ঢাকা ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

জুলাই সনদের বাস্তবায়নে বড় বাধা, খোদ আইনThe ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে কোনো সমস্যা নেই, সমস্যা হলো এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় – এমন মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মুহাম্মদ মনির।

সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) শাখা ছাত্রশিবিরের আয়োজনে ‘জুলাই চেতনা থেকে রাষ্ট্র সংস্কার: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, সংবিধান সংস্কার নিয়ে পূর্বে যে ঐকমত্য হয়েছিল, নির্বাচনের পর সরকার সেই কাঠামো পরিবর্তন করেছে।

মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, যেখানে চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে জনগণের মতামত নেওয়া হবে। এই গণভোটের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। নির্ধারিত কাঠামো অনুসারে, ১৮০ দিনের মধ্যে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ (উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ) গঠনের পরিকল্পনা ছিল। এই সময়ের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদ বিলুপ্ত হয়ে সংসদ পরবর্তী সাড়ে চার বছর দায়িত্ব পালন করবে এবং মেয়াদ শেষে ৯০ দিন আগে ক্ষমতা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে। কিন্তু নির্বাচনের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যরা শপথ গ্রহণ না করায় কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি এবং পুরো প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

শিশির মনির জানান, মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৪৭টি সংবিধান সংশ্লিষ্ট এবং ৩৭টি সংবিধানের বাইরের বিষয়। সংবিধান সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ৩০টিতে ঐকমত্য থাকলেও ১৭টিতে মতভেদ রয়েছে। অন্যদিকে, সংবিধানের বাইরের বিষয়গুলোর মধ্যে গুম প্রতিরোধ, বিচার বিভাগীয় সচিবালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য অধিকার সংশোধনসহ বিভিন্ন অধ্যাদেশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব অধ্যাদেশের অনেকগুলো সংসদে উপস্থাপন না করেই বাতিল করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। এর অংশ হিসেবে একজন ব্যক্তির দুই মেয়াদের বেশি বা মোট ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকার বিধান থাকা উচিত নয়। এতে পারিবারিক রাজনীতির বাইরে এসে সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে নেতৃত্ব তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি মত দেন যে, দলের প্রধান এবং সরকারের প্রধান একই ব্যক্তি হওয়া উচিত নয়, কারণ একজনের পক্ষে একই সঙ্গে দলীয় সভাপতি এবং সংসদের দায়িত্ব পালন করা কঠিন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বাংলাদেশি জাহাজ ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস ইরানের

জুলাই সনদের বাস্তবায়নে বড় বাধা, খোদ আইনThe ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে কোনো সমস্যা নেই, সমস্যা হলো এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় – এমন মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মুহাম্মদ মনির।

আপডেট সময় : ০৬:১৪:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) শাখা ছাত্রশিবিরের আয়োজনে ‘জুলাই চেতনা থেকে রাষ্ট্র সংস্কার: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, সংবিধান সংস্কার নিয়ে পূর্বে যে ঐকমত্য হয়েছিল, নির্বাচনের পর সরকার সেই কাঠামো পরিবর্তন করেছে।

মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, যেখানে চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে জনগণের মতামত নেওয়া হবে। এই গণভোটের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। নির্ধারিত কাঠামো অনুসারে, ১৮০ দিনের মধ্যে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ (উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ) গঠনের পরিকল্পনা ছিল। এই সময়ের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদ বিলুপ্ত হয়ে সংসদ পরবর্তী সাড়ে চার বছর দায়িত্ব পালন করবে এবং মেয়াদ শেষে ৯০ দিন আগে ক্ষমতা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে। কিন্তু নির্বাচনের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যরা শপথ গ্রহণ না করায় কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি এবং পুরো প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

শিশির মনির জানান, মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৪৭টি সংবিধান সংশ্লিষ্ট এবং ৩৭টি সংবিধানের বাইরের বিষয়। সংবিধান সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ৩০টিতে ঐকমত্য থাকলেও ১৭টিতে মতভেদ রয়েছে। অন্যদিকে, সংবিধানের বাইরের বিষয়গুলোর মধ্যে গুম প্রতিরোধ, বিচার বিভাগীয় সচিবালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য অধিকার সংশোধনসহ বিভিন্ন অধ্যাদেশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব অধ্যাদেশের অনেকগুলো সংসদে উপস্থাপন না করেই বাতিল করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। এর অংশ হিসেবে একজন ব্যক্তির দুই মেয়াদের বেশি বা মোট ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকার বিধান থাকা উচিত নয়। এতে পারিবারিক রাজনীতির বাইরে এসে সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে নেতৃত্ব তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি মত দেন যে, দলের প্রধান এবং সরকারের প্রধান একই ব্যক্তি হওয়া উচিত নয়, কারণ একজনের পক্ষে একই সঙ্গে দলীয় সভাপতি এবং সংসদের দায়িত্ব পালন করা কঠিন।