রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের জেরে জরুরি বিভাগের সকল সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিকেলে এই ঘটনার সূত্রপাত হয় এবং এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর নিরাপত্তার দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা এই কর্মবিরতি শুরু করলে রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জরুরি বিভাগে এক ঢাবি শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে এলে তাকে একটি প্রেসক্রিপশন দেওয়া হয়। তবে, প্রেসক্রিপশনে উল্লিখিত একটি ওষুধ হাসপাতালের ভেতরে না থাকায় বাইরে থেকে কিনে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে ওই শিক্ষার্থী ওষুধটি বিভিন্ন ফার্মেসিতে খুঁজে না পেয়ে কয়েকজন সহপাঠীকে সঙ্গে নিয়ে জরুরি বিভাগে ফিরে আসেন। এ সময় ওষুধ পরিবর্তন নিয়ে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন এবং ঘটনার পর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী হাসপাতাল এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রবিউল হাসান অভিযোগ করেছেন যে, প্রেসক্রিপশনের ওষুধ না পেয়ে পরিবর্তনের অনুরোধ করলে চিকিৎসক ও কর্মচারীরা তার ওপর শারীরিকভাবে আক্রমণ করেন। তবে, চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রতিবাদ ও কর্মস্থলের নিরাপত্তার দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের সেবা বন্ধ করে দেওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা গুরুতর অসুস্থ রোগীরা বিপাকে পড়েছেন। অনেক রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায়। ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক জানিয়েছেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
রিপোর্টারের নাম 






















