ঢাকা ০২:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

সুস্থ থাকতে শীতকালীন ডায়েটে কেন রাখবেন খেজুর? জেনে নিন এর বিস্ময়কর পুষ্টিগুণ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১৯:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

শীতের হিমেল হাওয়ায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অটুট রাখতে এবং বাড়তি উষ্ণতা পেতে খেজুরের জুড়ি মেলা ভার। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলটি কেবল রমজান মাসেই নয়, বরং সারা বছর—বিশেষ করে শীতকালে নিয়মিত খেলে পাওয়া যায় অবিশ্বাস্য সব স্বাস্থ্য উপকারিতা। প্রাকৃতিক শর্করা, ফাইবার, ভিটামিন ও মিনারেলের এক অনন্য ভাণ্ডার এই ফলটি শীতের জড়তা কাটিয়ে শরীরকে চাঙা রাখতে অত্যন্ত কার্যকর।

শীতকালীন খাদ্যতালিকায় খেজুর রাখার প্রধান কারণগুলো হলো:

**তাৎক্ষণিক শক্তি ও শারীরিক উষ্ণতা:** খেজুরে থাকা গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ ও সুক্রোজ শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়। শীতের সকালে আলসেমি কাটাতে এবং শরীরকে ভেতর থেকে গরম রাখতে নিয়মিত খেজুর খাওয়া জরুরি।

**হজম প্রক্রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়:** শীতকালে অনেকেরই হজমের সমস্যা দেখা দেয়। প্রচুর আঁশ বা ফাইবার থাকায় খেজুর হজমশক্তি উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে দারুণ সাহায্য করে।

**রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি:** খেজুরে থাকা প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করে। ফলে শীতকালীন সাধারণ সর্দি-কাশি বা সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

**ত্বক ও মস্তিষ্কের সুরক্ষা:** শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং বলিরেখা প্রতিরোধে খেজুরের ভিটামিন-সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া এর বিশেষ উপাদানগুলো মস্তিষ্কের কার্যকারিতা সচল রাখতে এবং মেজাজ ফুরফুরে রাখতে সাহায্য করে।

**হাড় ও হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য:** খেজুরে থাকা ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড় মজবুত করে। এছাড়া এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে খেজুর খাওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

**কতটুকু এবং কীভাবে খাবেন?**
পুষ্টিবিদদের মতে, সুস্থ মানুষের জন্য প্রতিদিন ৩ থেকে ৫টি খেজুর খাওয়া যথেষ্ট। অতিরিক্ত খেজুর খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে। সবচেয়ে ভালো ফল পেতে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে অথবা রাতে এক গ্লাস গরম দুধের সাথে খেজুর মিশিয়ে খেতে পারেন। এছাড়া বিকেলের নাস্তায় অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প হিসেবেও খেজুর হতে পারে আপনার প্রিয় পছন্দ।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের ওয়ানডে জয়ে বাংলাদেশের সৈকত, আইসিসি চুক্তিতে নেই বিসিবির বাধা

সুস্থ থাকতে শীতকালীন ডায়েটে কেন রাখবেন খেজুর? জেনে নিন এর বিস্ময়কর পুষ্টিগুণ

আপডেট সময় : ১২:১৯:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

শীতের হিমেল হাওয়ায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অটুট রাখতে এবং বাড়তি উষ্ণতা পেতে খেজুরের জুড়ি মেলা ভার। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলটি কেবল রমজান মাসেই নয়, বরং সারা বছর—বিশেষ করে শীতকালে নিয়মিত খেলে পাওয়া যায় অবিশ্বাস্য সব স্বাস্থ্য উপকারিতা। প্রাকৃতিক শর্করা, ফাইবার, ভিটামিন ও মিনারেলের এক অনন্য ভাণ্ডার এই ফলটি শীতের জড়তা কাটিয়ে শরীরকে চাঙা রাখতে অত্যন্ত কার্যকর।

শীতকালীন খাদ্যতালিকায় খেজুর রাখার প্রধান কারণগুলো হলো:

**তাৎক্ষণিক শক্তি ও শারীরিক উষ্ণতা:** খেজুরে থাকা গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ ও সুক্রোজ শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়। শীতের সকালে আলসেমি কাটাতে এবং শরীরকে ভেতর থেকে গরম রাখতে নিয়মিত খেজুর খাওয়া জরুরি।

**হজম প্রক্রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়:** শীতকালে অনেকেরই হজমের সমস্যা দেখা দেয়। প্রচুর আঁশ বা ফাইবার থাকায় খেজুর হজমশক্তি উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে দারুণ সাহায্য করে।

**রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি:** খেজুরে থাকা প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করে। ফলে শীতকালীন সাধারণ সর্দি-কাশি বা সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

**ত্বক ও মস্তিষ্কের সুরক্ষা:** শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং বলিরেখা প্রতিরোধে খেজুরের ভিটামিন-সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া এর বিশেষ উপাদানগুলো মস্তিষ্কের কার্যকারিতা সচল রাখতে এবং মেজাজ ফুরফুরে রাখতে সাহায্য করে।

**হাড় ও হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য:** খেজুরে থাকা ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড় মজবুত করে। এছাড়া এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে খেজুর খাওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

**কতটুকু এবং কীভাবে খাবেন?**
পুষ্টিবিদদের মতে, সুস্থ মানুষের জন্য প্রতিদিন ৩ থেকে ৫টি খেজুর খাওয়া যথেষ্ট। অতিরিক্ত খেজুর খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে। সবচেয়ে ভালো ফল পেতে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে অথবা রাতে এক গ্লাস গরম দুধের সাথে খেজুর মিশিয়ে খেতে পারেন। এছাড়া বিকেলের নাস্তায় অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প হিসেবেও খেজুর হতে পারে আপনার প্রিয় পছন্দ।