রাজধানীর শাহবাগে গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে মশাল মিছিল করেছে ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন আন্দোলন’ নামক একটি প্ল্যাটফর্ম। বুধবার সন্ধ্যায় সায়েন্স ল্যাবরেটরি গেট থেকে শুরু হয়ে শাহবাগের শহিদ ওসমান হাদি চত্বর পর্যন্ত এই মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনকারীরা জানান, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ কার্যকর রাখা, মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাস্তবায়নের দাবিতে তারা এই কর্মসূচি পালন করেছেন।
মিছিল শেষে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, গণভোটের রায় উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই এবং জনগণের সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবিতে তারা রাজপথে নেমেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটকে অস্বীকার করে দেশে একটি সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলোকে দুর্বল বা অকার্যকর করার চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, মানবাধিকার কাঠামো এবং বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি। তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায় অস্বীকার করা মানে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতাকে অস্বীকার করা। প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের রায় কোনো সাধারণ মতামত নয়, এটি একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। জুলাই আন্দোলনের শহীদরা ক্ষমতার জন্য জীবন দেননি; তারা একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে উপেক্ষিত হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
বক্তব্যে তিনি গণভোটের রায় অবিলম্বে বাস্তবায়ন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ বহাল রাখা, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ অপরিবর্তিত অবস্থায় পাস করা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরেন। তিনি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান, জুলাই সনদ ও গণভোটের বিষয়গুলো নিয়ে টালবাহানা বন্ধ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, গণভোটে বিপুল জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও সেই রায় বাস্তবায়নের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অনশনে বসতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করা হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে বলে তিনি জানান।
রিপোর্টারের নাম 






















