জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, যারা বিভিন্ন কারণে বিদেশে অর্থ নিয়ে গেছেন, তারা এখন জরিমানা ছাড়াই নিয়মিত কর পরিশোধের মাধ্যমে সেই অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে পারবেন। তিনি বলেন, বিদেশে থাকা অর্থ দেশে ফেরত আনার পথ উন্মুক্ত এবং বিদ্যমান আইন অনুযায়ী এটি সম্ভব।
এনবিআর চেয়ারম্যান ব্যাখ্যা করেন যে, ব্যক্তি করদাতাদের ক্ষেত্রে যারা তাদের রিটার্নে বিদেশে থাকা অর্থ প্রদর্শন করেননি, তারা আইন অনুযায়ী ১৮০ দিনের মধ্যে সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করতে পারেন। সংশোধিত রিটার্ন জমা দিয়ে এবং প্রযোজ্য কর পরিশোধের মাধ্যমে তারা তাদের অর্থ দেশে আনতে পারবেন। এক্ষেত্রে কোনো প্রকার জরিমানা আরোপ করা হবে না।
রাজস্ব ভবনে বিভিন্ন ব্যবসায়ি ও উদ্যোক্তা সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনায় রিয়েল এস্টেট এন্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুবিধা চেয়ে আয়কর অধ্যাদেশ-১৯৮৪ এর ১৯ বিধিধারার পুনঃপ্রবর্তনের দাবি জানায়।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কর ফাঁকি দেওয়া ব্যক্তিদের জন্য সাধারণ ক্ষমা (অ্যামনেস্টি) দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার সময় এসেছে। এখন নিয়মিত হারে কর পরিশোধ করতে হবে। যারা দীর্ঘদিন ধরে কর ফাঁকি দিয়ে কর ব্যবস্থাকে বিকৃত করেছেন, তাদের কম কর দেওয়ার সুযোগ আর থাকবে না। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সরকার বদ্ধপরিকর। গত বছর কালো টাকা সাদা করার বিভিন্ন সুযোগ, বিশেষ করে কম করের সুবিধাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে বিদেশ থেকে অর্থ পাঠানো অনেক সহজ হয়েছে। ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সিস্টেম এবং পেপ্যালের মতো বিভিন্ন মাধ্যমে অর্থ পাঠানো সম্ভব। বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠালে সরকার প্রণোদনাও দিচ্ছে। ফ্ল্যাট নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আয়কর ও ভ্যাটসহ পাঁচটি খাত থেকে রাজস্ব আদায় করা হয়। রিহ্যাব এসব খাতে বিদ্যমান কর-কাঠামো কমানোর প্রস্তাব করেছে।
রিপোর্টারের নাম 




















