চিন্তা অনেক কম থাকে। এছাড়া শীতের হরেক রকম পিঠাপুলি বিয়ের আমেজকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

ফুলের সমারোহে জাঁকজমক ডেকোরেশন
ফুল ছাড়া বিয়ের সাজ পূর্ণতা পায় না। শীতকালে গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধা, অর্কিডসহ নানা ধরনের দেশি-বিদেশি ফুল প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। সহজলভ্য হওয়ায় কম খরচেই পুরো অনুষ্ঠানস্থলকে রাজকীয় ও অভিজাতভাবে সাজানো সম্ভব হয়।

সাশ্রয়ী খরচ ও বিদ্যুৎ বিল
শীতকালে ফ্যান বা এসির প্রয়োজন হয় না বললেই চলে। এতে বিদ্যুৎ বিলের বড় একটি সাশ্রয় হয়। এছাড়া দিনের সময় কম হওয়ায় বিকেলের মধ্যেই অনুষ্ঠান শেষ করার প্রবণতা থাকে, যা আলোকসজ্জা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ কমাতে সাহায্য করে।

মশার উপদ্রব থেকে মুক্তি
বিয়ের আয়োজনে অনেক মানুষের ভিড়ে মশার উপদ্রব একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু শীতের রাতে মশা তুলনামূলক কম থাকে এবং লেপ-কম্বলের ব্যবহারের কারণে মশারি টানানোর বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হয় না।

স্মরণীয় হানিমুন
বিয়ের পরপরই নবদম্পতিরা ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ভ্রমণের জন্য শীতকালই সবচেয়ে আরামদায়ক সময়। দেশের ভেতরে বা বাইরে যেখানেই হোক, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় নতুন জীবনের শুরুটা বেশ আনন্দদায়ক ও রোমান্টিক হয়ে ওঠে।

সব মিলিয়ে আনন্দ, উৎসব আর সুবিধাজনক আবহাওয়ার কারণেই বিয়ের জন্য শীতকালই বাঙালির প্রথম পছন্দ।