শীতের শুষ্ক ও রুক্ষ আবহাওয়ায় চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় তেলের ব্যবহার অপরিহার্য। তবে এই ঋতুতে রাতে চুলে তেল মেখে ঘুমানোর অভ্যাসটি সবার জন্য শুভকর নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই অভ্যাসের যেমন কিছু ভালো দিক আছে, তেমনি রয়েছে বেশ কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকিও।
চিকিৎসকদের মতে, শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকায় চুল দ্রুত প্রাণহীন হয়ে পড়ে। রাতে ঘুমানোর আগে চুলে তেল মালিশ করলে তা চুলের গভীরে প্রবেশ করে দীর্ঘক্ষণ আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। এতে চুলের রুক্ষতা কমে এবং চুল রেশমি ও উজ্জ্বল হয়। এছাড়া মাথায় তেল ম্যাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়, যা চুলের গোড়া শক্ত করার পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তি ও গভীর ঘুমে সহায়তা করে।
তবে এই অভ্যাসের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কেও সতর্ক করেছেন রূপবিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা। তারা জানান, দীর্ঘ সময় মাথায় তেল থাকলে ত্বকের লোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এতে কপালে বা মাথার ত্বকে ব্রণ ও ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। এছাড়া তেলের প্রভাবে চুলে বাইরের ধুলাবালি বেশি আটকে যায়, যা থেকে ছত্রাকজনিত সংক্রমণ বা সেবোরিক ডার্মাটাইটিসের মতো খুশকির সমস্যা প্রকট হতে পারে।
শারীরিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর কিছু ঝুঁকি রয়েছে। আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, অনেক তেলেরই শীতল গুণ থাকে। শীতের রাতে দীর্ঘক্ষণ তেল মেখে রাখলে সর্দি, কাশি বা সাইনাসের সমস্যা বাড়তে পারে। যাদের আগে থেকেই শ্বাসকষ্ট বা ঠান্ডার ধাত রয়েছে, তাদের জন্য এই অভ্যাস ভোগান্তির কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, যাদের চুল অতিরিক্ত শুষ্ক, তারা সপ্তাহে এক বা দুই দিন অল্প তেল মেখে ঘুমাতে পারেন। তবে যাদের ত্বক তৈলাক্ত কিংবা ঠান্ডার সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য গোসলের ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা আগে তেল লাগানোই সবচেয়ে নিরাপদ। তেল ব্যবহারের পরদিন অবশ্যই ভালো মানের শ্যাম্পু দিয়ে চুল ও মাথার ত্বক পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি। মূলত চুলের ধরন ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করেই শীতকালীন এই রূপচর্চার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
রিপোর্টারের নাম 

























