ঢাকা ০৫:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

বিলের আলোচনায় কম সময়: সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ বিরোধীদলীয় নেতার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০০:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

বিলের ওপর আলোচনায় সময় কম দেওয়ার জন্য সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সরকারি দলের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, বিল উত্থাপনকারীদের জন্য অসীম সময় বরাদ্দ থাকলেও বিরোধী দলের সদস্যদের মাত্র দুই মিনিট করে সময় দেওয়া হচ্ছে। এতে তারা বিলের বিষয়বস্তু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারছেন না, যা সংসদীয় বিতর্কের উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আলোচনা করার সুযোগ না পেলে সংসদে কথা বলার অর্থ কী?

বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সময় কিছুটা বাড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে এ বিষয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিলগুলো পাসের সময়ের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বিরোধী দলকে যথাসম্ভব পর্যাপ্ত সময় দিতে স্পিকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে মানবাধিকার কমিশন বিল পাসের সময় ফ্লোর নিয়ে কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা। বিলের ওপর আপত্তি উত্থাপনকারী এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যেসব বিলের বিষয়ে আপত্তি দেওয়া হয়েছে, তা এখন আলোচনা হচ্ছে। এখানে দেখা যাচ্ছে দুই মিনিট সময়, এই সময়ের মধ্যে কিছুই করা সম্ভব নয়। আপত্তি কেন দেওয়া হয়েছে, প্রেক্ষাপট কী— এসব দুই মিনিটে বলা যায় না। একদিকে দুই মিনিট, অন্যদিকে যারা উত্থাপন করছেন তাদের আনলিমিটেড সময় দেওয়া হচ্ছে। তাহলে বিতর্ক কোথায়? আমরা তো এখানে কোনো বিতর্কই দেখছি না। সেই বিতর্কের সুযোগ যদি না থাকে, তাহলে এখানে বসে আমাদের লাভ কী? আমরা যদি আমাদের কথা বলতে না পারি, তাহলে আমাদের এখানে থাকার মানে কী? আমাদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হোক। যারা সরকারি বেঞ্চ থেকে উত্থাপন করবেন, তাদেরকেও পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হোক এতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু আমাদের যেন পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়।’

জবাবে স্পিকার বলেন, অতীতের নজিরগুলোই অনুসরণ করা হচ্ছে। সেখানে উত্থাপনের সময় আপত্তি জানানো হলে দুই মিনিট করে সময় দেওয়া হতো। তিনি বলেন, ‘আমি ছয় মিনিট দিয়েছি। এর পরও যদি আপনারা দফাওয়ারি সময় চান, তাহলে দুই মিনিট করে দেওয়া যেত। তারপরও সময় কিছুটা বাড়ানো যেতে পারে। প্রস্তাবটি যুক্তিযুক্ত হলে যিনি প্রস্তাব উত্থাপন করবেন, তাকে কিছুটা বেশি সময় দেওয়া হবে।’ স্পিকারের বক্তব্যের পর কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিশেষ কমিটির রিপোর্টে যেসব নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া হয়েছে, সেই বিলগুলো আজ থেকে উপস্থাপন শুরু হয়েছে। আগামীকালের মধ্যেই এসব বিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ইরানকে দমানোর সক্ষমতা নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র’

বিলের আলোচনায় কম সময়: সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ বিরোধীদলীয় নেতার

আপডেট সময় : ০৩:০০:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

বিলের ওপর আলোচনায় সময় কম দেওয়ার জন্য সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সরকারি দলের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, বিল উত্থাপনকারীদের জন্য অসীম সময় বরাদ্দ থাকলেও বিরোধী দলের সদস্যদের মাত্র দুই মিনিট করে সময় দেওয়া হচ্ছে। এতে তারা বিলের বিষয়বস্তু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারছেন না, যা সংসদীয় বিতর্কের উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আলোচনা করার সুযোগ না পেলে সংসদে কথা বলার অর্থ কী?

বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সময় কিছুটা বাড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে এ বিষয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিলগুলো পাসের সময়ের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বিরোধী দলকে যথাসম্ভব পর্যাপ্ত সময় দিতে স্পিকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে মানবাধিকার কমিশন বিল পাসের সময় ফ্লোর নিয়ে কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা। বিলের ওপর আপত্তি উত্থাপনকারী এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যেসব বিলের বিষয়ে আপত্তি দেওয়া হয়েছে, তা এখন আলোচনা হচ্ছে। এখানে দেখা যাচ্ছে দুই মিনিট সময়, এই সময়ের মধ্যে কিছুই করা সম্ভব নয়। আপত্তি কেন দেওয়া হয়েছে, প্রেক্ষাপট কী— এসব দুই মিনিটে বলা যায় না। একদিকে দুই মিনিট, অন্যদিকে যারা উত্থাপন করছেন তাদের আনলিমিটেড সময় দেওয়া হচ্ছে। তাহলে বিতর্ক কোথায়? আমরা তো এখানে কোনো বিতর্কই দেখছি না। সেই বিতর্কের সুযোগ যদি না থাকে, তাহলে এখানে বসে আমাদের লাভ কী? আমরা যদি আমাদের কথা বলতে না পারি, তাহলে আমাদের এখানে থাকার মানে কী? আমাদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হোক। যারা সরকারি বেঞ্চ থেকে উত্থাপন করবেন, তাদেরকেও পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হোক এতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু আমাদের যেন পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়।’

জবাবে স্পিকার বলেন, অতীতের নজিরগুলোই অনুসরণ করা হচ্ছে। সেখানে উত্থাপনের সময় আপত্তি জানানো হলে দুই মিনিট করে সময় দেওয়া হতো। তিনি বলেন, ‘আমি ছয় মিনিট দিয়েছি। এর পরও যদি আপনারা দফাওয়ারি সময় চান, তাহলে দুই মিনিট করে দেওয়া যেত। তারপরও সময় কিছুটা বাড়ানো যেতে পারে। প্রস্তাবটি যুক্তিযুক্ত হলে যিনি প্রস্তাব উত্থাপন করবেন, তাকে কিছুটা বেশি সময় দেওয়া হবে।’ স্পিকারের বক্তব্যের পর কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিশেষ কমিটির রিপোর্টে যেসব নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া হয়েছে, সেই বিলগুলো আজ থেকে উপস্থাপন শুরু হয়েছে। আগামীকালের মধ্যেই এসব বিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।