ঢাকা ০২:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

ঘরে ঘরে সর্দি–কাশি: ঘরোয়া টোটকায় মিলবে স্বস্তি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৫:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

শীতের শুরু হোক বা ঋতু বদলের সময়, সর্দি–কাশি এখন প্রায় প্রতিটি ঘরের চেনা অতিথি। শিশু থেকে বয়স্ক, কারোই রেহাই নেই। 

ভাইরাসজনিত এই সমস্যায় সব সময় ওষুধই যে একমাত্র সমাধান, তা নয়। বরং সঠিক ঘরোয়া যত্নে অনেক ক্ষেত্রেই মিলতে পারে আরাম ও দ্রুত সেরে ওঠার সুযোগ।

আদা–মধু: কাশির পুরনো বন্ধু

তাজা আদা বেটে বা কুচি করে তার রসের সঙ্গে এক চামচ খাঁটি মধু মিশিয়ে দিনে দুই থেকে তিনবার খেলে কাশির জ্বালা কমে। আদার উষ্ণতা কফ ঢিলাতে সাহায্য করে, আর মধু গলা শান্ত রাখে।

লেবু ও কুসুম গরম পানি

এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে অর্ধেক লেবুর রস ও সামান্য মধু মিশিয়ে সকালে পান করলে গলার খুসখুসে ভাব কমে। ভিটামিন ‘সি’ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।

হলুদ দুধ: রাতে স্বস্তির চুমুক

ঘুমানোর আগে এক কাপ গরম দুধে আধা চা–চামচ হলুদ মিশিয়ে খেলে শরীর গরম থাকে এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করে। কাশি বেশি হলে এটি বিশেষ উপকারী।

লবণ পানিতে গার্গল

গলার ব্যথা ও কাশিতে সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হলো গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে দিনে দুই–তিনবার গার্গল করা। এতে জীবাণু কমে এবং গলার ফোলাভাব হ্রাস পায়।

ভাপ নেওয়া

গরম পানির ভাপ নিলে নাক বন্ধ ভাব কমে, সাইনাস পরিষ্কার হয়। প্রয়োজনে ইউক্যালিপটাস তেল এক–দুই ফোঁটা যোগ করা যেতে পারে (শিশুদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি)।

তুলসী ও লবঙ্গ

তুলসী পাতা ফুটিয়ে সেই পানিতে লবঙ্গ ও আদা যোগ করে চা বানিয়ে পান করলে কাশি ও সর্দিতে আরাম মেলে। এটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক হিসেবেও কাজ করে।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পানি

শুধু টোটকাই নয়, সুস্থ হতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঘুম ও বেশি করে তরল পান করা। এতে শরীর দ্রুত ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করতে পারে।

কখন ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন

ঘরোয়া টোটকা উপকারী হলেও কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। তিন দিনের বেশি জ্বর থাকলে, শ্বাসকষ্ট হলে, শিশু বা বয়স্কদের ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়লে, দীর্ঘদিনের রোগী হলে; তখন অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বলা দরকার

সর্দি–কাশি ছোট সমস্যা হলেও অবহেলা নয়। সঠিক যত্ন, ঘরোয়া টোটকা আর সচেতনতায় এই মৌসুমি অসুখ সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের ওয়ানডে জয়ে বাংলাদেশের সৈকত, আইসিসি চুক্তিতে নেই বিসিবির বাধা

ঘরে ঘরে সর্দি–কাশি: ঘরোয়া টোটকায় মিলবে স্বস্তি

আপডেট সময় : ০৮:৩৫:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

শীতের শুরু হোক বা ঋতু বদলের সময়, সর্দি–কাশি এখন প্রায় প্রতিটি ঘরের চেনা অতিথি। শিশু থেকে বয়স্ক, কারোই রেহাই নেই। 

ভাইরাসজনিত এই সমস্যায় সব সময় ওষুধই যে একমাত্র সমাধান, তা নয়। বরং সঠিক ঘরোয়া যত্নে অনেক ক্ষেত্রেই মিলতে পারে আরাম ও দ্রুত সেরে ওঠার সুযোগ।

আদা–মধু: কাশির পুরনো বন্ধু

তাজা আদা বেটে বা কুচি করে তার রসের সঙ্গে এক চামচ খাঁটি মধু মিশিয়ে দিনে দুই থেকে তিনবার খেলে কাশির জ্বালা কমে। আদার উষ্ণতা কফ ঢিলাতে সাহায্য করে, আর মধু গলা শান্ত রাখে।

লেবু ও কুসুম গরম পানি

এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে অর্ধেক লেবুর রস ও সামান্য মধু মিশিয়ে সকালে পান করলে গলার খুসখুসে ভাব কমে। ভিটামিন ‘সি’ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।

হলুদ দুধ: রাতে স্বস্তির চুমুক

ঘুমানোর আগে এক কাপ গরম দুধে আধা চা–চামচ হলুদ মিশিয়ে খেলে শরীর গরম থাকে এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করে। কাশি বেশি হলে এটি বিশেষ উপকারী।

লবণ পানিতে গার্গল

গলার ব্যথা ও কাশিতে সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হলো গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে দিনে দুই–তিনবার গার্গল করা। এতে জীবাণু কমে এবং গলার ফোলাভাব হ্রাস পায়।

ভাপ নেওয়া

গরম পানির ভাপ নিলে নাক বন্ধ ভাব কমে, সাইনাস পরিষ্কার হয়। প্রয়োজনে ইউক্যালিপটাস তেল এক–দুই ফোঁটা যোগ করা যেতে পারে (শিশুদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি)।

তুলসী ও লবঙ্গ

তুলসী পাতা ফুটিয়ে সেই পানিতে লবঙ্গ ও আদা যোগ করে চা বানিয়ে পান করলে কাশি ও সর্দিতে আরাম মেলে। এটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক হিসেবেও কাজ করে।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পানি

শুধু টোটকাই নয়, সুস্থ হতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঘুম ও বেশি করে তরল পান করা। এতে শরীর দ্রুত ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করতে পারে।

কখন ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন

ঘরোয়া টোটকা উপকারী হলেও কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। তিন দিনের বেশি জ্বর থাকলে, শ্বাসকষ্ট হলে, শিশু বা বয়স্কদের ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়লে, দীর্ঘদিনের রোগী হলে; তখন অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বলা দরকার

সর্দি–কাশি ছোট সমস্যা হলেও অবহেলা নয়। সঠিক যত্ন, ঘরোয়া টোটকা আর সচেতনতায় এই মৌসুমি অসুখ সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।