ঢাকা ০৯:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

চা-বাগান ও পর্যটন উন্নয়নে সমন্বিত মাস্টার প্ল্যান এবং সীমান্ত সড়ক প্রশস্ত করার দাবি এমপি মুজিবুর চৌধুরীর

জাতীয় সংসদে মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী তার নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন বিষয়ক জরুরি দাবি উত্থাপন করেছেন। বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি চা-বাগান, পর্যটন, স্বাস্থ্যসেবা, সড়ক ও রেল অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

দেশের ‘চায়ের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ অঞ্চলটি পাহাড়, হাওর ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। হামহাম জলপ্রপাত, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, বাইক্কা বিলের মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলো দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করে। এই বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে একটি সমন্বিত পর্যটন মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের উপর জোর দেন এমপি মুজিবুর চৌধুরী। তিনি বলেন, এই অঞ্চলে প্রায় ২৯টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে, যাদের ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। পর্যটন উন্নয়নের পাশাপাশি এই জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নেও নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি শ্রীমঙ্গল-শমশেরনগর-কমলগঞ্জ হয়ে চাতলাপুর সীমান্ত পর্যন্ত সড়কটি প্রশস্ত করার দাবি জানান। এই সড়ক উন্নয়নের মাধ্যমে আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, পুরোনো রেললাইন সংস্কার করে নিরাপদ ও আধুনিক রেল যোগাযোগ নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নেও গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের ৫০ শয্যার হাসপাতাল দুটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা এখন সময়ের দাবি। এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি আরও সহজ হবে।

চা শিল্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি শ্রীমঙ্গলের বন্ধ হয়ে যাওয়া চা নিলাম কেন্দ্রটি পুনরায় চালুর দাবি জানান। একই সঙ্গে, চা শ্রমিকদের নিম্ন মজুরি এবং তাদের জীবনমানের উন্নয়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

এমপি মুজিবুর চৌধুরী অভিযোগ করেন যে, পরিকল্পনাহীনভাবে পাহাড় কেটে রিসোর্ট নির্মাণ পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে এবং সরকারি রাজস্বও হারাচ্ছে। এছাড়াও, সরকারি ও রেলওয়ের জমি দখলের বিরুদ্ধেও তিনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লিজেন্ডারি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলেকে শেষ বিদায়

চা-বাগান ও পর্যটন উন্নয়নে সমন্বিত মাস্টার প্ল্যান এবং সীমান্ত সড়ক প্রশস্ত করার দাবি এমপি মুজিবুর চৌধুরীর

আপডেট সময় : ০৭:২৩:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় সংসদে মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী তার নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন বিষয়ক জরুরি দাবি উত্থাপন করেছেন। বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি চা-বাগান, পর্যটন, স্বাস্থ্যসেবা, সড়ক ও রেল অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

দেশের ‘চায়ের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ অঞ্চলটি পাহাড়, হাওর ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। হামহাম জলপ্রপাত, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, বাইক্কা বিলের মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলো দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করে। এই বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে একটি সমন্বিত পর্যটন মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের উপর জোর দেন এমপি মুজিবুর চৌধুরী। তিনি বলেন, এই অঞ্চলে প্রায় ২৯টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে, যাদের ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। পর্যটন উন্নয়নের পাশাপাশি এই জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নেও নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি শ্রীমঙ্গল-শমশেরনগর-কমলগঞ্জ হয়ে চাতলাপুর সীমান্ত পর্যন্ত সড়কটি প্রশস্ত করার দাবি জানান। এই সড়ক উন্নয়নের মাধ্যমে আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, পুরোনো রেললাইন সংস্কার করে নিরাপদ ও আধুনিক রেল যোগাযোগ নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নেও গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের ৫০ শয্যার হাসপাতাল দুটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা এখন সময়ের দাবি। এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি আরও সহজ হবে।

চা শিল্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি শ্রীমঙ্গলের বন্ধ হয়ে যাওয়া চা নিলাম কেন্দ্রটি পুনরায় চালুর দাবি জানান। একই সঙ্গে, চা শ্রমিকদের নিম্ন মজুরি এবং তাদের জীবনমানের উন্নয়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

এমপি মুজিবুর চৌধুরী অভিযোগ করেন যে, পরিকল্পনাহীনভাবে পাহাড় কেটে রিসোর্ট নির্মাণ পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে এবং সরকারি রাজস্বও হারাচ্ছে। এছাড়াও, সরকারি ও রেলওয়ের জমি দখলের বিরুদ্ধেও তিনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।