ঢাকা ০৭:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

এক মাস পর উৎপাদনে ফিরলো ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানা

প্রায় একমাস বন্ধ থাকার পর নরসিংদীর ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা পুনরায় ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু করেছে। গত সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ১০ মিনিট থেকে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়। এর আগে গত ৩১শে মার্চ বিকেল পাঁচটায় গ্যাস সংযোগ দেওয়ার পর কারখানার প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল এবং ছয় দিনের মাথায় উৎপাদন শুরু হয়।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, দেশে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে গত ৪ মার্চ থেকে তিতাস গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এর ফলে গ্যাস নির্ভর এশিয়ার অন্যতম ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ থাকায় দৈনিক প্রায় দুই হাজার আটশত মেট্রিকটন ইউরিয়া উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। প্রতিটন ইউরিয়া সার এখন বাজার দর হিসেবে ৯৬ হাজার টাকা। সেই হিসেবে কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ থাকায় দৈনিক প্রায় ১৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

কারখানা তৈরির সময় নেওয়া লোন পরিশোধ করতে গিয়ে বছরে প্রায় ১৬ থেকে ১৮শত কোটি টাকা দিতে হচ্ছে। যা কারখানার উৎপাদিত ইউরিয়া সার বিক্রি করেই পরিশোধ করা হতো। এক মাস বন্ধ থাকার ফলে ঋণ করে ঘাটতি পুরনের মাধ্যমে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে বলে জানিয়েছেন কারখানার ডেপুটি চিপ অ্যাকাউন্ট্যান্ট মো. জালাল উদ্দিন। গত ৪ মার্চ কারখানার উৎপাদন বন্ধ হওয়ার সময় কারখানার গোডাউনে মাত্র ৫৫ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার মজুদ ছিল। যা ১লা এপ্রিল এসে মজুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ব্যাগে ১৮,৯৮০ মেট্রিক টন এবং খোলা ৯,৯৬৮ মেট্রিক টন ইউরিয়া।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম পরিবেশবান্ধব ইউরিয়া সার কারখানাটি নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় অবস্থিত, যা প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় এবং ২০২৪ সালের ১১ মার্চে উৎপাদন শুরু করে। সম্পূর্ণ গ্যাসনির্ভর এই কারখানাতে দৈনিক ২ হাজার ৮শ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন। কারখানাটি গত ৪ মার্চ বিকেল ৩টা থেকে উৎপাদন বন্ধ ছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকদের বিমা সুবিধা দিতে ন্যাশনাল ব্যাংক ও ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চুক্তি

এক মাস পর উৎপাদনে ফিরলো ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানা

আপডেট সময় : ১১:৩১:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

প্রায় একমাস বন্ধ থাকার পর নরসিংদীর ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা পুনরায় ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু করেছে। গত সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ১০ মিনিট থেকে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়। এর আগে গত ৩১শে মার্চ বিকেল পাঁচটায় গ্যাস সংযোগ দেওয়ার পর কারখানার প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল এবং ছয় দিনের মাথায় উৎপাদন শুরু হয়।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, দেশে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে গত ৪ মার্চ থেকে তিতাস গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এর ফলে গ্যাস নির্ভর এশিয়ার অন্যতম ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ থাকায় দৈনিক প্রায় দুই হাজার আটশত মেট্রিকটন ইউরিয়া উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। প্রতিটন ইউরিয়া সার এখন বাজার দর হিসেবে ৯৬ হাজার টাকা। সেই হিসেবে কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ থাকায় দৈনিক প্রায় ১৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

কারখানা তৈরির সময় নেওয়া লোন পরিশোধ করতে গিয়ে বছরে প্রায় ১৬ থেকে ১৮শত কোটি টাকা দিতে হচ্ছে। যা কারখানার উৎপাদিত ইউরিয়া সার বিক্রি করেই পরিশোধ করা হতো। এক মাস বন্ধ থাকার ফলে ঋণ করে ঘাটতি পুরনের মাধ্যমে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে বলে জানিয়েছেন কারখানার ডেপুটি চিপ অ্যাকাউন্ট্যান্ট মো. জালাল উদ্দিন। গত ৪ মার্চ কারখানার উৎপাদন বন্ধ হওয়ার সময় কারখানার গোডাউনে মাত্র ৫৫ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার মজুদ ছিল। যা ১লা এপ্রিল এসে মজুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ব্যাগে ১৮,৯৮০ মেট্রিক টন এবং খোলা ৯,৯৬৮ মেট্রিক টন ইউরিয়া।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম পরিবেশবান্ধব ইউরিয়া সার কারখানাটি নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় অবস্থিত, যা প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় এবং ২০২৪ সালের ১১ মার্চে উৎপাদন শুরু করে। সম্পূর্ণ গ্যাসনির্ভর এই কারখানাতে দৈনিক ২ হাজার ৮শ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন। কারখানাটি গত ৪ মার্চ বিকেল ৩টা থেকে উৎপাদন বন্ধ ছিল।