ঢাকা ০৯:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত না করাকে প্রতারণা আখ্যা দিয়ে বিচার দাবি

খুলনায় এক মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত না করাকে দুঃখজনক এবং গুম-খুনের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সাথে প্রতারণা বলে দাবি করা হয়েছে।

শীর্ষ মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ এর খুলনা ইউনিট বুধবার সকালে এ কর্মসূচির আয়োজন করে। খুলনা প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে মানববন্ধন ও সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ এবং মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সকল অধ্যাদেশই বর্তমান সংসদে উত্থাপন করে আইনে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সরকার সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত না করে মূলত আয়নাঘরের প্রণেতা এবং গুম, খুন ও নির্যাতনসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী-অপরাধীদের দায়মুক্তি দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে বলে তারা অভিযোগ করেন। অবিলম্বে উল্লিখিত অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত করে সংশ্লিষ্টদের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান বক্তারা। অন্যথায় ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনরুত্থান হবে, যার দায়ভার সরকারকে জনতার আদালতে জবাবদিহি করতে হবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন অধিকারের ফোকালপার্সন সাংবাদিক মুহাম্মদ নূরুজ্জামান। মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক কে এম জিয়াউস সাদাত বিবৃতিপাঠ ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয়ক কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানা, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান হিমালয়, মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার জেলা সমন্বয়কারী মোমিনুল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির জেলা সমন্বয়ক মাহমুদুল হাসান ফয়জুল্লাহ, ছায়াবৃক্ষের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আলম বাদশা। এছাড়াও কর্মসূচিতে গুমের শিকার হয়ে ফিরে আসা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নূর মোহাম্মদ অনিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. ইমরান হোসেন, পুলিশ কর্তৃক দুই চোখ উপড়ানো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শাহ জালাল শেখ এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ফারহান তুর্জ তাদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লিজেন্ডারি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলেকে শেষ বিদায়

গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত না করাকে প্রতারণা আখ্যা দিয়ে বিচার দাবি

আপডেট সময় : ০৭:২৩:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

খুলনায় এক মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত না করাকে দুঃখজনক এবং গুম-খুনের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সাথে প্রতারণা বলে দাবি করা হয়েছে।

শীর্ষ মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ এর খুলনা ইউনিট বুধবার সকালে এ কর্মসূচির আয়োজন করে। খুলনা প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে মানববন্ধন ও সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ এবং মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সকল অধ্যাদেশই বর্তমান সংসদে উত্থাপন করে আইনে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সরকার সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত না করে মূলত আয়নাঘরের প্রণেতা এবং গুম, খুন ও নির্যাতনসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী-অপরাধীদের দায়মুক্তি দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে বলে তারা অভিযোগ করেন। অবিলম্বে উল্লিখিত অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত করে সংশ্লিষ্টদের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান বক্তারা। অন্যথায় ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনরুত্থান হবে, যার দায়ভার সরকারকে জনতার আদালতে জবাবদিহি করতে হবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন অধিকারের ফোকালপার্সন সাংবাদিক মুহাম্মদ নূরুজ্জামান। মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক কে এম জিয়াউস সাদাত বিবৃতিপাঠ ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয়ক কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানা, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান হিমালয়, মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার জেলা সমন্বয়কারী মোমিনুল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির জেলা সমন্বয়ক মাহমুদুল হাসান ফয়জুল্লাহ, ছায়াবৃক্ষের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আলম বাদশা। এছাড়াও কর্মসূচিতে গুমের শিকার হয়ে ফিরে আসা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নূর মোহাম্মদ অনিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. ইমরান হোসেন, পুলিশ কর্তৃক দুই চোখ উপড়ানো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শাহ জালাল শেখ এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ফারহান তুর্জ তাদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।