ঢাকা ০৫:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

দৃষ্টিহীনতা জয় করে দড়ি-বাঁশ বেয়ে মসজিদে যেতেন, ১২০ বছরে চিরবিদায় নিলেন সেই মুয়াজ্জিন

নাটোরের বড়াইগ্রামে এক অনন্য জীবনসংগ্রামের অবসান ঘটেছে। দৃষ্টিশক্তি হারিয়েও দীর্ঘ দুই দশক ধরে দড়ি ও বাঁশের ওপর ভর করে মসজিদে যাতায়াত করা শতবর্ষী মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান মোল্লা আর নেই। রোববার সন্ধ্যায় ১২০ বছর বয়সে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি দুই স্ত্রী, ১৯ সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। সোমবার সকালে জানাজা শেষে তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২২ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারান আব্দুর রহমান। এর কয়েক বছর পর বড় ছেলের সহায়তায় পবিত্র হজ পালন করেন তিনি। দেশে ফিরে নিজের ৫ শতাংশ জমির ওপর একটি পাকা মসজিদ নির্মাণ করেন এবং জমিটি মসজিদের নামে ওয়াকফ করে দেন। এরপর থেকে নিজেই সেই মসজিদের মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন শুরু করেন। দৃষ্টিহীন হওয়ায় মসজিদে যাতায়াতে সমস্যা দূর করতে তার সন্তানেরা বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ২০০ মিটার রাস্তায় দড়ি ও বাঁশ টাঙিয়ে দেন। সেই দড়ি ও বাঁশ ধরে লাঠির সাহায্যে দীর্ঘ বছর ধরে নিয়মিত মসজিদে গিয়ে আজান দিতেন এই বৃদ্ধ।

তার এই অদম্য ধর্মনিষ্ঠা ও মনোবল এলাকায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সোমবার সকালে বড়দেহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় বন্দুক হামলা, গুলিতে ১ জনের মৃত্যু

দৃষ্টিহীনতা জয় করে দড়ি-বাঁশ বেয়ে মসজিদে যেতেন, ১২০ বছরে চিরবিদায় নিলেন সেই মুয়াজ্জিন

আপডেট সময় : ০৪:৩৭:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

নাটোরের বড়াইগ্রামে এক অনন্য জীবনসংগ্রামের অবসান ঘটেছে। দৃষ্টিশক্তি হারিয়েও দীর্ঘ দুই দশক ধরে দড়ি ও বাঁশের ওপর ভর করে মসজিদে যাতায়াত করা শতবর্ষী মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান মোল্লা আর নেই। রোববার সন্ধ্যায় ১২০ বছর বয়সে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি দুই স্ত্রী, ১৯ সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। সোমবার সকালে জানাজা শেষে তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২২ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারান আব্দুর রহমান। এর কয়েক বছর পর বড় ছেলের সহায়তায় পবিত্র হজ পালন করেন তিনি। দেশে ফিরে নিজের ৫ শতাংশ জমির ওপর একটি পাকা মসজিদ নির্মাণ করেন এবং জমিটি মসজিদের নামে ওয়াকফ করে দেন। এরপর থেকে নিজেই সেই মসজিদের মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন শুরু করেন। দৃষ্টিহীন হওয়ায় মসজিদে যাতায়াতে সমস্যা দূর করতে তার সন্তানেরা বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ২০০ মিটার রাস্তায় দড়ি ও বাঁশ টাঙিয়ে দেন। সেই দড়ি ও বাঁশ ধরে লাঠির সাহায্যে দীর্ঘ বছর ধরে নিয়মিত মসজিদে গিয়ে আজান দিতেন এই বৃদ্ধ।

তার এই অদম্য ধর্মনিষ্ঠা ও মনোবল এলাকায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সোমবার সকালে বড়দেহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।